ইউপি চেয়ারম্যান ভুট্টুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের পূর্ব হাসনাকাটা এলাকার বহুল আলোচিত লায়লা হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টুর বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগ পত্র) দিয়েছে তদন্তকারি কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত ওই চার্জশিট আমলে নিয়ে চেয়ারম্যানসহ অপরাপর পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
জানা গেছে, গত ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রমজানে রোজা রাখার জন্য সেহেরি খেতে উঠলে নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন ঈদগড় ইউনিয়নের পূর্ব হাছনাকাটা এলাকার কবির আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম। পরে কবির আহমদ (বর্তমানে মৃত) দাবী হয়ে ১০ জনকে এজাহার নামীয় আসামী করে রামু থানায় মামলা দায়ের করে। থানা মামলা নং- ৩২, জিআর মামলা নং-২০৯/১৩ (রামু)। পরে আটককৃত আসামীদের জবানবন্দি ও রিমান্ডের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরো ৭ জনকে আসামী করে প্রথম দফা চার্জশিট দেয় পুলিশ। কিন্তু বাদী পক্ষ সন্তুষ্ট না হওয়ায় মামলাটি পূণরায় তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পরে আদালত ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) মামলাটি পূণরায় তদন্তে দেয়। পরে দীর্ঘ তদন্তের পর পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ক্যশৈনু মার্মা স্বাক্ষী ও আটক আসামীদের পূণরায় রিমান্ডে এনে তাদের জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালিন ও বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টু এবং ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নুরুল আমিনসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সম্পূরক চার্জশিট (অভিযোগ পত্র) আদালতে দাখিল করে। সম্পূরক অভিযোগ পত্রে ইউপি চেয়রম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টু ও সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আমিনকে হত্যাকান্ডের মূলহোতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। আর তাদের নির্দেশেই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়। এর বেশকিছু প্রমাণও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আদালত ওই সম্পূরক অভিযোগ পত্র আমলে নিয়ে গত ১৩ জুলাই বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সদর আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহ ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টুসহ পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
নিহত লায়লা বেগমের ছেলে সেলিম বাহাদুর সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর প্রকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ওই চার্জশিট গ্রহণ করে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এখন আশা করবো পুলিশ পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতের কাছে সৌপর্দ করবে।
তিনি আরো জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টু শুধুমাত্র তাঁর মায়ের হত্যাকান্ডেই নয়; ভুট্টু ঈদগড়ের আলোচিত আ.লীগ নেতা মহিউদ্দিন এবং সাহাব উদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামী। তাই মামলার ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান তিনি।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন