দুই কণ্যা সন্তান জম্ম দেয়ায় ঘর ছাড়া নার্গিস

 

unnamed22-300cvvx199

এস.এম.আকাশ,
দুই কন্যা সন্তান জন্মদানের অপরাধে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় নার্গিস আরা হাসি(২৫) নামে এক গৃহবধুকে বাড়ি থেকে বিতারিত করে প্রবাসী স্বামী মো. শহীদুল ইসলাম(৩৪) । স্বামীর ঘর থেকে বিতারিত গৃহবধু নার্গিস দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রিত হয়ে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। নার্গিসের অপরাধ সে পরপর দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানাগেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের মৃত আব্দুল নূর আলম খলিফার মেয়ে নার্গিস আরা হাসির সাথে একই উপজেলার সূর্যমণি গ্রামের মো. আব্দুল মন্নানের সৌদি প্রবাসী ছেলে শহীদুল ইসলামের পারিবারিক সম্মতিতে ২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবর বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে সামিয়া (৩) ও নিশাত (দেড় বছর)দুই কন্যা সন্তানের জন্ম নেয়। শহীদুল ২য় সন্তান হবার আগে স্ত্রীকে অন্তঃসত্বা অবস্থায় বাবার বাড়িতে রেখে আবার সৌদি আরব চলে যায়। সৌদি আরবে যাওয়ার কিছুদিন পর শহীদুলকে নার্গিস (স্বামীর কথা অনুযায়ী) আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানায় যে তার গর্ভে আবার মেয়ে সন্তান আসছে। মেয়ে সন্তানের কথা শুনে স্বামী শহীদুল ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল ফোনে নার্গিসকে বকাঝকা করে। এক পর্য়ায় নার্গিসের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর বাবার বাড়িতে বসেই দ্বিতীয় মেয়ে নিশাতের জন্ম হয়। সিজারিয়ান অপরেশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়ে নিশাতের জন্ম হলে নার্গিস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় ক্ষিপ্ত শহীদুল দুই মেয়ের ও স্ত্রীর কোন ভরণপোষণ এবং খোঁজ খবর নেয়নি।
এরপর সৌদি থেকে শহীদুল গ্রামের বাড়িতে আসলে দুই মেয়ে সন্তানকে নিয়ে আত্মীয় স্বজনসহ নার্গিস শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় দাবি করেন। কিন্তু শহীদুল ও তার পরিবারের লোকজন ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এর প্রতিবাদ করলে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন দুর্ব্যাবহার করে নার্গিসের দুই মেয়ে শিশুসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর শহীদুল সৌদি আরব চলে যায়। নিরুপায় নার্গিস প্রতিকার চেয়ে ২০১৪ সালের সালের ২৯ জুন মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্বামী শহীদুল ইসলামসহ শ্বশুর বাড়ির পাঁচজনকে আসামী করে যৌতুক ও নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী শহীদুল দেশে ফিরে আসলে জেল হাজতে যায়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে সে বিষয়টি সামাজিক ফয়সালা করার প্রস্তাব দেয়। ওই শর্তে চলতিবছর ৭ জুলাই নার্গিস ও তার দুই মেয়ে শিশুকে শহীদুল বাড়িতে নিয়ে যায়। কয়েকদিন পর নির্দয় শহীদুল আবার মেয়ে সন্তান জন্মবার অভিযোগ তুলে স্ত্রীকে মারধর করে। বিষয়টি নার্গিস তার পরিবারের লোকজনদের জানালে গত ১৩ জুলাই নার্গিসের আত্মীয় স্বজন শহীদুলের বাড়িতে যায়। এসময় শহীদুল ও তার পরিবার আবার ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে দুর্ব্যবহার শুরু করে। এর প্রতিবাদ করলে আত্মীয় স্বজনের সামনে শহীদুল ও তার পরিবারের লোকজন মিলে নার্গিসসকে বেদম মারধর ধর করে আহত করে। এরপর শহীদুল দুই সন্তানসহ নার্গিসকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। নির্যাতনের শিকার নার্গিস দুই অবুঝ মেয়ে শিশুকে নিয়ে এক কাপড়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে এভাবেই বিতারিত হন।নিরুপায় গৃহবধু নার্গিস গত ১৭ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মঠবাড়িয়া থানায় দ্বিতীয় দফায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় স্বামী শহীদুলসহ শ্বশুর বাড়ির সাতজনকে আসামী করা হয়। নির্য়াতিত গৃহবধু নার্গিস আরা অভিযোগ করে বলেন,মামলায় অভিযুক্ত আসামীর পরিবারের লোকজন মামলা তুলে না নিলে আমি ও আমার দুই মেয়ে শিশুকে প্রাণনাশের হুমকী দিচ্ছে। এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন,এঘটনায় ভূক্তভোগী গৃহবধু থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আসামীরা আদালতে হাজিরা দিলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠায়। বিচারাধীন মামলায় আসামীরা হুমকী দিচ্ছে এমন অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন