উপবৃত্তির তালিকা থেকে হিন্দু শিক্ষার্থীদের বাদ!

 

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকায় বৈষম্য সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গৌরনদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওই তালিকা থেকে অধিকাংশ হিন্দু শিক্ষার্থীর নাম বাদ দিয়েছেন। এ ঘটনায় ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক গত বৃহস্পতিবার প্রকল্প পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫টি মাদ্রাসাসহ ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলতি বছর পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মজিবুর রহমান বলেন, প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, উপবৃত্তির তালিকায় ষষ্ঠ শ্রেণির ৩০ শতাংশ ছাত্রী ও ২০ শতাংশ ছাত্র এই সুবিধা ভোগ করবে। চলতি বছর সমাপনী পরীক্ষায় পাস করেছে ৪ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪১ জন ছাত্র ও ৭৭৩ জন ছাত্রীকে উপবৃত্তি প্রদানের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীরা বছরে দুবার জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে পাবে।
১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, চলতি বছর বিধিবহির্ভূতভাবে উপবৃত্তির তালিকা তৈরি করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়া। তিনি তালিকা থেকে হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম কেটে দিয়েছেন। তালিকা সংশোধনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম ওয়াহিদুজ্জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার টরকী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মণ্ডল ও পালরদী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রায় বলেন, তাঁরা উপবৃত্তির বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধাবীদের প্রাধান্য দিয়ে তালিকা জমা দেন। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা হিন্দু শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়া বলেন, ‘নাম কর্তনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত শিক্ষার্থীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।’
বরিশাল মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবদুল ইউনুস বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তালিকা চূড়ান্ত করেনি। স্থানীয়ভাবে তালিকা প্রণয়ন করা হয়।
সেসিপ প্রকল্পের যুগ্ম পরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. আবু ছাইদ শেখ বলেন, ‘আমি এখনো অভিযোগপত্র হাতে পাইনি, পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন