টেকনাফ-উখিয়ার যেখানে সেখানেই রোহিঙ্গা শরণার্থী

 

মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান,টেকনাফ []
টেকনাফ -উখিয়ার গ্রামে-গঞ্জে যত্রতত্র গড়ে উঠছে রোহিঙ্গা বস্তি। স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের দিয়ে পরিকল্পিভাবে এসব বস্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। বসতভিটা, পরিত্যক্ত জমি এমনকি কবরস্থানেও রোহিঙ্গা বসতি গড়ে তুলতে দেখা গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদেরও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ঝুপড়ি বাসা বাড়ি নির্মাণ করে দিতে দেখা গেছে। এদিকে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিতসহ উখিয়া টেকনাফে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থাকার পরও গ্রামে গঞ্জে বিক্ষিপ্তভাবে বস্তি গড়ে উঠায় স্থানীয়দের মাঝে এক ধরণের উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
লোকজন জানায়, সীমান্তের ইয়াবা কারবারী জনপ্রতিনিধি এবং মানবপাচারকারী চক্র নিজেদের ব্যবসা জিইয়ে রাখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে নিজস্ব উদ্যোগে অহরহ বস্তি গড়ে তুলছেন। আশংকা করা হচ্ছে, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা এসব বস্তির কারণে রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সরকার উখিয়ার কুতুপালং এবং বালূখালী এলাকায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের রাখার জন্য সরকার উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় আড়াই হাজার একর জমি নির্ধারণ করেছেন। যেখানে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয় শিবির ও যাবতীয় কিছু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গারা যেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে না পারে সে জন্য টেকনাফের রইক্ষ্যং এলাকায় বিজিবির নেতৃত্বে আপাতত একটি অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্প করা হয়েছে। তারপরও গ্রামে গঞ্জে কতিপয় লোক সুবিধা আদায়ের জন্য আশংকাজনকহারে রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে তুলছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বসতভিটা, পরিত্যক্ত জমি এমনকি কবরস্থান এলাকায় পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বাসা নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। উখিয়া-টেকনাফে অসহায় রোহিঙ্গাদের ফুসলিয়ে টাকার বিনিময়ে পরিত্যক্ত কাঁদা মাটিতেও বাসা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। পলিথিন এবং বাঁশ দিয়ে রোহিঙ্গারা কোনমত থাকার ব্যবস্থা করলেও তাদের কাছ থেকে কিন্তু ভাড়া বাবদ অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১২ বর্গফুট বা ১৫ বর্গফুটের পরিত্যক্ত কাঁদাযুক্ত জায়গা পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। নবাগত রোহিঙ্গা উপজেলার আলীখালী অস্থায়ী বস্তিতে অবস্থান করা মংডু শীলখালী এলাকার করিমুল¬াহ, বাহারছড়া এলাকার রহমত উল¬াহ, চালিপ্রাং এলাকার রিয়াজ উদ্দিন, জুমপাড়া এলাকার ছমি উল¬াহ, মো: আছেম ও কাসিমসহ অনেকে জানান, দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোক আমাদেরকে সাহায্যের নামে ঝুপড়ি বাসা দিয়ে ৫০০-১০০০ টাকা নিয়ে নিচ্ছেন। দিতে না পারলে বের করে দিচ্ছেন। সুবিধা হাসিলের জন্য রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করতে গ্রামে গঞ্জে ঐ শ্রেনীর লোক মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এসব লোকেরা নিয়ন্ত্রণে থাকা রোহিঙ্গাদের দেখিয়েই এবং এলাকার সাধারণ মানুষের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিদিন ত্রাণ সামগ্রী লুটেপুটে খাচ্ছে। আলীখালী এলাকার একাধিক লোক অভিযোগ করে বলেন, ১৯১৮সনের আরএস জরীপের ১৬০২নং খতিয়ানের ৭০২৯ দাগের এবং এমআরআর ১৭৭১ খতিয়ান, বিএস ২০৯১, ২০৯৭ খতিয়ানাদীর বিএস ১০৫৬৭ দাগের ৯০শতক কবরস্থান ও পাশের চলাচলের রাস্তা দখল নিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে তুলছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শত বছরের পুরাতন কবরস্থান যেখানে অসংখ্য মানুষের কবর থাকা সত্ত্বেও সুবিধাভোগী কিছু লোক টাকা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মেপে মেপে ঝুপড়ি ঘর করার সুযোগ করে দিচ্ছে। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ.কে.আনোয়ার সিআইপি জানান, অর্ধ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত আমার ইউনিয়নে এখন দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে। আগে থেকে এখানে দুইটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থাকায় নতুনভাবে আরো লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অবস্থান নেওয়ায় রোহিঙ্গাদের অতিরিক্ত চাপে এখানকার জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে চেনা অচেনা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এইচ.এম.ইউনুছ বাঙ্গালী জানান, টেকনাফ উখিয়ার এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে ব্যক্তি উদ্যোগে যত্রতত্র রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়ার বালুখালী এবং কুতুপালংয়ে নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামে গঞ্জে রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে তোলা এবং বাড়ী ভাড়া দেওয়ার কোন সুযোগই নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে সংশি¬ষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য এ বিষয়ে মাইকিং করতে বলা হয়েছে। এছাড়া যারা রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে তুলবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেখানে সেখানেই শরণার্থী : স্থানীয়রাও চরম সংকটে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা নেই, অধিকাংশ স্কুল কলেজ মাদ্রাসা বন্ধ, জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ, যানবাহন সংকট, ভাড়া বেশি

মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়শিবির স্থাপনের কারণে পালংখালীতে নয়টি প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ের ছয়টিই পুরোপুরি বন্ধ। বাকি তিনটিতেও পাঠদান নেই।
ভয়েও শিশুরা স্কুলে আসে না। একই অবস্থা কাসেমিয়া ও থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের। দুটি প্রতিষ্ঠানেই রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছেন। বালুখালী ও থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসাও এখন পুরোপুরি বন্ধ। শুধু এই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই নয়, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে শুরু করে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন পাঠদান বন্ধ প্রায়। দু-চারটি স্কুল-কলেজ খোলা থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে নেই পাঠদান। ছাত্র-ছাত্রীরাও ভয়ে-আতঙ্কে স্কুল-কলেজে ঠিকমতো আসে না।

এক মাস ধরে চরম দুর্ভোগে উখিয়া, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী থেকে শুরু করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বসবাসকারী স্থানীয় জনগণ। নিঃশ্বাস ফেলারও জায়গা মিলছে না তাদের। শুধু রোহিঙ্গার ছড়াছড়ি। বাসাবাড়ি, আঙিনা থেকে শুরু করে সর্বত্রই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থানে। ছেলেমেয়ে ও পরিবার নিয়ে বাইরেও বেরোনো যাচ্ছে না। যানবাহন সংকটও চরমে। প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম দুই থেকে তিন গুণ। তাও মাছ-মাংস, তরিতরকারি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারই বসে না। টেকনাফ থেকে উখিয়া পর্যন্ত মনে হয় রোহিঙ্গাদের হাট। দীর্ঘ এক মাসে হাঁপিয়ে উঠছেন স্থানীয়রা। ৫ নম্বর কুতুপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘বলতেও পারি না, সইতেও পারি না। চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী। এটা বলে বোঝানো যাবে না। বাসা থেকে শুরু করে সব জায়গাই রোহিঙ্গা। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবনে এখন নাভিশ্বাস উঠেছে। নিম্নবিত্তরা কোনো কাজেই যেতে পারছে না। এ এলাকায় সব দ্রব্যমূল্যই এখন আকাশচুম্বী। যানবাহনও পাওয়া যায় না। এখানকার প্রতিটি পরিবারই চরম ক্ষতিগ্রস্ত। ’ উখিয়া উপজেলা নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব গফুর মিয়া চৌধুরী বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, রোহিঙ্গারা আমাদের যেন কষ্ট দিতেই এসেছে। দ্রব্যমূল্যে আগুন লেগেছে। বস্তাপ্রতি চাল ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। তাও কোনো তরিতরকারি, মাছ-মাংস পাওয়া যায় না। ’

সরেজমিন কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী ঘুরে দেখা গেছে, সব বাজারেই রোহিঙ্গাদের প্রাধান্য। বাজারসংলগ্ন বাসাবাড়িতেও শরণার্থীরা অবস্থান করছেন। রাস্তাঘাট, পাহাড় কিংবা সরকারি বনভূমিতেও অবস্থান নিয়ে আছেন রোহিঙ্গারা। যানবাহনে ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা দিয়েও মিলছে না। উখিয়া বাজার থেকে টেকনাফ বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট লেগেই আছে। ২০ মিনিটের রাস্তা পারাপারে লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। পালংখালী বাজারসংলগ্ন ফাতিমা জাহান নামে এক মহিলার সঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ প্রতিদিনের। তিনি জানান, ‘আর সহ্য করতে পারছি না। এটা বলতেও পারছি না। এই পরিবেশে বাচ্চারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। স্কুলে যেতে পারছে না। কাউকে বাজারে পাঠালে কোনো কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। যাও পাওয়া যায়, অন্য এলাকার থেকে দাম দুই থেকে তিন গুণ বেশি। এটা যে কত দিন চলবে, তাও জানি না। ’ উখিয়া, কুতুপালং, টেকনাফের শামলাপুরসহ সব বাজারই এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দখলে। খাবার দোকান, কাঁচা বাজার কিংবা হোটেলে গেলেও কোনো কিছু পাওয়া যায় না। সামুদ্রিক মাছও এখন এলাকাবাসীর কাছে দুষ্প্রাপ্য। আবার ত্রাণ দিতে আসা ব্যক্তিবিশেষরাও ভোগান্তি বাড়িয়েছেন। একটি ত্রাণবাহী গাড়ি নিয়ে এলে সেখানে আরও কয়েকটি মাইক্রো নিয়ে আসছে তারা। হাটবাজারে যেখানে সেখানে ত্রাণ দিচ্ছে। অবশ্য দুই দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। গতকালও ভ্রাম্যমাণ আদালত রাস্তা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। মহাসড়কে ত্রাণ বিতরণ না করতে মাইকিংও করা হয়। এর পরও কেউ সড়কে দাঁড়িয়ে কেউ ত্রাণ বিতরণ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় উখিয়া ডিগ্রি কলেজে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নিয়েছে। সেটি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও পাঠদানে চরম সমস্যা হচ্ছে। সকাল-বিকাল পরীক্ষা নিয়েও শেষ করতে পারছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা উচ্চবিদ্যালয়েও ক্যাম্প বসিয়েছে বিজিবি। সেখানেও পাঠদান বন্ধপ্রায়। বালুখালী প্রাইমারি স্কুল, বালুখালী লতিফুন্নেসা প্রাইমারি স্কুল, রহমতের বিল প্রাইমারি স্কুল, থাইংখালী প্রাইমারি স্কুল, ফেলোকোনা প্রাইমারি স্কুল, গোড়ানিয়া প্রাইমারি স্কুল বন্ধ রয়েছে। তুমব্রু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয় দুটোই বন্ধ। এ ছাড়া বন্ধ রয়েছে বালুখালী কেজি স্কুল, থাইংখালী হলি চাইল্ড একাডেমি, বালুখালী ও থাইংখালী নুরানি মাদ্রাসা ও বালুখালী মহিলা হাফেজি মাদ্রাসা। জানা যায়, উখিয়া উপজেলায় মোট তিনটি কলেজ, ১৩টি উচ্চবিদ্যালয় ও ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মাদ্রাসা, কেজি স্কুলসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় অর্ধশত। টেকনাফেও সমসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘিরে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক প্রতিষ্ঠান পুরোপুরিভাবেই বন্ধ রয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ এ প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোদমে চালু হবে তাও অনিশ্চিত বলে জানিয়েছেন শিক্ষাসংশি¬ষ্টরা। তবে উখিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাইহানুল ইসলাম মিয়া জানান, ‘পাঠদান পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ না হলেও চরম ব্যাঘাত ঘটছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাঠদানে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে দিতে আমরা দ্রুত চেষ্টা করছি। আশা করছি, রোহিঙ্গারা বরাদ্দ থাকা ক্যাম্পগুলোয় চলে গেলে আর কোনো সমস্যাই থাকবে না। ’ উখিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক পলাশ বড়ুয়া জানান, ‘পাঠদানের সময়সূচি সব উলট-পালট হয়ে গেছে। বালুখালী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই পাঠদানে ক্ষতিগ্রস্ত। ছেলেমেয়েদের অনেকেই ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না। ’

গরমে অতিষ্ঠ রোহিঙ্গা শিবির : গতকাল তীব্র খরতাপে অতিষ্ঠ হয়ে রোহিঙ্গাদের রাস্তার ধারে গাছের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। তাঁবুগুলো ছিল বেশ গরম। অনেক ছেলেমেয়েকে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢল আসা খালগুলোয় গোসল করছে। দীর্ঘক্ষণ তারা পানিতেই অবস্থান করে। অন্যদিনের মতো ত্রাণের জন্য রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা যায় শরণার্থীদের। ত্রাণ নিয়ে আসা ব্যক্তি-উদ্যোক্তারা বিভিন্ন খোলা জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করেন। এদিকে সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় গতকালও আগুন লাগায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। কিছু কিছু এলাকায় নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দিতেও দেখা যায় সেনাবাহিনীকে।

ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত : বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলও ছিল ত্রাণ বিতরণে। বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বালুখালীর হাকিমপাড়া ও পালংখালীতে চাল, ডাল, সেমাই, ত্রিপলসহ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এর আগে সকালে কক্সবাজারের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের শুধু কিছু ত্রাণ দিয়েই সহযোগিতা করলে হবে না, মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীকে চাপ প্রয়োগেও সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যখন রোহিঙ্গাদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ মাড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে গিয়ে সে দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ’ মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘বাংলাদেশের সেনাবাহিনী অতীতেও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা করেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছে। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনেও তারা খুব শিগগির দায়িত্ব নেবে বলেও আমি মনে করি। ’ তিনি বলে, ‘শুরুতেই বিএনপির ত্রাণে সরকার বাধা দিয়েছে। এতেই বোঝা যায়, তারা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চায়। আর বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ভয়ভীতি ঢুকিয়ে দিতে চায়, নতুন করে মামলায় ফেলতে চায়। কিন্তু এর পরও বিএনপি জাতীয় স্বার্থে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে। আমরা এ ইস্যুতে কোনো রাজনীতি চাই না, চাই জাতীয় ঐক্য। ’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুন অর রশীদ, কেন্দ্রীয় নেতা লুত্ফর রহমান কাজল, জেলা সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না, বিএনপির প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা প্রকৌশলী মেসবাহউদ্দিন রাজু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন