নিয়মিত ঢুকছে জোয়ারের পানি, নিম্নাঞ্চল নদীর অংশ ! ত্রাণের চাইতে পরিত্রাণই জরুরী

 

সেলিনা হোসাইন,[]Pic Pekua from EMRAN (3)
মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির ¯্রােতে মেহেরনামা অংশের বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে সৃষ্ট বন্যার পানি কমে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বেড়ীবাধের কাটা ফাড়ি ব্রীজের দক্ষিণ পাশ থেকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা পর্যন্ত মোট ১৮টি ছোট-বড় ভাঙ্গা দিয়ে জোয়ারভাটা অব্যাহত রয়েছে ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নি¤œ এলাকা সমূহে। দীর্ঘ ৯দিন ধরে পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি ঢুকে তলিয়ে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ ও সংস্কারের কোন উদ্যোগ দৃশ্যত হয়নি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ এইসব বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে মৎস ঘের ও চাষাবাদ বা বীজতলা তৈরী করা সম্ভব না। তাই এসব এলাকার উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা কাটাচ্ছেন অলস সময়। এছাড়া তাদের করার আর কিছুই নাই। সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্টান ও ব্যক্তির দেয়া ত্রাণে তারা কয়দিন খাবে ? কয়দিনই বা ত্রাণ দিবে সরকার ? এমন প্রশ্ন ভোক্তভোগীদের। তাদের ত্রাণ নয় পরিত্রাণই জরুরী।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ছিরাদিয়া গ্রামের যুবক মনির উদ্দীন। ৬জনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। মৎস ঘেরে মাছ চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু বানের পানি ঘেরের মাছের সাথে বাসিয়ে নিয়ে যায় তার ভাগ্য। তারপরেও ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশ সমূহ দিয়ে নিয়মিত জোয়ারের পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকার তার ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হতাশকন্ঠে তিনি জানান, এভাবে আর কয়দিন কাটবে ? কিছুদিন পরে হয়তো পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। তার সাথে সহমত পোষণ করে স্থানীয় অনেক মৎসচাষী একই কথা জানান।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা এলাকার কৃষক নবী হোসেনও জানান একই কথা, তারাও সঠিক সময়ে বীজতলা তৈরী ও চাষাবাদ করতে পারছেন না। ৯জনের পরিবার নিয়ে কিছুদিন পরে তারা খাবেন কি। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, আমরা তো এতদিন ত্রাণের চাল খেয়ে দিনানিপাত করিনি। তার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে উপস্থিত বেশ কয়েক স্থানীয় কৃষক বলেন, আমাদের ত্রাণের প্রয়োজন নাই, আমাদের এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা করুন। আমরা আবার ঘুরে দাড়াতে চাই। আমাদের জীবিকা আমরাই নির্বাহ করতে চাই। আমাদের ত্রাণের চাইতে পরিত্রাণই জরুরী। তারা ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ীবাঁধের খুব দ্রুত সংস্কারের জোর দাবিও জানান।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০জুন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশিদ খাঁন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কিন্তু তার পরে দৃশ্যত কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি তাদের। তবে, স্থানীয়দের উদ্যোগে বেড়িবাঁধের কিছু ছোট ভাঙ্গা অংশ মেরামত করেন। বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ সমূহের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো, বাঘগুজারা রাবারড্যামের দক্ষিণ পাশে প্রায় দুই চেইন, তার পাশে আরো ৫টি ছোট অংশ বেড়িবাধ ভেঙ্গে মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানি প্রবেশ করে। পরে, বানের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তা বের করে দেয়ার জন্যে স্থানীয়রা বেড়ীবাঁধের মগকাটার ৩টি অংশে কেটে দেয় যা পরবর্তিতে যার দৈর্ঘ্য ২০ফুট থেকে ১৫ফুটে স্থায়ী হয়, একইভাবে জালিয়াখালীতে দুটি, ছিরাদিয়ায় ৭টি, যেখানে ছিরাদিয়া মসজিদের পাশে প্রায় ৫০ফুট ভেঙ্গে গেছে, যার কারণে মসজিদটি বর্তমানে চরম ঝুকিতে আছে। এবং ছিরাদিয়া জেটিঘাটের পাশে ১টি ৪০ফুট ও আরেকটি ১৫ফুট দৈঘ্যের বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ার-ভাটা অব্যাহত রয়েছে। খাস পাড়ায় ৩টি ২০ফুট ও ১টি ২৫ফুট, নন্দীর পাড়ায় সুইচ গেইটের লগোয়া ২টি ২০থেকে ৩০ফুট অংশ ভেঙ্গে যায়। এছাড়া একইভাবে বন্যার পানি বের করে দিতে পেকুয়া সদরের শেখেরকিল্লা ঘোনা এলাকায় ৩টি ও মৌলভী পাড়ায় ১টি কেটে দেয়া বেড়ীবাধের অংশ।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশিদ খাঁন ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ব্যাপক ভাঙ্গন হলেও গত ৯দিনের মধ্যে তাদের কেউ কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি। তবে, এ পরিস্থিতি সমাধানে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, দ্রুত বেড়িবাধের সংস্কার করা না হলে পুরো পেকুয়া ইউনিয়নে চাষাবাদ অনিশ্চিত। এমনি ধানের বীজতলা তৈরীর সময় পার হয়ে গেছে। অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারভাটা বন্ধ না হলে বর্ষা মৌসুমের চাষাবাদ হবে না উল্ল্যেখ করে তিনি আরো বলেন অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারভাটা বন্ধ করা আশু সমাধান প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে পাউবোর বেড়িবাঁধের অবস্থা চরম ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পরেও চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বে কোন প্রকার সংস্কার করেনি কতৃপক্ষ। পাউবোর সম্পূর্ণ অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে পেকুয়া ইউনিয়নের পূর্বদক্ষিণের মাতামুহুরী নদী ও দক্ষিণ পশ্চিমাংশের বঙ্গোপসাগরের পানি থেকে পেকুয়াকে রক্ষা করা দূরহ হয়ে দাড়িয়েছে।

শিলখালীতে জি.আর বরাদ্ধের ত্রানের চাল বিতরণ
সেলীনা হোসাইন, পেকুয়া ঃ
পেকুয়া উপজেলার শিলখালীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র ও বন্যাক্রান্ত পরিবারের মাঝে জি.আর ত্রানের চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার(৪জুন) সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়নের ৯ওয়ার্ডের ৬শতাধিক পরিবারের মাঝে সরকারী এ সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল হোসাইন, উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত টেক অফিসার মোঃ জাহাঙ্গির আলম, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ নুরুল আলম এম.ইউ.পি, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য হামিদা বেগম এমইউপি, খালেদা বেগম এমইউপি ও মর্জিনা বেগম এমইউপি, লুৎফুর রহমান এমইউপি, জাহিরুল ইসলাম জাহেদ এমইউপি, জামাল উদ্দিন এমইউপি, মোস্তাক আহমদ এমইউপি, জাফর আহমদ এমইউপি, আবুল কালাম এমইউপি, আবদুস ছামাদ এমইউপি, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা বশির আহমদ, শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন আহমদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা যথাক্রমে এম.বাহাদুল করিম, কালু বাবুর্চি, নাছির উদ্দিন সওদাগর প্রমুখ। ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ৬শতাধিক পরিবারের মাঝে সরকারীভাবে বরাদ্ধকৃত জি.আর প্রজেক্টের ত্রানের চাল দেয়া হয়েছে।

পেকুয়ায় জুন মাসের পুলিশি অভিযানে চোলাই মদ-গাঁজা উদ্ধার, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অর্ধশতাধিক ওয়ারেন্ট
সেলীনা হোসাইন, পেকুয়া ঃ
পেকুয়ায় চলতি বছরের গত জুন মাসের পুলিশি অভিযানে চোলাই মদ-গাঁজা উদ্ধার, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ছাড়াও প্রায় অর্ধশতাধিক ওয়ারেন্ট তামিল করেছে পুলিশ। ফলে, জনমনে স্বস্তি সন্তোষ ছাড়াও সাধারণ মানূষ পেকুয়া থানা পুলিশকে জানিয়েছে সাধুবাদ।
জানা গেছে, পবিত্র রমজান মাসে উপজেলার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে সম্প্রতি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে পেকুয়া থানা পুলিশ। এসময় নিয়মিত টহলাভিযানের পাশাপাশি মজুতদারী, ওজনে কারচুপি ও ভেজাল পণ্যের বিকিকিনী প্রতিরোধ এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানী, যানজটসহ জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারী সহ তাৎক্ষনিক এ্যাকশান মুভ অবস্থান নেয় পেকুয়া থানা পুলিশ। যার ফলে, পৃথক পৃথক অভিযানে উপজেলার একাধিক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছাড়াও প্রায় অর্ধশতাধিক পলাতক মামলার আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় জি.আর মামলায় ৩৩জন, সি.আর মামলায় ১৭জন, নিয়মিত মামলায় ১১জন, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ২জন, জুয়াড়ী ও ফৌজদারী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার দায়ে ৫জন আসামীকে আটক করে পুলিশ।
পেকুয়া থানার তথ্য জনসংযোগ বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল মোঃ হাসানের সরবরাহকৃত তথ্য উপাত্ত সূত্রের বরাত দিয়ে আরো জানা গেছে যে, জুন মাসের অভিযান চলাকালে পুলিশ ৬লিটার চোলাই বাংলা মদ ও আড়াইশ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেন। এছাড়া, অপহৃত কিশোরী উদ্ধার ও তার সাথে সংশ্লিষ্টতার দায়ে ১আসামীকেও পুলিশ আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে। তাছাড়া, টইটংয়ের আতংক ও আলোচিত বোরখা বাহিনীর অন্যতম হোতা যুবদল নেতা মোঃ শাহদাত হোসাইন, টইটংয়ে আ’লীগ নেতা জাহেদ চৌধুরীর প্রাণনাশ চেষ্টা, মা-মেয়েকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন সহ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মামলায় সংশ্লিষ্টতার দায়ে আবদুল জলিল, অস্ত্র ও পুলিশ এসল্ট মামলায় জড়িত থাকার দায়ে উপজেলার বারবাকিয়া এলাকা থেকে রিদুয়ান নামের এক আসামীকে আটক করে পুলিশ।
পেকুয়া থানার ওসি মোঃ আবদুর রকিব পুলিশের এ সাফল্যজনক তৎপরতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পেকুয়ার মাটি ও মানুষকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ সব সময় সর্বোচ্চ সতর্কবস্থানে থাকবে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন