নারী কৃষকদের জন্য পৌরসভা মার্কেটে দোকান বরাদ্দ ও পৃথক নারী মার্কেট স্থাপন করা হবে-এমপি ইলিয়াছ

 
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে “নারী কৃষকদের স্বীকৃতি ও অধিকার সংরক্ষনে জাতীয় প্রচারাভিযান” প্রচারাভিযান ২য় পর্যায়
চকরিয়াতে নারী কৃষকদের জন্য পৌরসভা মার্কেটে দোকান বরাদ্দ ও পৃথক নারী মার্কেট স্থাপন করা হবে-এমপি ইলিয়াছ
চকরিয়া পৌরসভা মার্কেটে নারী কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বিপণণের জন্য ২টি দোকান বরাদ্দ করা হবে। এছাড়াও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চকরিয়াতে পৃথক মাকের্ট তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হবে যেখানে শুধুমাত্র নারী উদ্যোক্তারা স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা করতে পারে। বর্তমান সরকার একটি নারী ও কৃষি বান্ধব সরকার। নারী উন্নয়নে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ পুরো বিশ্বে প্রশংসনীয় হয়েছে। কিন্তু নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া সত্যিকারের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে না। তাই নারী কৃষক, নারী উদ্যোক্তাসহ সকল পর্যায়ের নারীকে তাদের নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করা ও তাদের নেতৃত্ব বিকাশে জোর দিতে হবে। ৩১ মে ২০১৫ইং ককসবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার আইএসডিই বাংলাদেশ মিলনায়তনে স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশ এর উদ্যোগে “নারী কৃষকদের স্বীকৃতি ও অধিকার সংরক্ষনে জাতীয় প্রচারাভিযান” প্রচারাভিযান ২য় পর্যায় এ অ্যাডভোকেসি ও লবিং মিটিং এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইলিয়াছ এমপি উপরোক্ত ঘোষনা প্রদান করেন। 
 
আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং আইএসডিই চকরিয়া কার্যালয়ের কর্মসুচি ব্যবস্থাপক মোঃ গিয়াস উদ্দীন এর সঞ্চালনায়  অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশনেন চকরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ আকম গিয়াস উদ্দীন, উপজেলা নারী উদ্যোক্তা পরিষদের সভানেত্রী উম্মে কুলসুম মিনু, চকরিয়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস এম মঞ্জুর হোসেন চৌধুরী, উপজেলা এনজিও সমন্বয়ক মোহাম্মদ নোমান, আইসিডিআরবি’র প্রকল্প প্রধান শহিদুল হক, জেলা মৎস্যজীবি ফেডারেশনের সভানেত্রী আনার কলি জলদাস, নারী নেত্রী দিলরুবা এরফান, রেজুত আরা, নারী কৃষক আফরোজা বুলবুল, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের নুরী প্রমুখ। 
 
বক্তাগন বলেন কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে শস্য, গবাদি পশু, হাঁস মুরগি, সবজি চাষ, মৎস্য চাষ, বনায়ন ইত্যাদি কাজে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমান অবদান রাখলেও সামাজিক ও ধর্মীয় গোড়ামীর কারনে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় নারীর অবদানকে সামাজিক ও রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়নি। অথচ সৃস্টির আদিকাল থেকেই নারীরা কৃষির জন্য বীজ সংরক্ষন, বাড়ীর আঙ্গীনায় কৃষি কাজ করে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা বিধান করে আসছিল। অন্যদিকে কৃষক যখন তার উৎপাদিত ফসল বাড়ীতে নিয়ে আসে তার পুরো দায়িত্বই নারীর হাতে। তারপরেও নারীর কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় নারী কৃষকের অবদান মুল্যয়িত না হওয়ায় নারীরা কৃষি কার্ড পাচ্ছে না, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষি ঋন পাচ্ছে না, সরকারী খাস জমি বরাদ্দ পাচ্ছে না এমনকি নারী কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বাজারে সরাসরি বিক্রি করার কোন সুযাগ পাচ্ছে না। তাই আগামী অর্থ বছরের বাজেটে নারী কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দসহ নীতিমালা সংশোধনের দাবী জানানো হয়।
 
সভায় বক্তাগন বলেন স্বীকৃতি যে কোন মানুষকে তার কাজের অগ্রগতি জোরদারে সহায়ক। নারীরা ঘরে বাইরে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ জীবন জীবিকায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখলেও তাদের অবদানকে যথাযথ মুল্যায়ন করা হয়নি এমনকি তাদের উপার্জিত সম্পদ একসময় তার স্বামীর মালিকানায় আবার কখনও সন্তানের মালিকানায় চলে যায়। ফলে নারী কখনও স্বামীর আবার কখনও পুত্র সন্তানের। এ অবস্থার অবসানে উপার্জিত সম্পদে নারীর মালিকানা প্রতিষ্ঠা জরুরী। 
 
উল্লেখ্য কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় নারীর অবদানকে রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ে কৃষি উৎপাদনে তাদের সমমালিকানা প্রতিষ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম ও গ্রামীন জীবনযাত্রার জন্য প্রচারাভিযানের সহযোগিতায়বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশ “নারী কৃষকদের স্বীকৃতি ও অধিকার সংরক্ষনে জাতীয় প্রচারাভিযান ২য় পর্যায়” বাস্তবায়ন করছে। 
 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন