তিন কারণে ঝুঁকির মুখে জাহাজ চলাচল টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথ

 

টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটারের নৌপথে তিন কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এই নৌপথে বঙ্গোপসাগর অংশে সৃষ্টি হওয়া ডুবোচর, নাফ নদী অংশে বালু তোলার যন্ত্র ও ট্রলারের চলাচল এবং জাহাজগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এই ঝুঁকির প্রধান কারণ। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য গত দুই সপ্তাহে চারটি জাহাজকে জরিমানাও করেছে উপজেলা প্রশাসন।

সূত্র জানায়, বর্তমানে এ নৌপথে কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, গ্রিনলাইন-১, এসটি শহীদ সুকান্ত বাবু, এলসিটি কুতুবদিয়া, এসটি খিজির-৮, এমভি পারিজাত, এলসিটি কাজলসহ আটটি জাহাজ চলাচল করছে। এই পথের ২০ কিলোমিটার সাগরের অংশে রয়েছে অন্তত চারটি ডুবোচর। এই ডুবোচরগুলোতে ধাক্কা লেগে জাহাজের তলা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু ডুবোচরগুলোকে চিহ্নিত করতে লাইটিং বয়া কিংবা লাল নিশানা দেওয়া নেই। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এই ডুবোচরগুলোতে অন্তত চারবার পর্যটকবাহী জাহাজ আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

কেয়ারি সিন্দাবাদের চালক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বয়া না থাকায় ডুবোচরের বিপদ এড়ানোর জন্য বাধ্য হয়ে এখন তাঁরা মিয়ানমারের জলসীমা দিয়ে চলাচল করছেন।

জানতে চাইলে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সেলিম বলেন, নৌপথটিতে ডুবোচর চিহ্নিতের জন্য বয়া বসাতে জরিপের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ডুবোচরগুলো খননের জন্য মন্ত্রণালয়েও একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, এই নৌপথের ১৪ কিলোমিটারের নাফ নদী অংশে সাতটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে ১৪টি ট্রলারে (বলগেট) জলিলের দিয়ায় নেওয়া হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের ‘নাফ ট্যুরিজম পার্কের’ কাজে এ বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। নাফ নদীর জাহাজের রুটে প্রায় ডুবন্ত অবস্থায় বালি সরবরাহের ট্রলারগুলো চলাচল করায় জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর এ নৌপথে পর্যটক জাহাজ কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনের সঙ্গে বালি উত্তোলনযন্ত্রের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে এতে জাহাজে থাকা ২৭০ জন পর্যটক অক্ষত ছিলেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, জাহাজ চলাচলের সময় নাফ নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বালু ভর্তি বলগেট চলাচল না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে। এরপরও নির্দেশনা অমান্য করা হলে আইনগতব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জাহাজগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের অপরাধে গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর চারটি অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এতে জাহাজ এলসিটি কুতুবদিয়াকে ২ লাখ টাকা, এসজি খিজিরকে ১ লাখ, এমভি পারিজাতকে ৪০ হাজার ও এসটি শহীদ সুকান্ত বাবুকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঢাকার মিরপুর-২ থেকে আসা পর্যটক অলিউর রহমান বলেন, তিন বছর আগে এলসিটি কুতুবদিয়া জাহাজে তোলা হয়েছিল প্রায় ৩৫০ জন পর্যটক। আর এখন জাহাজে তোলা হয় ১ হাজার ২৪৭ জনকে। অথচ তিন বছরে ভাড়া বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।

তবে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ অস্বীকার করে কুতুবদিয়া জাহাজের ব্যবস্থাপক মো. আজিজ বলেন, তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়াও একটু বেড়েছে।

টেকনাফের ইউএনও মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক এ প্রসঙ্গে বলেন, এ নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের বিষয়টি প্রতিদিন তদারক করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের দায়ে চারটি জাহাজকে মোট ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় জাহাজগুলো থেকে অতিরিক্ত যাত্রীদেরও নামিয়ে দিয়ে টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন