গুলিবিদ্ধ ৯ রোহিঙ্গা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

 

রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও ৭ ও অগ্নিদদ্ধ ২ রোহিঙ্গাকে রোববার মধ্যরাতে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; ছবিটি সোমবার সকালে তোলা—মো. রাশেদ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও সাত ও অগ্নিদগ্ধ দুই রোহিঙ্গাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অগ্নিদগ্ধ নুরুল হাকিম (২৬) ও পারভেজকে (২০) চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। এরপর রাত ২টার পর একে একে আনা হয় গুলিবিদ্ধ আরও সাত রোহিঙ্গাকে। তারা হলেন—মামুনুর রশিদ (২৭), সাকের (২৭), সাদেক (২০), জাহেদ (২০), নুরুল আলম (১৫), আবুল কাসেম (২০) এবং নুরুল আমিন (২২)।

এর আগে সকালে মিয়ানমার থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসা চার রোহিঙ্গাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন—মিয়ানমারের দেবিন্না এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে জিয়াবুল (২৭), নাচিদং এলাকার হামিদ হোসেনের ছেলে মো. ইলিয়াছ (২০) এবং সাহেববাজার এলাকার নবী হোসেনের ছেলে মোবারক হোসেন (২৫) ও হোসেন আহমদের ছেলে মো. তোহা (১৬)।

আর শনিবার ভোরে চমেক হাসপাতালে আনা হয় গুলিবিদ্ধ আরও তিন রোহিঙ্গাকে। পরে একই দিন সকালে মারা যান মুছা নামের একজন; আর শামসুর ইসলাম ও মো. ইদ্রিস নামের দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও ৭ ও অগ্নিদদ্ধ ২ রোহিঙ্গাকে রোববার মধ্যরাতে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; ছবিটি সোমবার সকালে তোলা—মো. রাশেদ
সোমবার চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জহির সমকালকে বলেন, ‘প্রথমে আহতদের কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্ রোববার মধ্যরাতে তাদের চমেকে নিয়ে আসা হয়। তাদের কক্সবাজার জেলা পুলিশের পাহারায় রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, আগুনে ঝলসে যাওয়া দুজনকে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শরীরের ৫০ ভাগ পুড়ে গেছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত রাখাইনে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনাঘাঁটিতে সমন্বিত হামলা চালায় ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা’। পরে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং রোববার পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ ৯৮ জন নিহত হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এরপর থেকে নারী-শিশুসহ হাজারো রোহিঙ্গা নাফ নদী ও স্থল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে; তাদের লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের গুলি করার ঘটনাও ঘটছে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন