টেকনাফ ইয়াবার সম্রাজ্যে পরিনত : জড়িতরা ধরাছোয়ার বাইরে

 


নিজেস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ,
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন সংলগ্ন পৌর এলাকা পুরাতন পল্লানপাড়া ও নাইট্যং পাড়া এখন ইয়াবা সা¤্রাজ্যে পরিনত হয়েছে। একাদিক ইয়াবা সিন্ডিকেট ব্যবসার পাশাপাশি ঘরে ঘরে ইয়াবা খুচরা ব্যবসা বিস্তৃতিলাভ করছে। এ দুইটি পাড়ার অধিকাংশ যুব সমাজ ইয়াবা ব্যবসা ও সেবনে জড়িত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে অভিভাবক মহল গভীরভাবে চিন্তিত ও মর্মাহত। এমন ও অভিযোগ রয়েছে ইয়াবা আশক্ত ছেলের হাতে পিতা-মাতা প্রহ্নত হচ্ছে। বেশীরভাগ বিভিন্ন ভাড়া বাসায় ইয়াবা ব্যবসা এবং খুচরা ব্যবসার আড়ালে রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষ জড়িত থাকলেও কেন? যেন আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে ধৃত হচ্ছে না, তা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। খোজ নিয়ে জানা য়ায় নাইট্যং পাড়া এ দুইটি ওয়ার্ডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তালিকা ভূক্ত এবং জনশ্রুত অতালিকাভূক্ত শতাধীক ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী পর্দার অন্তরালে এবং রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বশিভূত করে বীরদর্পে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ দুইটি পাড়ায় আইন শৃংখলা বাহিনীর দৃশ্যমান অভিযোগ না থাকাতে এখানে ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার বিস্তৃতি লাভ করছে। ইতিপূর্বে এ ২টি পাড়ায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সাদা পোষাকদারী লোক পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে ইয়াবা ব্যবসাযীর বাড়ীতে হানা দিয়ে বেশ কয়েকজন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গাড়ীতে তুলে নেয় এবং পরে মোটা অংক নিয়ে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে ওদের আটক বাণিজ্যের কারণে ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার থামছেনা। এ দুইটি ওয়ার্ডে এমন নজীর রয়েছে ইয়াবা ব্যবসা করে রঙ্গমিস্ত্রি, ট্রাকের চালাক, রিক্সা চালক, বোটের মাঝি, রাজমিস্ত্রি, বোট মালিক সমিতির সভাপতি থেকে বর্তমানে অজস্ত্র কালোটাকার মালিক বনে গেছে। যাদের কোন দৃশ্যমান ব্যবসা বাণিজ্য বলতে নেই। হঠাৎ ৬/৭ বছরে ওরা আংগুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়েছে। এদের মধ্যে কারো কারো বাস, ট্রাক, নোহা, মাইক্রো, ফিসিংবোট ব্যবসা বাণিজ্যের আলিশান প্রতিষ্ঠানসহ বিপুল জায়গা জমির মালিক বনে গেছেন। এভাবে কালোটাকা ওরা সাদা করে ফেলেছে। এর পরও ওদের ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার থামেনী। কায়ুকখালী খাল, হেচ্ছাখাল ও নাইট্যং পাড়া সীমান্ত ওরা মিয়ানমার থেকে স্বর্ণ ও ইয়াবার চালার নিয়ে আসে। সীমান্ত রক্ষীর সাথে আতাঁত করে গভীর রাত্রে চলে স্বর্ন ও ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য। এ প্রসঙ্গে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ভাস্য “মিয়াবিবি রাজি কিয়াকরেগা কাজি” গোটা সীমান্ত জুড়ে এমন অবস্থা চলছে। মধ্যে মধ্যে লোক দেখানো ইয়াবা জব্দ হলেও এর সাথে জড়িতরা নেপথ্যে থেকেই যাচ্ছে। শুধু মাত্র আটক হচ্ছে ভাড়াটে পাচারকারীরা। যার ফলে ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার নিয়ন্ত্রন এবং থামানো যাচ্ছেনা। পুরাতন পল্লান পাড়া ও নাইট্যং পাড়া পাহাড় সংলগ্ন এলাকা বিধায় এবং এখানে ইয়াবার বস্তা ও স্বর্ণ এর সাথে জড়িত শীর্ষ ব্যবসায়ীরা সহজেই হজম হয়ে যায়। আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে সহজে ধরা পড়েনা। এছাড়া যারা ইয়াবা ব্যবসার অর্থ লেনদেনে যারা প্রতারনা এবং ইয়াবা ট্যাবলেট আর্থস্বাৎ করে তাদের ঠিকানা পাহাড়। ওদেরকে ধরে চোখবেঁধে অথবা অর্থ লালসা দেখিয়ে গভীর অরণ্যে নিয়ে মারধর করে মোবাইল ফোনে অর্থ আদায় করে। এছাড়াও রয়েছে অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ আদায়। এর আবিস্কারক মূলতঃ রোহিঙ্গা নাগরিক। এর পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী। এদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ইয়াবা ব্যবসা চলমান রয়েছে। অপরদিকে আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে রক্ষা এবং চোখ ফাঁকি দিয়ে ধর্মীয় লেবাস পড়ে এর আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ওদের এলাকায় ওরা ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পাচারকারী হিসাবে জনশ্রুত থাকলেও ওরা কিন্তু নিরাপদে। অভিযোগ উঠেছে, নাইট্যং পাড়ায় একজন রোহিঙ্গা নাগরিক স্থানীয় প্রভাবশালীর আশ্রয়ে মিয়ানমার থেকে বস্তা বস্তা ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আসে এবং পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দুরপাল্লাহ ও স্থানীয় যানবাহন এবং পণ্যবাহী ট্রাকের আড়ালে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এতে অনেকেই বিপুল কালোটাকার মালিক বনে গেছে বলে গোজব রটেছে। ওরা কালো ব্যবসা ধরে রাখতে এবং আধিপাত্য বিস্তার করতে প্রতিপক্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আটকের সহযোগীতা করছে স্থানীয় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। উদ্দেশ্য ওদের অপকর্ম ডাকা দিতে পরিস্থিতি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা। ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার রোধ এবং যুব সমাজকে বাঁচাতে স্থানীয় সচেতন অভিভাবক মহল প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন