জেলেদের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে আসছে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান

 

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী[]
নাফ-নদীতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ইয়াবা আটকের কড়াকড়ি এবং ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথ হিসাবে ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারে সাগর পথকে একমাত্র নিরাপদ মনে করছেন পেশাদার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পাচারকারীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে ও তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পর্যায়ে বাঘা বাঘা ইয়াবা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা পৃথকভাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। এসব সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বসে এর নিয়ন্ত্রন করছেন। অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় মোবাইল ফোন এবং তাদের সহচর আতœীয়স্বজনের মাধ্যমে এ কালো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নাফ-নদী এবং তৎসংলগ্ম স্থানে বিজিবি এবং কোষ্টগার্ড বাহিনীর ইয়াবা ও স্বর্ণ আটক কড়াকড়ি এবং ঝুঁকি এড়াতে শীর্ষ পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পথ পরিবর্তন করে সাগর পথকে ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারে ওরা নিরাপদ মনে করছেন। যদিও নাফ-নদী বা নৌ-পথে ইয়াবার চালান বিজিবি এবং কোষ্টগার্ড বাহিনীর অভিযানে জব্দ হলেও তার চেয়ে বস্তা বস্তা ইয়াবাও স্বর্ণের চালান সাগর পথে যাচ্ছে বেশী। সূত্র আরো জানায়, দুদেশের জেলেরাই মূলতঃ ইয়াবা, স্বর্ণের চালান ও পাচারের সাথে জড়িত। সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পূর্ব সাগরের জিরো পয়েন্টে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান স্ব স্ব দেশের ছদ্ববেশী জেলেদের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে টেকনাফ সমূদ্র উপকূলের বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন মৎস্য ঘাট দিয়ে খালাস হচ্ছে। অতীতে বিজিবি, কোষ্টগার্ড ও র‌্যাবের পৃথক অভিযানে সাগর উপকূল থেকে ইয়াবার চালান জব্দ ও আটক হয়েছিল। সূত্র মতে টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ থেকে বাহারছড়া শামলাপুর পর্যন্ত সাগর উপকূলে ৯টি মৎস্যঘাট রয়েছে। এসব মৎস্য ঘাটের মধ্যে আলোচিত মৎস্য ঘাট, গোলার পাড়া, সাবরাং, খুরের মূখ, কাটাবনিয়া, মুন্ডার ডেইল, মহেশখালী পাড়া, লেঙ্গুরবিল, রাজারছড়া ও শামলাপুর মৎস্য ঘাট উল্লেখযোগ্য। জনশ্রুতি অনুযায়ী শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আলোচিত এসব মৎস্য ঘাট দিয়ে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান মিয়ানমার থেকে সাগর পথে সরাসরী জেলেদের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে পাচার হয়ে আসছে। ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান আহরিত মৎস্য জ্বাল ও বরপের আড়ালে কৌশলে চলে আসে। এর সাথে জড়িত বেশীরভাগ সাগর উপকূলীয় এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। নেপথ্যে পৃষ্টপোষকতা করছে স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক দলের নেতা নামধারী লোকেরা। সম্প্রতি টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ সাগর উপকূল সী-বীচ মহেশখালীয়াপাড়াস্থ ব্যক্তিমালিকানাধীন মৎস্য খামার থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে বাহারছড়া, শামলাপুর বরাবর সাগরে ভাসমান ইয়াবার বস্তা স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করে এবং এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছিল। যা নিয়ে সংবাদপত্রে লেখালেখি হয়। এ প্রসংগে সাগর উপকূল দিয়ে আসা ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান রোধে বিজিবি ও কোষ্টগার্ড স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কটোর নজরধারী রয়েছে। সঠিক তথ্য পেলে মাদক, ইয়াবা ও স্বর্ণ আটক অভিযানে তাৎকনিক ভূমিকা পালন করবে বলে তারা জানায়। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) মোঃ মাঈনউদ্দিন খান বলেন, যেখানে ইয়াবা মওজুদ বা পাচারের সঠিক তথ্য পেলেই উদ্ধারে পুলিশ দায়িত্বের পরিচয় দিবে। এতে কাউকে ছাড় দেয়া যাবেনা। কেননা এরা দেশ ও জাতির শত্রু। নৌ-পথে ও সাগর পথে চোরাচালান ও ইয়াবা পাচার রোধে নৌ-বাহিনীর জাহাজ নিয়োজিত রাখার দাবী উঠেছে, টেকনাফ সীমান্তের সচেতন ও সুশিল সমাজের পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে। টেকনাফ পৌর মেয়র হাজ্বী মোঃ ইসলাম বলেন, ইয়াবা এমনি আসেনা, আসে অর্থের বিনীময়ে। এটি রোধ করতে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলম বাহাদুর বলেন, ইয়াবা বেশীরভাগ হুন্ডির মাধ্যমে চলে আসে। প্রায় হুন্ডি ব্যবসায়ীদেরকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন