চৌদ্দ মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত টেকনাফের সিএনজি চালক মোঃ আলী

 

সিবিএন 45-1
অপহরনের চৌদ্দ মাস পেরিয়ে গেলেও হদিস মেলেনি টেকনাফের সিএনজি চালক মোহাম্মদ আলীর। গত ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী দুপুরে ঘর থেকে বের হয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া এলাকার বন্ধুর বাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বের হয়ে আর ফিরে আসেনি সে। নিখোঁজ যুবক টেকনাফ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে বসবাসকারী লালমিয়ার ছেলে । মোহাম্মদ আলী বেশ কয়েক বছর ধরে টেকনাফে সিএনজি চালিয়ে আসছিলো।

এ ব্যাপারে নিখোঁজ মোহাম্মদ আলীর পিতা লাল মিয়া মুক্তিপন দাবীসহ প্রাথমিক বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমানের ভিত্তিতে অপহরনের দু’মাস পর গত বছরের ২৬ এপ্রিল মামলা দায়ের করে। টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ঘটনার কূলকিনারা না পাওয়ায় অবশেষে মামলার তদন্তভার গেছে এখন পুলিশ ব্যুরো ইনভেষ্টিগেশন’র (পিবিআই) হাতে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত বন্ধু ওসমান গণী কাজল ও মূছাকে আটক করা হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি মোহাম্মদ আলী।

আটক মুছা স্বীকারোক্তিতে বলেন, বিয়ের কথা বলে বন্ধু কাজল এক নারীসহ একটি সিএনজি যোগে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের পার্শ্বের একটি পাহাড়ে গাছের সাথে বেধেঁ রাখে। কাজলের পরামর্শে মুছা নিজে মোহাম্মদ আলীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে পিতার সাথে মুত্তিপনের টাকা দাবী করে। এরপর এক পযার্য়ে মুছা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসে। তারপর মোহাম্মদ আলীর ভাগ্যে কি ঘটেছে সে জানে না বলে জানায়। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কে সেই রহস্যময় নারী ? যে কিনা অপহরনের সাথে জড়িত। কে সেই সিএনজি চালক, যার গাড়ী ব্যবহার করা হলো অপহরনে। এ দুজনকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য।

এ ছাড়া কাজল ও মুছার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল লিষ্ট থেকেও বের হতে পারে নিখোঁজ মোহাম্মদ আলীকে কোন পাহাড়ে বেধেঁ রেখে মুক্তিপন চাওয়া হয়েছিলো। এ ঘটনায় আরো কারা কারা জড়িত আছে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, কললিষ্ট থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়, অপহরনের দিন সন্ধ্যা হতে রাত সাড়ে ১০ টা সময় পর্যন্ত উখিয়া টিএন্ডটি টাওয়ার ও বাজার এলাকায় অপহরনকারীরা মোহাম্মদ আলীকে আটকে রাখে। এরপর তার ভাগ্যে আসলে কি ঘটেছে তা আটক কাজল ও মূছাই ভালো জানান কথা। কিন্তু মুখ খুলছে না কেউই। অপহরনের সাথে জড়িত সিএনজি চালক ও নারী সদস্যকে যদি আটক করা যায় হয়তো বের হবে তাকে মেরে লাশ গুম করা হলো নাকী এখনো জীবিত রয়েছে। এ ছাড়া আটক কাজলের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম কাজল আটক হওয়ার সাথে সাথে মুছাকে চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ ফিরে না আসতে বারন করে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সামনে এমন তথ্যও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের হাতে। তবে বিয়ষটি হোসনে আরা বার বার অশ্বীকার করে আসছে।

এ সব তথ্য বের করতে ব্যর্থ হয়েছে টেকনাফ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালামও এসআই মফিজুল। দীর্ঘ চৌদ্দ মাস পেরিয়ে গেলেও সঠিক তথ্য বের করা যায় নি। তাই এখন মামলার তদন্ত ভার গেছে পুলিশ ব্যুরো অভ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র হাতে। নতুন করে শুরু হয়েছে তদন্ত। আটক ওসমান গনি কাজককে দু’দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অপর আসামী মুছাকেও রিমান্ডের প্রার্থনা করা হয়েছে।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যাুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার জেলা এসআই প্রতুল কুমার শীল জানান, মামলার তদন্ত কাজ চলছে, গভীর ভাবে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রিমান্ডে আনা আসামীর দেওয়া তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে নিবীড় ভাবে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ভিকটিম কে উদ্ধার করা গেলে আসল রহস্য বের করা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যেই তদন্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এদিকে নিখোঁজ মোহাম্মদ আলীর মা-বাবা আশায় বুক বেধেঁ বসে আসে। কখন ফিরে আসবে তাদের আদরের সন্তান। ইতিমধ্যে সন্তানকে হারিয়ে মা নূর বেগম মৃতুশয্যায়। কেউ গেলেই হাওমাও করে কেদেঁ উঠে। শুধু কেন মিথ্যা সান্তনার বলে বুলি আওড়াতে থাকে তা নিয়ে প্রশ্নবানে জজর্রিত করে তাদেও ঘরে যাওয়া আগুন্তককে। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় থাকা মা যে কোন সময় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবেনা।

ভিকটিমের পিতা লাল মিয়া জানান , মোহাম্মদ আলীর বড় ভাই মোহাম্মদ ছাদেক ও ইয়াছিন অস্ট্রেলিয়াতে থাকে। মূলত অপহরন করার পরিকল্পনা ছিলো ছাদেককে। সে দেশে এসে বিয়ে করে চলে যায় ফের অষ্ট্রেলিয়ায়। এরপর চক্রটি ভাইকে না পেয়ে মোহাম্মদ আলীকে অপহরন করে তার মোবাইল ফোনে প্রথমে বিশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। পরে দশ লাখ টাকায় রফাদফা হলেও এতো বিকাশে টাকা পাঠানো নিয়ে বিপাকে পড়ে যায় ভিকটিম মোহাম্দ আলীর পরিবার। এরপর আর ফেরা হলো না তার।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন