পরকীয়ার টানে প্রেমিকের হাত ধরে…

 
চট্টগ্রাম : ওমান প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে ২৫ বছরের রুবেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক সন্তানের জননী খালেদা আক্তারের (২৩)। মোবাইল ফোনের প্রেম এক সময় রূপ নেয় শারিরীক সম্পর্কে। আর এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই প্রবাসী স্বামী দেশে ফেরার পর দিনই প্রেমিকের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন খালেদা আক্তার।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকির চর ইউনিয়নের দেয়ানজিঘাট এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে খালেদা আক্তার তার প্রেমিক রুবেলের হাত ধরে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন সদ্য প্রবাস ফেরত খালেদার স্বামী হামিদ উল্লাহ (৩৬)।

স্বামীর অভিযোগ, খালেদা পালিয়ে যাওয়ার সময় সাত ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং বিদেশ থেকে নিয়ে আসা নানা মূল্যবান জিনিসপত্রও নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় রাউজান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বামী হামিদ উল্লাহ।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে হামিদ উল্লাহ জানান, ২০০৭ সালে খালেদার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সুখের সংসারে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ছেলেটির নাম রাখা হয় তানিম উল্লাহ। এর পর জীবনের তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে পাড়ি জমান হামিদ উল্লাহ। শ্বশুর বাড়িতে খালেদার নানা প্রকার অসুবিধা হচ্ছে বলে প্রবাসে থাকা স্বামীকে বারবার জানাতে থাকে খালেদা। পরে এক সময় নিজের বাড়ি ফেলে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের দেয়ানজির ঘাটের কাছে জনৈক হাজী জাফরের বাড়িতে একাকি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে হামিদ উল্লাহর স্ত্রী-পুত্র।

বাধাহীন একাকী বাসায় বসবাস এবং দীর্ঘ সময় স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাঁশখালী উপজেলার জলদি ইউনিয়নের জনৈক আবদুল সালামের ছেলে রুবেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে খালেদার। এক সময় এই সম্পর্ক শারিরীক সম্পর্কে রূপ নেয়। প্রবাসে থাকাকালীন স্ত্রীর এই পরকীয়া প্রেমের কথা জানতে পেরে নানাভাবে স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন হামিদ উল্লাহ। কিন্তু স্ত্রীকে পরকীয়া প্রেম থেকে নিবৃত করতে না পেরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ওমান দেকে দেশে ফিরে আসেন হামিদ।

দেশে আসার একদিন পর হামিদ উল্লাহ তার ছয় বছর বয়সী ছেরে তানিম উল্লাহকে নিয়ে বাজারে গেলে সবার অজ্ঞাতে স্বামী ও পুত্রকে ফেলে লাগেজ গুছিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান খালেদা আক্তার। রাতে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে না পেয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে হামিদ উল্লার।

বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ নানা জিনিসও তার স্ত্রী সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়ার পর এই ঘটনায় রাউজান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন হামিদ উল্লাহ। এই ঘটনায় সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছয় বছর বয়সী সন্তান ফেলে পরকীয়া করে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা এলাকায় মুখরোচক কাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন