গুলির ক্ষতস্থানে পচন, হাত-পা হারাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

 

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৪ শতাধিক সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। গত ২৪ আগস্ট সংঘাতের পর থেকে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই মারাত্মক জখম নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ইতোমধ্যে ৫ রোহিঙ্গার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আর যারা বেঁচে আছেন, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের বেশিরভাগই বয়সে তরুণ এবং গুলিবিদ্ধ ও দগ্ধ।

রাখাইনে সংঘাতের পর এখন পর্যন্ত পালিয়ে আসা ৪১ রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাত-পাসহ শরীরের নানা জায়গায় গভীর ক্ষত নিয়ে তারা হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। কারও হাত নেই, কারও পা ভেঙ্গে গেছে।

হাসপাতালে অনেকের ক্ষতে পচন ধরেছে। জীবন বাঁচাতে কয়েকজনের পচন ধরা হাত-পা কেটে ফেলা হয়েছে।

দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নারী-পুরুষরা গভীর ক্ষত নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন চমেকে। তাদের অনেকেই যুবক।

গত শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে এখানে ভর্তি হয়েছেন ১৭ রোহিঙ্গা। নতুন ভর্তি হওয়া সবাই পুরুষ। তারা মিয়ানমারের মংডু এলাকার বাঘঘোনা ও মেরুল্লা এলাকার বাসিন্দা।

তারা হলেন- খালেদ (৩০), মুবারক (২৬), জাহাঙ্গীর (২৬), শামছুল আলম (২২), রফিক (৪০), নুরুল হাকিম (৩৫), শাকিল (১৮), নাজিম উল্লাহ (২৫), মো. হাসান (২৪), আবদুল মোতালেব (২৬), ওসমান গণি (২০), সাদ্দাম হোসেন (২২), নুর হুদা (২৮), আসমত উল্লাহ (২৩), আবু বক্কর সিদ্দিক (২৪), মনু মিয়া (৫০) ও ছাদেক (৪৪)।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক শীলব্রত বড়ুয়া পরিবর্তন ডটকমকে জানান, আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ওয়া বেশিরভাগ রোহিঙ্গা কুতুপালং থেকে এসেছেন। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি জানান, গুলির ক্ষতে পচন ধরায় অনেকের হাত-পা কেটে ফেলতে হচ্ছে। আবার অনেকেই দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বেডে মৃত্যু যন্ত্রণায় কারতাচ্ছেন।

শীলব্রত বড়ুয়া বলেন, ‘আগুনে দগ্ধরা যুবকেরা জানিয়েছেন- তারা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় সেনারা।’

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশন ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করলে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত শত শত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে এসেছেন।

অবশ্য চলতি মাসের শুরুতে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। ঘোষণা দেয় অভিযানের। এরই মধ্যে গ্রামের পর গ্রাম রোহিঙ্গাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বর্মি সেনাদের গণহত্যার বদলা নিতেই রোহিঙ্গা স্বাধীনতাকামীরা পুলিশ পোস্টে হামলা ও একটি সেনাঘাঁটিতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে।

গত বছরের অক্টোবরে রোহিঙ্গাদের ওপর এমনই এক হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের সাবেক প্রধান কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের আহ্বান জানায়।

কফি আনানের প্রতিবেদনের কয়েক ঘণ্টা পরই রোহিঙ্গাদের গ্রামে গণহত্যা শুরু করে বর্মি সেনারা।

সংঘর্ষের পর স্রোতের বেগে সীমান্তে আসছে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত। এসব এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্ত বাহিনী বিজিবির কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তারা রাতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন