ইয়াবা জসিমের যত সম্পদ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া []নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ছাত্র নামধারী ইয়াবা জসিমের হারামী ব্যবসায় যতসব আরামের সম্পদ অর্জন করলেন। অল্প দিনেই ইয়াবা ব্যবসা করে অঢেল সম্পদের মালিক হন। নামে বেনামে একাধিক ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে লাখ লাখ টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে পড়ালেখার অজুহাতে ইয়াবা ব্যবসা করে যেসকল সম্পদের মালিক হয়েছে তৎমধ্যে চট্টগ্রাম শহরে একাধিক দোকান পাট ঘুমধুমের বেতবুনিয়া বাজারে ২ টি দোকান, জনৈক ফকির আহমদ থেকে দেড় লক্ষ টাকায় জমি বন্ধক, পূর্ব পাড়ার আবদুল মাবুদের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকায় জমি বন্ধক, আপন মামা আবদুর রহিমের নিকট থেকে ৬০ শতক জমি ক্রয় যার বর্তমান মূল্য ১০ লক্ষাধিক টাকা, মামা ছৈয়দ আলমের নিকট থেকে ৩০ শতক জমি ক্রয় যার বর্তমান মূল্য ৫ লক্ষাধিক টাকা, ঘুমধুম পাহাড় পাড়া বাড়ি সহ ১ একর ভিটি জমি ১০ লক্ষাধিক টাকা, বেতবুনিয়া আবদুল আলিম হলুর নিকট থেকে সাড়ে ৬ লক্ষাধিক টাকার জমি ক্রয়, আপন মাতা সোনা মেহেরের নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকায় জমি বন্ধক, জলপাই তলীর জনৈক সলিম সওদাগর এর দোকান উপ-ভাড়া, নগদ বিভিন্ন ব্যবসায়ী লাখ-লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। একজন ছাত্র কিভাবে এত টাকার সম্পদ অর্জন করল তা খতিয়ে দেখা জরুরী বলে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী। স্থানীয় সূত্রে দাবী করে জসিম ও তার সহোদর ভাই সহ ১০/১২ জনের একটি ইয়াবা পাচার ও সিন্ডিকেট রয়েছে। ঐ সিন্ডিকেটে ইয়াবা সহ মাদকের বড় বড় চালান যোগান দেন জসিমের বাড়ি লাগোয়া মিয়ানমার সীমান্তের ইয়াবা মহাজন জনৈক মুন্নাইয়া। দীর্ঘ ২/৩ বছরের ইয়াবা ব্যবসায় লভ্যাংশের টাকা বাদেও মুন্নাইয়ার নিকট থেকে অন্তত অর্ধ কোটি টাকার ইয়াবা হাতিয়ে নিয়েছে বলে এলাকায় জনশ্র“তি রয়েছে। জসিম উদ্দিনের ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে ইতিপূর্বে জলপাই তললরি জয়নাল ও বাপ্পী নামক ২ যুবক গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে আসে। বর্তমানেও জসিমের ইয়াবার চালান নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ির পক্ষের পরিচিত মহেশখালীর তারেক নামের এক ব্যক্তি কুমিল্লা কারাগারে রয়েছে। নিজ এলাকার শাহ আলম ও নুরুল আলম নামক ২ সিএনজির ড্রাইভার সম্প্রতি সময়ে ইয়াবা সহ কক্সবাজার ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে। ইতিপূর্বে তুমব্র“র এক দর্জির স্ত্রী জসিম উদ্দিনের ইয়াবার চালান সহ গ্রেফতার হয়ে কৌশলে মোটা টাকার বিনিময়ে রক্ষা পায়। জসিমের নেতৃত্বে ইয়াবা সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। দিন-দিন বেপরোয়া ভাবে মরণ ঘাতক ইয়াবার চালান পাচার করাতে শংকিত হয়ে পড়েছে সচেতন সুশীল সমাজ। শহরে পড়ালেখার অজুহাত দেখিয়ে ইয়াবা কারবার করে ওই ছাত্র নামধারী ইয়াবা ব্যবসায়ী সল্প সময়ে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান। আর এলাকায় বেপরোয়া জীবনযাপন করে এলাকার সুশীল জনসাধারণকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। ইতিপূর্বে ওই ছাত্র নামধারী ইয়াবা কারবারী চট্রগ্রাম শহরে ইয়াবা সহ আটক হয়ে তথ্য গোপন করে নাম ঠিকানা ভুয়া দিয়ে জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ালেও ঠিকই ইয়াবার বড়-বড় চালান সীমান্তের ঘুমধুম থেকে অভিনব উপায়ে ঢাকা, চট্রগ্রাম, বরিশাল, গাইবান্ধা ও গোবিন্দগঞ্জে সরবরাহ করে যাচ্ছে। ওই ইয়াবা সিন্ডিকেটে ঘুমধুম, জলপাইতলী, তুমব্রু, ছাড়াও মহেশখালী -কুতুবদিয়া ও চট্রগ্রামের অন্তত ১০ /১২ জন ইয়াবা কারবারি রয়েছে। আর ওই ইয়াবা সিন্ডিকেটের প্রধান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খিজারী ঘোনার সৌদি আরব প্রবাসী ছৈয়দ আলমের ২য় পুত্র জসিম উদ্দিন। তার বাড়ি সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় ইয়াবা সহ মাদকের বড় বড় চালান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে নির্বিঘেœ গন্তব্য স্থলে সরবরাহ করে যাচ্ছে। ঐ ব্যবসায়ী জসিম বিগত ১৭/০১/২০১৫ইং তারিখ চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও থানাধীন ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ একাডেমী ভবন ২য় এর বিপরীতে বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে চান্দগাঁও থানা পুলিশের হাতে আটক হয়। এ সময় বিপুল ইয়াবার চালান আটক হলেও তার সহযোগী সহ মাত্র ২শ ইয়াবা দিয়ে মামলা রুজু করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু জসিম উদ্দিন পিতা- ছৈয়দ আলম সাং- খিজারী ঘোনা ১ নং ওয়ার্ড ঘুমধুম ইউপি, নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান প্রকৃত নাম ঠিকানা হলেও ভূঁয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। চান্দগাও থানায় আটক হওয়া মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আইয়ুব উদ্দিন বিপি নং- ৮৫১৩১৫৩১৪৮, তাকে জসিম উদ্দিনের নাম দেন সাইফুল ইসলাম (২২), পিতা- রফিকুল ইসলাম, মাতা- জোসনা আক্তার সাং- হাজির পাড়া (সিদ্দিকের বাড়ী) থানা- উখিয়া, জেলা- কক্সবাজার। ঐ সময় জসিমের হাল সাং দেখানো হয় চাইল্লাতলী, হাজি পাড়া, থানা- বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা- চট্টগ্রাম। তার সাথে আটক হওয়ায় অপর যুবক ইয়াবা ব্যবসার সহযোগী বান্দরবানের হলুদিয়ার হলেও সেও ভূঁয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে। তাতে তার নাম দেওয়া মোঃ ওসমান গণি (২০), পিতা- জহির আহমদ, মাতা- মাবিয়া খাতুন, সাং- ভাটিয়ারী (জাফর চেয়ারম্যানের বাড়ি) থানা- সীতাকুন্ড , জেলা- চট্টগ্রাম। চান্দগাঁও থানার মামলা নং- ১৮/১৫ তারিখ- ১৭/০১/২০১৫ইং, ধারা- ১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত/২০০৪) এর ১৯ (১) টেবিলের ৯ (খ)। জসিম উদ্দিন ভূঁয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে অনুমান ৩ মাস জেল খেটে জামিনে মুক্তি পায়। তার জামিনের নিযুক্ত আইনজীবি ছিলেন এডভোকেট মানিক দত্ত, জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালত, চট্টগ্রাম, রুম নং- ৫১৭, আইনজীবি এনেক্স ভবন। আদালতের জিম্মাদের জনৈক মোহাম্মদ জসিম, পিতা- রফিকুল সাং- চাইল্লাতলী, হাজি পাড়া, থানা- বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা- চট্টগ্রাম। বর্তমানে মামলাটি ৩য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত চট্টগ্রামে বিচারাধীন রয়েছে। ষ্পেশাল ট্রাইবুন্যালের মামলা নং- এসটি ৩০১১/২০১৫। তৎকালীন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসএম শহিদুল ইসলাম, চান্দগাঁও থানা, সিএমপি চট্টগ্রাম। ভূয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে ঘুমধুমের জসিম উদ্দিন কারাগার থেকে বেরিয়ে বর্তমানেও হরদম ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তার ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর জের ধরে সংবাদদাতা স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ স্টাট্যাস পোষ্ট করে। এ নিয়ে ঐ সাংবাদিক জসিম উদ্দিন সহ ৫ জন এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাত নামা আরো ৫/৬ জনের নামে উখিয়া থানায় সাধারণ ডায়ের লিপিবদ্ধ করেন। যার নং- ৭৭৬ তারিখ- ১৯/১২/২০১৬ইং। বর্তমানে জসিমের নেতৃত্বে ইয়াবা সিন্ডিকেট বিভিন্ন সময় স্থানান্তর হয়ে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করিয়া আসছে। কখনো কবি, কখনো লেখক, কখনো ছাত্র, কখনো ছাত্র নেতা বিভিন্ন ছন্দ নাম পদবী ও ঠিকানা ব্যবহার করে ঢাকা চট্টগ্রামে বড় বড় ইয়াবার চালান পাচার করছে। তৎকালীন চান্দগাঁও থানায় ইয়াবা সহ আটক হওয়ার সময় জসিম উদ্দিন উখিয়ার যে নাম ঠিকানা ব্যবহার করেছিল তার অস্থিত্ব নাই উখিয়াতে। অল্প ক’দিনেই চট্টগ্রামে দোকান পাট, ঘুমধুমে জায়গা জমি দোকান পাট, ব্যাংক ব্যালেন্স, নগদ টাকা বিনিয়োগ সহ অন্তত কোটি টাকার সম্পদ ও বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে। একজন ছাত্র কিভাবে কোটি টাকার মালিক হল? আর বৈধ ব্যবসা থাকলে সরকারকে কয় টাকা রাজস্ব ও আয়কর দিয়েছেন তা নিয়ে এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তোলেছে। ঘুমধুম তদন্ত পুলিশের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মোঃ এরশাদ উল্লাহ জানান, আমি ট্রেনিং শেষ করে শীঘ্রই যোগদান করতে যাচ্ছি। ইয়াবা ব্যবসায়ী যত বড় শক্তিশালী হউক না কেন তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হইবে। চান্দগাও থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ফাইল দেখে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আমিনুর রহমান ফরহাদ জানান, কাগজ পত্র দেখে পর্যালোচনা পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হইবে। সচেতন মহলের দাবী তার ইয়াবা ব্যবসা ও অর্জিত সম্পদের তথ্য খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা, দূর্ণীতি দমন কমিশন সহ আইন শৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঘুমধুমের সুশীল সমাজ।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন