দু’মৌসুম লোকসানের পর পর্যটন শিল্প এবার ঘুরে দাঁড়াবে টার্নওভার ১০ হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে

 

imaytutyutygesএকাত্তর ডেস্ক ॥ দুই মৌসুম মারাত্মকভাবে লোকসান দেয়ার পর এবার পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে পারে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী ৩ মাসেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যনির্ভর পর্যটন শিল্পে আসবে নবজাগরণ। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সবকটি পর্যটন শিল্প দুই বছরের লোকসান পুষিয়ে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের টানতে প্রস্তুতি নিয়েছে। অনুকূল পরিবেশের কারণে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের টার্নওভার ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। পর্যটন শিল্পে নবজাগরণের আশায় ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রস্তুতি নিয়েছে। তারাও গত দুই বছর লোকসানে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় এ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটার অপেক্ষায়। বৃহত্তর চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পোদ্যোক্তারা এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন। মন্দা কেটে উঠার আসায় বহু হোটেল- মোটেল ও এমিউজমেন্ট উদ্যোক্তারা শতকোটি টাকা বিনিয়োগও করেছেন। আশা করা হচ্ছে এ বছর দেশে বিদেশী পর্যটকের আগমনও রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। গত দুই বছর এসব পর্যটন স্পটে বিদেশী পর্যটকের আগমন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।
কক্সবাজারের শীর্ষস্থানীয় ও তারকামানের হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, গত দুই মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছিল পর্যটন শিল্প। রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে সবকটি পর্যটন জোন। মাঝে-মধ্যে দুই-একজন দেশী পর্যটকের আগমন ঘটলেও বিদেশীদের আগমন ছিল বন্ধ। বিশেষ করে কক্সবাজারের অবস্থা ছিল ত্রাহী। কিন্তু গেল বছর পুরো হোটেল পর্যটকশূন্য অবস্থায় কাটাতে হয়েছে অনেক দিন। তাদের হোটেলে ৩শ’ স্যুট এবং কক্ষে ১ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা রয়েছে। পর্যটক না থাকলেও ফিক্সড অপারেশন কস্ট (এফওসি) মেটাতে গিয়ে তাঁদের হোটেল দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। এমনকি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হোটেলের ৪০ ভাগ শেয়ার বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তিনি জানান, এমন অবস্থা কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের প্রায় হোটেলের। লোকসান সামাল দিতে না পেরে কম দামে হোটেল হাত বদলও হয়ে গেছে। গেল বছর ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অচলাবস্থা মে মাস পর্যন্ত পিক সিজনের ৪ মাসে ৯০ ভাগের বেশি পর্যটক কমে গেছে। সে সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র সারাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হয়। মৌপর বছরের শেষদিকে অর্থাৎ নতুন পর্যটন মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে জাতীয় সংসদের নির্বাচনজনিত কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে মৌসুমের প্রথম ৩ মাস পুরোপুরি অচল থাকে। দুই মৌসুমে আট মাস কেটেছে নানা অস্থিরতায়। এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পর্যটন শিল্প নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এতে মারাত্মকভাবে অর্থনৈতিক লোকসানের মুখে পড়ে কক্সবাজারের সাড়ে ৪শ’ বিভিন্ন মানের হোটেল। এসব হোটেলে দুই লক্ষাধিক পর্যটকের অবস্থানের সুযোগ রয়েছে। কক্সবাজারের মতো মূল ভূখ- বিচ্ছিন্ন কোরালদ্বীপ সেন্টমার্টিনেও পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। সেন্টমার্টিনকে ঘিরে গড়ে উঠা ৬০টি হেটেল-মোটেল-রিসোর্টের পরিণতি একই অবস্থা। পর পর দুই মৌসুম অচলাবস্থার কারণে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা লোকসান দিয়ে হতাশায় পড়েন। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যটক জাহাজ অলস বসে ছিল। অন্তত তিন হাজার পর্যটক পাড়ি দেয়ার সুযোগ ছিল এসব জাহাজে। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল বিনিয়োগকারী সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সড়কপথে যাতায়াত ব্যবস্থায় ধীরগতির কারণে অনেক বিদেশী পর্যটক কক্সবাজারে আসেন না। কারণ, যাতায়াতেই তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে হয়। এক সময় বিপুল বিদেশী পর্যটকের দেখা মিলত কক্সবাজারে। বিশেষ করে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ইউরোপ-আমেরিকার পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী থাকতেন। গত দুই বছর বিদেশী পর্যটকদের দেখা মেলেনি এখানে। এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় বহু পর্যটকের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। পূর্বের রেকর্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২ লাখ বিদেশী পর্যটক এসে থাকেন। ২০১০ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পর্যটক এসেছিলেন ২ লাখ ১৭ হাজার। তাঁদের কাছ থেকে আয় হয় ৩৯৬ কোটি টাকা। গত বছর টি-২০ ওয়ার্ল্ডকাপ টুর্নামেন্ট নিয়ে পর্যটন শিল্পে বিউটিফুল বাংলাদেশ প্রচারণা দেশ-বিদেশে আকৃষ্ট হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পর্যটন শিল্প মার খেয়েছে। এবার আশা করা হচ্ছে বিউটিফুল বাংলাদেশ প্রচারে ফল পাবে সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন