কক্সবাজারের ধবংস হওয়া পাহাড়ে সামাজিক বনায়নের মহাপরিকল্পনা – প্রধান বন সংরক্ষক

 

কক্সবাজারের ধবংস হওয়া পাহাড়কে সবুজ ও বনজ সম্পদ সম্মৃদ্ধ করতে সামাজিক বনায়নে মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩ হাজার ৫শত ৫৬ হেক্টর বন-পাহাড় জুড়ে সামাজিক বনায়ন ও দীর্ঘ মেয়াদী বনায়ন কর্মসূচী বা¯ত্মবায়ন চলছে। বনায়নের কর্মসূচীগুলো সফল হলে পর্যটন শহর কক্সবাজার সবুজ নগরে পরিণত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে উখিয়া রেঞ্জের দোছড়ি বন বিটের দীর্ঘ মেয়াদী (কোরজোন) বনায়ন পরিদর্শনকালে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ ইউনুছ আলী সাংবাদিকদের একথা বলেন। পরিদর্শন কালে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক আবদুল লতিফ মিয়া, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী কবির, উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাহ ই আলম, উখিয়া বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক সারোয়ার আলম, কক্সবাজার সদরের সহকারী বন সংরক্ষক আব্দুল হাই দেওয়ান, উপকূলীয় সহকারী বন সংরক্ষক জিএম কবির।
এ সময় চলতি অর্থ বছরে সিআরপিএআর কর্মসূচীর আওতায় ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দোছড়ি বন বিটের ৪৩ হেক্টর পাহাড়ে জাম, তেলসুল, গর্জন, মেহগনি, শাল, বহেরা, সেগুন, নিম, জারুল, আমলকি, বাটন সহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা দিয়ে বনায়নকৃত বাগান পরিদর্শনে আসা উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে সার্বিক সহযোগিতা করেন, উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমির হোসেন গজ নবী। পরিদর্শনে আসা প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ ইউনুচ আলী বনায়নের কার্যক্রম দেখে সšেত্মাষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ ইউনুচ আলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অংশীদারিত্ব মূলক সামাজিক বনায়ন পরিবেশ ভারসাম্যের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোকে আতœনির্ভরশীল করে তুলবে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছাড়া বন সম্পদ রক্ষা, বনায়ন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা বন বিভাগের একার সম্ভব নয়। তাই পাহাড়, বন, গাছ, বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্রকে বাঁচাতে সচেতন নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আলী কবির বলেন, সিআরপিএআর কর্মসূচীর আওতায় ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৪ ও ২০১৫ অর্থ বছরে ১৪শ৩৫ হেক্টর সামাজিক বনায়ন ও ৪শত ৮৮ হেক্টর জায়গায় দীর্ঘ মেয়াদী বনায়ন করা হয়েছে। অপরদিকে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে অনুরুপ ভাবে ১৬শ৩৩ হেক্টর বনভূমিতে সামাজিক বনায়ন সৃজন করা হয়েছে। সামাজিক বনায়ন (বাপার জোন) ও দীর্ঘ মেয়াদী (কোরজোন) কর্মসূচীগুলো বা¯ত্মবায়ন করছে বন বিভাগ।ddd
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন সংরক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিশাল বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চলে বনায়নের জন্য হাতে নেওয়া মহা পরিকল্পনা সফল হলে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস সহ পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে। শুধু তাই নয়, বন নির্ভরশীল ৫হাজার মানুষ বিকল্প আয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন সম্ভব হবে। –

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন