কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়ক ৪৩ কিলোমিটারের দুর্ভোগে যাত্রীরা

 


পিচ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কে। টেকনাফের পুরোনো বাসস্টেশন এলাকায় l প্রথম আলোপিচ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কে। টেকনাফের পুরোনো বাসস্টেশন এলাকায় l প্রথম আলোকক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের দৈর্ঘ্য ৮৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে উখিয়ার থাইংখালী থেকে টেকনাফ পুরোনো বাসস্টেশন পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটারে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। সংস্কার না হওয়ায় পর্যটন মৌসুমে এই সড়কে যাতায়াতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সূত্র জানায়, ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের জুন মাসে টেকনাফ থেকে থাইংখালী পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটারের সংস্কারকাজ শেষ করা হয়েছিল। ভারী বর্ষণের কারণে দেড় বছর যেতে না যেতেই সড়কের পিচঢালাই ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ পৌরসভার অংশের অবস্থা বেশি বেহাল।

কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী বাসের চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, আঞ্চলিক সড়কজুড়ে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় গাড়ি চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। কক্সবাজারের সংযোগ সড়ক লিংক রোড থেকে টেকনাফ যেতে আগের চেয়ে এখন সময় বেশি লাগছে।

টেকনাফ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হামিদা আক্তার বলেন, সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিদিন বহু কষ্টে টেকনাফ পুরোনো বাসস্টেশন এলাকা পার হতে হয়। প্রায় সময়ই দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনাফ পুরোনো বাসস্টেশন, নাইট্যংপাড়া, দমদমিয়া, লেদা, আলীখালী, মৌলভীবাজার, নয়াবাজার, মিনাবাজার, কানজরপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, উনছিপ্রাং, হোয়াইক্যং, উলুবনিয়া, পালংখালী বাজার ও থাইংখালী এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাই উঠে গেছে। অসময়ের বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ভরে আছে। গর্ত এড়াতে এঁকেবেঁকে চলছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। স্বাভাবিক গতিতে চলতে না পারায় অনেক জায়গায় যানজট তৈরি হচ্ছে।

সড়কের দুরবস্থায় ভুক্তভোগী আমির হোসেন বলেন, দুই মাস আগে টেকনাফ থেকে ট্রাকে করে চট্টগ্রামে কাঠ নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে দমদমিয়া বিজিবি চেকপোস্ট এলাকায় সড়কের গর্তে আটকে ট্রাকের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে আরেকটি ট্রাক আনিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহানোর পর কাঠ নিয়ে আবার রওনা হতে পেরেছিলেন।

হাইওয়ে শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থান গর্তে ভরে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে মেরামত করা খুবই প্রয়োজন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, এখনই দ্রুত সড়ক মেরামত না করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দুর্ভোগ বাড়বে। এ বিষয়ে তিনি সওজকে তাগাদা দিয়েছেন।

সওজ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করে সড়কটি সচল রাখা হচ্ছে। সড়কটির স্থায়ী মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন