টেকনাফে বাস কাউন্টারের ছড়াছড়ি : যানজট নিরসনে প্রশাসন নির্বিকার

 

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী : টেকনাফ একটি পর্যটন শহর এবং রোহিঙ্গাভারে জর্জরিত। দেশ ও বিদেশে বহুল পরিচিত এই টেকনাফ। এখন পর্যটনের ভরামওসূম। টেকনাফ ষ্টেশানে যত্রতত্র স্থানে দুরপাল্লার বাস কাউন্টার এবং বাস দাড়িয়ে থাকার কারণে নিত্যদিন যানজাট লেগেই থাকে। ফলে পর্যটক, যাত্রী, রোগী, ভোক্তা, শিক্ষার্থী, সরকারী চাকরীজীবি ও পথচারীরা ভোগান্তির মধ্যে থাকে। ট্রাপিক ব্যবস্থা থাকলেও ট্রাপিক পুলিশ এনিয়ে রীতিমতো হিমশিম অবস্থায় থাকে। ষ্টেশানে একাদিকবার প্রশাসন ভ্রাম্যানমান আদালত পরিচালনা এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেও স্থায়ী কোন সুরাহা পাচ্ছেনা। এর জাতাকলে যাত্রী ও পথচারীদের ধম বন্ধ হবার মতো। জরুরী রোগীরা একারণে সহজেই হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে বেগ পাচ্ছে। অনেক সময় ডেলিভারী রোগীরা প্রসব বেদনায় ভোগে। এর পাশাপাশি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যানজটের কবলে পড়ে, আসামীদের আইনের আওতায় আনতে পারেনা। যানজাটকে পুঁজি করে ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীরা এ সুযোগকে ব্যবহার করছে। টেকনাফ হাসপাতাল থেকে অলিয়াবাদ শাপলা চত্তর পর্য্যন্ত অর্ধকিলোমিটার পর্যন্ত সকাল ও বিকালে যানজাট নামক যন্ত্রনার শিকার হয় যাত্রী ও পথচারী সকল। এসব স্থানে বেঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে, দুরপাল্লার বাস কাউন্টার। সেই সাথে রাস্তার উভয় পাশ্বে বাস, ট্রাক, বিভিন্ন ছোট বড় গাড়ী যত্রতত্র অবস্থায় দাড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে কক্সবাজারগামী বাস পার্কিং করতে গিয়ে যানজাটের রূপধারণ করে। ষ্টেশানে ভাসমান দোকান ও স্থাপনা গড়ে উঠায় রাস্তার প্রশস্থ ক্ষীন হয়ে পড়ে। ফলে একটি গাড়ী অন্যগাড়ীকে সহজেই সাইট দিতে পারেনা। পথচারী ও যাত্রীদের প্রশ্ন, ষ্টেশানের অভিভাবক কে? কার নির্দেশে এ ষ্ঠেশান চলে। এ হয়বরল অবস্থায় চলছে, টেকনাফ ষ্ঠেশান। সচেতন যাত্রীদের ভাস্যমতে ভোটের হিসাব নিকাশ করতে গিয়ে আজ এ অবস্থা চলছে। বিত্তশালী ও প্রশাসনের হর্তাকর্তারা প্রাইভেট গাড়ী নিয়ে মেরিন ড্রাইব সড়কে যাতায়াত করার কারণে ওরা এ সড়ক নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেনা। সাধারণ যাত্রী পর্যটক ও ভোক্তারা এ যন্ত্রনার শিকার হচ্ছে, প্রতিনিয়তই। প্রশাসন এ ব্যাপারে তেমন আন্তরিক নয় বিধায় এ ব্যবস্থা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যং পাড়ায় ২৩ একর জমি অধিগ্রহণ পূর্বক বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মান করে। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সালাহ উদ্দীনের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় বাস ও ট্রাকটার্মিনাল ব্যবস্থা চালু করে এবং পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি অকার্য্যকর হয়ে পড়ে এবং ফের চালু হয় টেকনাফ ষ্টেশান বাস টার্মিনাল। এর ফলে জনদুর্ভোগ এখন চরমে যাত্রী ও পথচারীদের চলছে নাভিস্বাস। পৌর ষ্টেশানটি এখন রিক্সা, থেকে শুরু করে সকল প্রকার পরিবহন ও মানবহনের দখলে। এর থেকে পরিত্রানের উপায় নাইট্যং পাড়া বাস ও ট্রাক টার্মিনাল চালু করে এ সমস্যা দুরীবিত করা। সম্প্রতি টেকনাফ উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় এ সমস্যা নিয়ে একাদিকবার উত্তাপিত হলেও বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। টেকনাফ পৌর মেয়র হাজী মোঃ ইসলাম বিষয়টি নিরমন কল্পে সকলের সমন্নিত প্রয়াস আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন