আজ সেই ভয়াল ২৯এপ্রিল

 

coxsbazar-3_1dsd

‘সেইদিনের স্মৃতি আজও উপকূলীয় মানুষের
সামনে ভেসে উঠে স্বজনহারা বেদনার শোক’

মিজবাউল হক, চকরিয়া :
আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১সালের এইদিনে কক্সবাজার সদর চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলের ৭শ ১০কিলোমিটার এলাকা জুঁেড় নেমে আসে প্রলয়ংকারী ঘূর্নিঝড়। এতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূলের কাছাকাছি শতবছরের সভ্যতা। শুধু তাই নয় মৃত্যু ঘটে হাজার হাজার মানুষের। বাদ যায়নি অসংখ্য গৃহপালিত পশু। সহায় সম্পদসহ মাথা গোজার ঠাই টুকু হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার হয়ে পড়ে নিঃস্ব। ফলে অপূরনীয় ক্ষতির শিকার হয় এ অঞ্চলের মানব সভ্যতা। ঘটনার দীর্ঘ ২৩বছর সময় অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্থরা এখনো মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি। সেই দিনের স্মৃতিতে আজও উপকূলীয় এলাকার লোকজনের সামনে ভেসে উঠে স্বজনহারা বেদনার শোক। চোখের পর্দায় ভাসে তখনকার স্মৃতির কথা। বিগত সময়ে সরকার গুলো দেশ পরিচালনা করলেও উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুকিতে বসবাসরত মানুষের মনে সুখের আলো দেখাতে পারেনি। তাদের জানমাল নিরাপত্তায় গড়ে উঠেনি উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার। বর্তমানে যে গুলো রয়েছে তা অনেকটা জরার্ঝিন। অনেক জায়গায় সাইক্লোন সেন্টার গুলো প্রভাবশালীদের দখলে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯১সালের এইদিনে প্রলংয়কারী ঘূর্নিঝড় সর্বাধিক আঘাত হানে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর উপজেলা এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাশঁখালী, সন্দ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চলের ৭শ ১০ কিলোমিটার এলাকা জুঁেড়। এতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। ক্ষতি হয় হাজার কোটি টাকার সঞ্চিত ও রক্ষিত সহায় সম্পদসহ ঘরবাড়ি। ওইসময় মরে যায় হাজার হাজার গরু, ছাগল, হাস-মুরগী। ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাধ ও গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ মাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা স্থাপনা। অপূরনীয় ক্ষতির শিকার এখানকার মানব সভ্যতা। ওইসময় কক্সবাজার জেলাসহ পুরো চট্টগ্রামে দেখা দেয় চরম হাহাকার ও দূর্ভিক্ষ। আজ সেই ভয়াল দিনের ২৩বছর সময় অতিবাহিত হলেও উপকূলীয় অঞ্চলের ৮০ লাখ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত রয়েছে।
জানা যায়, ত্রাণ ও পূর্নবাসন মন্ত্রানালয়ের তালিকা অনুযায়ী দেশের ৩৩ উপজেলাকে সাগর সংলগ্ন বিপদ সংকুলন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উপজেলা গুলোকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রমের আওতায় না নেয়ায় এ জনপদের ৭শ ১০কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকার মানুষ এখনো চরম আতঙ্ককে দিন যাপন করছে। এসব এলাকার সিংহভাগ যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তবে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ৭ লাখ মানুষের মাঝে নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছে মাতামুহুরী নদীতে নির্মিত দুটি রাবার ড্যাম। গত বছর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বৃহত্তম রাবার দু’টি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাবার ড্যাম দু’টি নির্মাণের ফলে ঝড় জলোচ্ছাস থেকে উপকুলীয় এলাকার মানুষ কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। বন্যার সময় পানি আটকিয়ে চকরিয়া ও পেকুয়ার জনপদ বড় ধরনের দূর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে। এ বাধের মাধ্যমে নদীর মিঠা পানি আটকিয়ে দু’উপজেলার কৃষকরা সেচ সুবিধা নিয়ে বারো মাস চাষাবাদ করতে পারবে। এদিকে ভয়াল ২৯এপ্রিল উপলক্ষে চকরিয়া উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে র‌্যালী ও আলোচনা সভা যথাযথভাবে পালন করবে। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সিপিবি’র চকরিয়া উপজেলা শাখার টিম লিডার নুরুল আবছার বলেন, ভয়াল ২৯এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে হাজার হাজার মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। কারণ ওইসময় গণসচেতনামুলক কিছুই ছিলো না। সামান্য কিছু থাকলেও সবার নজরে আসেনি। ফলে মানুষের পাশাপাশি হাজার হাজার গরু ছাগল মারা গেছে। এইদিনকে স্মরণ রাখতে নানান কর্মসূচী পালন করা হবে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন