জামায়াতী প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি

 

তালিকায় ইসলামী ব্যাংক, কোরাল রিফ, আল ফুয়াদ হাসপাতাল, সী-সাইড হসপিটাল, মিশন গ্রুপ, কেয়ারী ট্যুরসসহ অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম

বিশেষ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের পরিচালিত অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে আর্থিক, সেবামূলক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমিতি রয়েছে। এছাড়া তালিকায় রয়েছে সারাদেশের ৫৬১টি প্রতিষ্ঠানের নাম। একটি গোয়েন্দা সংস্থা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম জমা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে তা সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাতে এসব প্রতিষ্ঠানে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কক্সবাজারে সরকারের বিশেষ সংস্থায় কর্মরত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

images

সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারেও ইসলামী ব্যাংক, ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতাল, সী-সাইড হসপিটাল, মিশন গ্রুপ, মিশন ডেভেলপার্স, কোরাল রিফ প্লাজা, কোরাল রিফ ডেভেলপার্স, কেয়ারী ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস, সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠি, ফুলকুঁড়ি, রাবেতা ক্যাডেট স্কুল, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বেশ কয়েকটি ইন্সুরেন্স কোং সহ অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা গোপনে সংঘঠিত হয়ে অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি চালাচ্ছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। সেখানে অন্য কোন মতাদর্শের জনবল নিয়োগ করা হয় না। সূত্রটি আরো জানায়, ইতিমধ্যেই কক্সবাজারের বাজারঘাটার কোরাল রিফ প্লাজা, একটি ইন্সুরেন্স কোং, হোটেল ও হাসপাতাল সড়কের কয়েকটি স্পট থেকে গোপন বৈঠক কালে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত এসব প্রতিষ্ঠানে বসে বিভিন্ন অপকর্মের ছক কষা হয়। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকান্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও নজরদারিতে রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয়ের বিষয়ও তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশে গত ৩৮ দিনে মুক্তমনা লেখক-ব্লগারদের ওপর হামলা; প্রকাশক, প্রকৌশলী, পুলিশ সদস্য, বিদেশি নাগরিকসহ বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ড ও হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীর নাম। বিভিন্ন সময় তাদের আস্তানা থেকে হামলার আলামতও উদ্ধার করেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এমন প্রেক্ষাপটেই গোয়েন্দাদের বাড়তি নজর ছিল জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। তাই সরকারের নির্দেশে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে ৫৬১টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্imaeeeges4রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় বলে জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটাতে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী কাজ করছে। সারাদেশের জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এসব ঘটনার পরিকল্পনা ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচার ছড়ানো হয় বলে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া প্রতিবেদনের আলোকে ৫৬১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ২৯ অক্টোবর জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে পাঠানো আদেশে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবের কাছে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন নথিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নামে এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এনে তা নিজেদের সংগঠনের কাজে ব্যয় করার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনকে আর্থিক সাহায্য করার কাজে ব্যবহার করছে। একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জামায়াত-শিবিরপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে সক্রিয়। জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সমিতি থেকে সংগঠনের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি জঙ্গিদেরও অর্থায়ন করা হয়।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন