অনিবন্ধিত রোহিঙ্গারা সরকারের শুমারীতে অন্তর্ভুক্ত হতে সবাই অন্তরিক

 

Cox Parisankan Pic
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
দীর্ঘদিন পরে হলেও তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গারা। ৭ ফেব্রুয়ারী রবিবার দুপুরে টেকনাফের লেদা ও শামলাপুর এলাকায় বসবাসরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভায় এমন আগ্রহের কথা তারা জানায়।
সভায় বক্তব্য রাখেন আরাকানী রোহিঙ্গা শরনার্থী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ছিদ্দিক, ক্যাম্প চেয়ারম্যান দুদু মিয়া, আব্দুল মোতালেব, নেজাম উদ্দিন, মো. সাঈদ প্রমুখ। এছাড়া আন্তর্জাতিক অভিভাসন সংস্থা (আইওএম)’র কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কক্সবাজার স্টাটিস্টিক অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান বলেন, আমরা শুমারীকে সফল ও স্বার্থক করতে সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছি। শুমারীতে অন্তর্ভুক্ত হলে উপকারীতার কথা তুলে ধরছি। এতে সবার মাঝে আগ্রহ তৈরী হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী শুরু হচ্ছে প্রাথমিক তালিকা সংগ্রহের কাজ। চলবে ১৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এই পাঁচ দিনে সংগ্রীহিত তালিকা যাচাই বাছাই করে মার্চের শেষ সপ্তাহেই চূড়ান্ত হবে শুমারীর কাজ।
রোহিঙ্গাদের প্রশ্নের জবাবে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান বলেন, শুমারী কার্যক্রম জাতিসংঘের সার্বিক তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। সকলকে শুমারীতে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। এ সময় যে যার অবস্থান থেকে সরকারের এ উদ্যোগকে সফল করার আহবান জানান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা।
সাধারণ রোহিঙ্গাদের দাবী, শুমারী পরবর্তীতে যে পরিচয়পত্র তাদের প্রদান করা হবে তাতে অবশ্যই রোহিঙ্গা জাতিসত্ত্বার পরিচয় থাকতে হবে।
আন্তর্জাতিক অভিভাসন সংস্থা (আইওএম)’র ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ মুনীর বলেন, অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শুমারী সফল করতে ব্যাপক প্রচারণা দরকার। এ জন্য আমাদের পক্ষ থেকে গণসচেতনতা তৈরীর কাজ জরা হচ্ছে। শুমারী উপলক্ষে বিভিন্ন সভায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। শুমারী শেষে সরকারের পক্ষে রোহিঙ্গাদের আলাদা পরিচয়পত্র দেয়ার সম্ভাবনা আছে।
তথ্য সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের মার্চ নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। রোহিঙ্গা শুমারি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও উপকূলীয় পটুয়াখালীতে এই শুমারি পরিচালিত হচ্ছে।
রোহিঙ্গা নাগকিরদের এদেশে অনুপ্রবেশের কারণ চিহ্নিত করতে অনিবন্ধিত নাগরিকদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি, তাদের ছবি ও দলিলাদি সংগ্রহ, বর্তমান অবস্থান, এদেশে অনুপ্রবেশের আগে মিয়ানমারের স্থায়ী বাসস্থান নিরূপণ এবং আর্থসামাজিক পরিসংখ্যানই শুমারির প্রধান লক্ষ্য। চলমান শুমারি কার্যক্রমের ফলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও এ শুমারির কারণে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউএনএইচসিআর এর মতে, কুতুপালং ও লেদা ক্যাম্পে প্রায় ৩৩ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের হিসেবে, এদের সংখ্যা ৭০ থেকে ৯০ হাজার। কুতুপালং থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা ১৮ হাজার। ওই শিবিরের কাছেই লেদা এলাকায় আছে অন্তত ২২ হাজার রোহিঙ্গা।
এদিকে আরাকানী রোহিঙ্গা শরনার্থী কল্যাণ পরিষদ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক এমনকি আন্তর্জাতিক জটিলতা অতিক্রম করছে। ‘রোহিঙ্গা’ ইস্যুটি দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকায় বাংলাদেশ সরকারও বেকায়দায়। এটির সঠিক সুরাহা প্রয়োজন। এ জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ ও আন্তরিকতা দরকার।
বাংলাদেশে অবস্থানরত আরাকানি রোহিঙ্গাদের সংগঠন ‘আরাকান রোহিঙ্গা শরণার্থী কল্যাণ পরিষদ’ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে সহায়ত ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ম কানুন মেনে চলার তাগিদ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মনোভাব সৃষ্টি, মৌলবাদ জঙ্গীবাদ অসম্প্রদায়িক উজ্জীবিত একটি নিরাপদ রোহিঙ্গা সমাজ বিনির্মাণের চেষ্টা করছে তারা।

সংবাদ প্রেরক
এ্যাডভোকেট নুরুল আমিন
সভাপতি
আরাকানী রোহিঙ্গা শরনার্থী কল্যাণ পরিষদ।
০১৮১৬৯১৫২২৬/০১৮৪৩২৬৪৪৭৫

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন