ত্রাণের রাজনীতি নয় পরিত্রাণে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ দাবী এলাকাবাসীর

 

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী,11222636_1873530872871921_2214703208713529830_n
কক্সবাজারের পেকুয়ায় দফে দফে বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা তছনছ হয়ে পড়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষিখাত। প্রধান প্রধান সড়ক মুক্ত হলেও আভ্যন্তরীন রাস্তাঘাটে এখনো পানি উঠানামা আর বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে চরম অনিশ্চিয়তার মাঝে দিনাতিপাত করছেন। দেশি-বিদেশী সরকারী বেসরকারী পক্ষ থেকে ত্রাণ ও পূর্ণবাসনের আশ^াস ভুলি শোনা গেলেও তেলের মাথায় তেলের মতো চরম অনিয়ম, কারচুপি, স্বজনপ্রীতি আর দলীয় পছন্দের রাজনৈতিকায়নের ফটো সেশন ও একে অপরকে দোষারোপ প্রবনতায় সেসব তৎপরতাও পরিণত হয়েছে তামাশা আর প্রহসনে। ফলে, উপজেলার বন্যা দূর্গত লক্ষাধিক মানূষ বিপাক ভোগান্তির শিকার হয়ে অমানবেতর জিবন যাপন করে চলেছেন। এদিকে, অব্যাহত ত্রাণের রাজনীতিতে অতিষ্ট হয়ে পরিত্রাণে জরুরী ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের জোরালো দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। জানা যায়, গত ১মাসে কয়েকদফা বন্যায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা লন্ডভন্ড তছনছ হয়ে পড়েছে। এই এক মাসের দফা বন্যা আর দূর্বল ঘূর্ণিঝড় কোমনের প্রভাবে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার হয়েছে পেকুয়া জনপদ। এসময় বন্যাক্রান্ত এ উপজেলার ৭ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাটামো কার্যতঃ ভেঙ্গে পড়েছে। একই সঙ্গে এবড়োথেবড়ো হয়ে গেছে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও, প্রত্যন্ত পাড়া-মহল্লা পর্যায়ের রাস্তাঘাট। নানা ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এলাকার স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোড়া সহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্ভীর উপসনালয়, সরকারী, বেসরকারী ও স্বায়ত্বশাষিত সংস্থার অফিস, বিভিন্ন অফিস-আদালত, ভুমি অফিস, প্রকল্প বাস্তবায়ন(পিআইও), সমবায় আর সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়। থানা ভবন পানি বন্দি হয়ে থাকায় বিপাকে ছিল পুলিশের আইন-শৃংখলা রক্ষা, তদন্ত আর অন্যান্য প্রাত্যহিক যাবতীয় কার্যক্রম। বন্যা ও দূর্বল ঘূর্ণিঝড় কোমনের প্রভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অব্যাহত সরোজমিন পরিদর্শণে সরকার ও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের বরাবরে প্রেরিত পত্রাধি ও পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনায় ক্ষয়ক্ষতির নানা বিষধ বিবরনীর তথ্য চিত্রে পাওয়া উপাত্তে জানা যায়, গত ১মাসে দফায় দফায় বন্যায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপকুলীয় উপজেলার ৭ইউনিয়নে দেখা দেয় ভয়াবহ প্লাবন। আবহমান প্রাকৃতিক দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির জের ধরে চলতি বর্ষা মৌসূমের এ টানা বর্ষন, পাহাড়ি ঢল আর সাগর-নদীর জো’র পানিতে একাকার হয়ে দফায় দফায় বন্যা কবলিত হয়েছে জেলার উপজেলা পেকুয়া। এসময় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিস্তির্ণ বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টির বেশী পয়েন্টে ভাংগন ও ধ্বসের ফাটল দিয়ে লোকালয়ে অবাধে প্রবেশ করছে পানি। এতে উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানি বন্দি হয়েছে ৭ইউনিয়নের পুরো উপজেলার লোকালয়। তার মধ্যে পেকুয়া সদর, শিলখালী ইউনিয়ন পুরোপুরি, বারবাকিয়া ইউনিয়ন আংশিক। গত বুধবারে বঙ্গোপ সাগরের সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় দূর্বল ‘কোমেন’ এর প্রভাবে রাজাখালী, মগনামা আর উজানটিয়া ইউনিয়ন গুলোতে সমূদ্রের পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ৩/৪ফুট বৃদ্ধির ফলে বেড়ীবাঁধ বিলীন হয়ে লোকালয়ে অবাধে পানি প্রবেশ করেছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতের জোঁয়ারে তিন ইউনিয়নের বিস্তির্ণ বেড়ীবাধের মধ্যে উজানটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন অংশে আনুমানিক ৪০চেইন, মগনামা ইউনিয়নের কাক পাড়া এলকায় ৩চেইন, শরত ঘোনা এলাকার পশ্চিম পাশের্^ ৭চেইন ও রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়া ঘোনা, টেকঘোনা, মাতবরপাড়া ও মিয়ারপাড়া এলাকায় প্রায় ২০চেইনের অধিক স্পটে বেড়ীবাঁধ বিলীন হয়ে লোকালয়ে জোয়ারের লোনা পানি প্রবেশ করায় কয়েক হাজারেরও বেশী পরিবার পানি বন্ধে হয়ে পড়েছে। এছাড়া, তলিয়ে গেছে হাজারো লবন চাষীদের জমিয়ে রাখা উৎপাদিত লবন, ভাসিয়ে নিয়ে গেছে শত শত প্রান্তিক ঘের চাষীদের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজেক্ট, নষ্ট হয়েছে হাজারো কৃষক কৃষানীর ফসলের বীজতলা, ক্ষেতখামার। ডুবে বিনষ্ট হয়েছে শত শত ব্যবসায়ীর প্রতিষ্টানের লাখ লাখ টাকার মালামাল। পেকুয়ায় প্রথম পর্যায়ের দু’দফা বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরূপন ও পূর্নবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই গত কয়দিনের ভারি বর্ষনে ফের বন্যায় ভাসে পুরো পেকুয়া উপজেলা। এতে উপজেলার ৭ইউনিয়নের বিস্তির্ণ বেড়িবাঁধ, নদী তীর সংরক্ষণ, স্লুইচ গেইট, গ্রামীণ অবকাটামো, পরিবহন, যোগাযোগ, বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য, লবন ঘের, মৎস্য প্রজেক্ট, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা, বনায়ন, বসতি, প্রান্তিক চাষীদের ফসলী জমি, আবাদী ক্ষেত-খামার, গৃহপালিত পশু-পাখি হাজার হাজার মানূষের মাথা গোঁজার ঠাঁই বাড়িঘর বসতি সহ বিভিন্ন সহায় সম্পদ শিকার হয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির। এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা মোতাবেক সরকার ও জেলা প্রশাসন পেকুয়ায় অব্যাহত রাখেন ত্রাণ ও পূর্ণবাসন তৎপরতা। সেই সাথে সরকারী, বেসরকারী পর্যায় থেকেও দেখা গেছে ব্যাপক ত্রাণ সহায়তার তৎপরতা। আর ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি সংবাদকর্মী, প্রতিটি রাজনৈতিকদলের নেতৃস্থানীয় ও গণ্যমান্যদের উপস্থিতি, সুপারিশ মতামত প্রস্তাবে সমন্বয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যমুক্ত ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্নে সরকার, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউএনও’র নির্দ্দেশনার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিএনপি-জামাত সমর্থীত পেকুয়া সদর, শিলখালী, মগনামা, বারবাকিয়া ও টইটংয়ের চেয়ারম্যানরা তার কোন কেয়ারতো করেইনি উপরন্তু রাখডাকে দূর্গত ত্রাণ প্রত্যাশি লোকজনদের বিএনপি-জামাত বা তাদের নেতৃস্থানীয়দের তরফ থেকেই ত্রাণ বিতরনের কথার প্রচার চালানোর প্রবণতার দেখা মিলেছে বেশী। আবার রাতের আঁধারে ত্রাণের বিস্কুট পাঁচার সহ ত্রাণ নিয়ে রাজনীতি কেলেংকারীর অনেক কথাও উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। তাছাড়া, অভিযোগ উঠেছে যে, ত্রাণের বহুমুখী এসব কার্যক্রমে নয়-ছয়, ফটো সেশন আর তেলার মাথায় তেল দেয়ার রাজনীতির চর্চ্চায় সীমাবদ্ধ হওয়ায় এলাকার ২লক্ষাধিক মানূষের অনেকের ভাগ্যেই ঝুটেনি বরাদ্ধের ত্রাণ সামগ্রী। ফলে, এনিয়ে জনমনে দেখা দেয়, চাঁপা ক্ষোভ ও হতাশা। আর এসবের বিষয়াধি নিয়ে পত্র পত্রিকায় প্রকাশ ও প্রচার হয় একাধিক সচিত্র সংবাদ প্রতিবেদন। কিন্তু চোরে না শোনে না মানে ধর্মের বানীর মতোই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকর ঘটনার অবতারনা ঘঠেছে ও চলেছে। যার জের ধরে এলাকার মানূষ দাবী ও শ্লোগান তুলে স্বৌচ্ছার হয়েছে ত্রাণের রাজনীতি নয় বন্যা-দূর্যোগ মুক্তি পরিত্রানে বেড়িবাঁধের টেকসই মেরামত নির্মাণ চাই। হরিলুট-ভাগাভাগির ত্রাণ সামগ্রী নয় বিধ্বস্ত বাড়িঘর পূণনির্মাণে পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট অবকাটামোর দ্রুত সংষ্কার চাই। এদিকে, সর্বশেষ গত সোমবার রাত থেকে বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির জের ধরে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলো মুক্ত হতে শুরু করলেও আভ্যন্তরীন পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাটগুলোই এখনো রয়ে গেছে পানিতে ডুবে। যেসব এলাকার রাস্তাঘাট পানি মুক্ত হয়েছে সেসব এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন উঠছে ভেসে। নিয়মিত বিদ্যূৎ ও যান চলাচল শুরু না হওয়ায় বন্যা কবলিত পেকুয়ার মানূষের ভোগান্তির মাত্রার যেন কমতি নেই এখনো। এমন কোন রাস্তাঘাট নেই যেখানে চলতি বন্যার তান্ডবতা লাগেনি। প্রধান প্রধান সড়কের বেশ কিছু স্পটে দেখা দিয়েছে ছোট বড় বিপদজনক গর্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ধ্বস ফাটল। তাছাড়া, বন্যা কবলিত এলাকাগুলোয় অধিকাংশ স্পটে এখনো পানিতে তলিয়ে থাকায় হাজার হাজার মানূষের বাড়িঘর রয়েছে পানি বন্দি। যার কারণে আত্মীয়-স্বজন ও আশ্রয়ন কেন্দ্র ছাড়াও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী দপ্তরের ভবনে গৃহপালিত পশু-পাখি ও পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রিত হাজার হাজার দূর্গত মানূষ এখনো ফিরতে পারেনি তাদের বাড়িঘরে। ফলে, নিশ্চিত করেই বলা যায়, পেকুয়ার বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির দেখা মিললেও শেষ নেই যেন ভোগান্তির। সর্বশেষ পেকুয়ার বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজ-খবর নিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও সরকারের নির্দ্দেশে গতকাল গতকাল ৫জুলাই বুধবার বিকাল ৫টায় ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের সচিব সরোজমিন পেকুয়া পরিদর্শন সফরে আসেন। এসময় তিনি উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যা দূর্গত লোকজনদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, বিধ্বস্ত রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দর্শণ, বেড়িবাঁধের দূরাবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর সংগ্রহ সহ স্থানীয় লোকজনের সাথে কুশল মতবিনিময় করেন। এসময় সাথে ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক), চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা জাফর আলম বি.এ(অনার্স)এম.এ, ইউএনও শাহেদুল ইসলাম, পেকুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আকম সাহাবউদ্দিন ফরায়েজী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কাসেম, আওয়ামীলীগ নেতা সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম.শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ও স্থানীয় গন্যমান্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংষ্কৃতিক, পেশাজিবী ও সূশীল সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। পরে, রাত ৮টায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত সূধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে যোগদান করে পেকুয়ার বন্যা, ত্রাণ ও পূর্ণবাসন বিষয়ে মতামত গ্রহণ ও বিভিন্ন নির্দ্দেশনা মূলক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। এতে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক), চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা জাফর আলম বি.এ(অনার্স)এম.এ, ইউএনও শাহেদুল ইসলাম, পেকুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আকম সাহাবউদ্দিন ফরায়েজী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কাসেম, আওয়ামীলীগ নেতা সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম.শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, শিলখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল হোছাইন, বারবাকিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ বদিউল আলম জেহাদী, টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জেড এম মোসলেম উদ্দিন আহমদ, জাপা নেতা এসএম মাহাবুব ছিদ্দিকী ও স্থানীয় সাংবাদিক, গন্যমান্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংষ্কৃতিক, পেশাজিবী ও সূশীল সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন