ঢাকা হয়ে ভারতে যাচ্ছে ইয়াবা, আসছে অস্ত্র-ফেনসিডিল

 

201503280907নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতে ইলিশ দিয়ে ফেনসিডিল আনার মতো বিনিময় বাণিজ্য প্রচলিত আছে অনেক আগে থেকেই। এখন মায়ানমার থেকে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট বাংলাদেশ হয়ে ভারতে যাচ্ছে। বিনিময়ে আসছে অস্ত্র ও ফেনসিডিলের চালান। মাদক চোরাকারবারিরা এখন এভাবেই মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা একসঙ্গে করছে। গোয়েন্দাদের তৎপরতায় এই বিনিময় বাণিজ্যের কৌশল ধরা পড়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে লক্ষাধিক পিস ইয়াবাসহ সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এটি রাজধানীতে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান। এদের চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে মাদক পাচারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমার থেকে টেকনাফ হয়ে অবৈধভাবে ইয়াবা দেশে ঢুকছে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে গত দুই মাসে দেশে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মায়ানমার থেকে এসেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবার চালানটি তারা টেকনাফ থেকে ঢাকায় আনা হয়। এটি ভারতে পাচার করে চক্রটি অস্ত্র আনতে চেয়েছিল। এরকম ইয়াবার চালান প্রায়ই দেশে আনা হয়। এর আগে বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান ভারতে পাঠিয়ে অস্ত্র এনেছে তারা। আটককৃতরা ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, এর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যোগসাজস রয়েছে। তাদের মাধ্যমে ইয়াবার চালান প্রথমে টেকনাফ ও কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রাম নেয়া হয়। এরপর ঢাকা হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে যায়। ভারতে পাঠিয়ে অস্ত্রের পাশাপাশি ফেন্সিডিল আনা হয়। আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে দেশীয় কতিপয় রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রভাবশালীদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় এই বলয় বাড়ছে। প্রতি চালানে সর্বনিম্ন এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ইয়াবা ভারতে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও টাকার বিনিময়ে তাদের সহযোগিতা করে। জানতে চাইলে ডিবি পুলিশের উপ-কিমশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার বিনিময়ে দেশে বেশ কিছু অস্ত্র আনা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসার ঢাকা, মায়ানমার, চট্টগ্রামসহ সিমান্তকেন্দ্রীক শতাধিক চক্র জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।’ এদিকে বিজিবি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৪ কোটি ২৪ লাখ ৯১ হাজার টাকার মূল্যের বিভিন্ন মাদক ও চোলাচালান পণ্য উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় লাখ ১৪ হাজার ৩১৫টি ইয়াবা এবং ৪০ হাজার ৩শ ৮১ বোতল ফেনসিডিল রয়েছে। একই সঙ্গে পিস্তল ও বন্দুকসহ ১৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যে পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র সীমান্ত ব্যবহার করে কেনা-বেচা হচ্ছে, যে অনুযায়ী উদ্ধার হচ্ছে সামান্য। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, ঢাকা থেকে উদ্ধার করা ইয়াবার বড় একটি অংশ চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার টার্গেট ইয়াবা ব্যবসায়ীদের। এক লাখ পিস উদ্ধারের আগে ঢাকা থেকে ৫৫ হাজার পিস ইয়াবা চালানসহ জুবায়ের নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে ডিবি পুলিশ। গত দেড় বছরে ৪০ হাজার, ৩৫ হাজার ও ২০ হাজার ইয়াবার তিনটি চালান উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক হাজার থেকে ১৫ হাজার পিস পর্যন্ত ইয়াবার কয়েকটি চালান উদ্ধার করে তারা। পুরান ঢাকা, ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, মিরপুর, গুলশান, উত্তরা ও মতিঝিল ও রমনা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা বেড়েছে। এসব এলাকায় মাদকের জন্য খুনোখুনিও হচ্ছে। গত ২২ মার্চ ডেমরা এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য আইয়ুব আলী ও মোহাম্মদ হোছাইনকে ১ লাখ ২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন