টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের নির্মাণ কাজ কখন আরম্ভ হবে? কখন শেষ হবে?

 

10592704_678892305539602_1100350477179534002_n
আক্ষুল কালাম আজাদ,টেকনাফ।
টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের নির্মাণ কাজ কখন আরম্ভ হবে? শেষ হবে কবে? মরণফাদ থেকে বাঁচতে চাই যাত্রীসাধারণ। প্রশ্ন যোগাযোগমন্ত্রীর নিকট এলাকাবাসীর। বহু সংগ্রাম,প্রতিক্ষা, জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের সেতু ও টেকনাফ পৌর এলাকার জীপ স্টেশন হয়ে উখিয়া উপজেলা থাইংখালী পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঢাকার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিপিএল কন্ট্রাকশন টেন্ডার গ্রহণ করে কাজ শুরু করে। নির্মাণাধীন সেতুর কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে হলেও সড়কের নির্মাণ কাজ ১৫/১৬ কিলোমিটার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে গত ২/৩ মাস যাবত কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে জরাজীর্ণ সড়ক আরও মারাত্মক জরাজীর্ণ হয়ে এখন সম্পূর্ণরূপে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন, বাণিজ্য ও সীমান্ত উপশহর টেকনাফ এখন যোগাযোগের ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় দিন দিন কমে যাচ্ছে সরকারি রাজস্বের গতি। কখন সড়কের কাজ পুনরায় শুরু হবে দিনক্ষণ গুণছেন অত্র সড়কের যাত্রীসাধারণ। উল্লেখ করা যেতে পারে বাংলাদেশের অন্যান্য সড়কের চেয়ে টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা সীমান্ত উপশহর টেকনাফ দেশের দক্ষিণ দুয়ার নামে খ্যাত। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ প্রান্ত সীমান্তবর্তী শহর হিশাবে দেশী-বিদেশী পর্যটকগণ অক্টোবর হতে শুরু করে ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা এখানে ছুটে আসে। টেকনাফে রয়েছে সীমান্তবর্তী মিয়ানমার রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক নাফনদী। স্বপ্নের দ্বীপ সেন্টমার্টিনসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এ সড়ক হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে এসে জড়ো হয়ে সেন্টমার্টিনসহ টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। এর পাশাপাশি টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যে রয়েছে বিশাল বন্দর। এ বন্দর হতে প্রতিদিন আমদানি-রপ্তানি পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক এ সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। সরকার এ বন্দর দিয়ে প্রতি মাসে ১০/১৫ কোটি টাকার রাজস্ব পেয়ে থাকে। এছাড়া টেকনাফে উৎপাদিত পান, সুপারি, লবণ ও মাছ দেশের সিকিভাগ চাহিদার যোগান দিয়ে আসছে। উৎপাদিত পণ্যগুলো এ সড়ক দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে চলে যায়। অথচ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণের টেন্ডার নিয়ে অবহেলার চোখে দেখছে। তাই এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এ সড়কের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে দেখতে চাই। এ ব্যাপারে এ সড়কের যাত্রীসাধারণ ও স্থানীয় জনগণ যোগাযোগমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুতগতিতে সড়ক নির্মাণের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন