পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তির্ণ আমন ক্ষেত-কৃষকের মাথায় হাত

 

teknaf pic-2এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী,পেকুয়া
পেকুয়ায় সদর ইউনিয়নের ছিরাদিয়া পয়েন্টে বেড়িবাঁধের ভাংগন কবলিত ৩/৪টি অংশ স্থানীয় প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ দিনেও সংষ্কারের কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় ওই স্থান দিয়ে উপজেলা লাগোয়া খরশ্রোতা মাতামুহুরী নদীর জোঁ’র পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় ফের পেকুয়ার লোকালয় জোয়ার ভাটায় প্লাবিত হয়েছে। ফলে, এলাকার হাজার হাজার পরিবারের লোকজন আবারো হয়ে পড়েছে পানি বন্দি আর নানা ভোগান্তির শিকার। এছাড়া, লোকালয়ে জোয়ার ভাটার পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় থৈ থৈ জলে ভাসছে চলতি মৌসূমের আমন চাষের জমি। এতে উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের মাথায় পড়েছে দূঃশ্চিন্তার হাত। গত দু’দিন ধরে চলতি পূর্ণিমার জোঁ’র প্রভাবে ফের উপজেলার নি¤œাঞ্চলের লোকালয়ে দেখা দেয় জোয়ার ভাটার পানি। বিষয়টির খোঁজ খবর নিতে সরোজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তে জানা গেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ের দফা দফা বন্যায় উপজেলার বিস্তির্ণ বেড়িবাঁধের কয়েকটি পয়েন্টে কবলিত হয় ভাংগনের। যার রেশ ধরে চলতি বছরের গত জুন, জুলাই ও আগষ্ট মাসে উপজেলা জুড়ে দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা। এসময় ভাংগন কবলিত বেড়িবাঁধের ভাংগা অংশগুলো দ্রুত সংষ্কারের পদক্ষেপ গ্রহনে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকায় বিদ্যমান সরকার বিরোধী সমর্থীত রাজনৈতিক মতাদর্শী জনপ্রতিনিধিদের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি আর সরকারী বেসরকারী ও দেশি-বিদেশী ত্রাণ-পূর্ণবাসন কার্যক্রম নিয়ে জমিয়ে উঠে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের সু’গভীর ষড়যন্ত্রের খেলা। স্থানীয় নেতৃত্ব আর এলাকায় বিএনপি-জামাত সমর্থীত জনপ্রতিনিধিদের টানা পোড়নের বেড়াজালে আটকে পড়া বন্যা মুক্তের ধারাবাহিকতায় বন্যার পানি নিষ্কাশনের নামে উপজেলা প্রশাসন কেটে দেয় বিস্তির্ণ বেড়িবাঁধের প্রায় ২০/২৫টি অংশ। এতে দ্রুত বন্যার পানি কমায় উজানি ঢলে ভাংগন কবলিত বেড়িবাঁধের ৪/৫টি অংশের সংষ্কার কাজ সম্পন্ন হলেও সংষ্কারহীন থেকে যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছিরাদিয়া এলাকার ৪/৫টি কেটে দেয়া বেড়িবাঁধের ভাংগা অংশ। আর এসব স্থান দিয়েই অব্যাহত থাকে পেকুয়ার লোকালয়ে জোয়ার ভাটার খেলা। আর গত ২দিন যাবত উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছিরাদিয়া এলাকার বিস্তির্ণ বেড়িবাঁধের ৪-৪টি ভাংগন কবলিত অংশ দিয়ে পাশ^বর্তী মাতামুহুরী নদীর জোঁ’র প্রভাবের পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় পেকুয়া উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের লোকালয়ে জমে উঠেছে জোয়ার ভাটার পানির হোলি খেলা। জোঁ’র প্রভাবের পানির এ হোলি খেলায় উপজেলা সদরের ছিরাদিয়া, জালিয়াখালী, বিলহাচুড়া, বাইম্মেখালী, গোঁয়াখালী, নন্দীরপাড়া, বাঘগুজারা, উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব পশ্চিম মেহেরনামা, চৈরভাংগা, সৈকপাড়া, বলিরপাড়া, আফালিয়াকাটা, টেকপাড়া, খাসপাড়া, সাবেকগুলদী, সরকারীঘোনা, তেলিয়াকাটা, হরিণাফাঁড়ি, সিকদারপাড়া, মিয়ারপাড়া, আন্নরআলী মাতবরপাড়া, মৌলভীপাড়া, শেকেরকিল্লাহঘোনা, রাহাতজানিপাড়া, সুতাবেপারীপাড়া ও তার আশপাশের নিচু এলাকা, শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা, পেঠান মাতবরপাড়া, আলী চাঁন মাতবরপাড়া, বাজারপাড়া, দোকানপাড়া, জনতা বাজার, মুন্সিমুরা, চেপ্টামুরা, হাজি¦রঘোনা ও তার আশপাশের নিচু এলাকা, বারবাকিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নিচু এলাকার পাড়া-মহল্লা, উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তার এলাকায় গতকাল পূর্নিমার জোঁ’র প্রভাবে বেড়িবাঁধের একটি অংশে ভাংগন ও বৃষ্টির পানির কারণে নিচু এলাকার পাড়া-মহল্লায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। মগনামা ইউনিয়নের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, জোঁ’র প্রভাবে তাদের গ্রামেও নিচু এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। সব মিলিয়ে গত তিন মাস ধরে পেকুয়া জুড়ে দেখা দেয়া বন্যার প্রভাব এখনো রয়েছে অব্যাহত। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুর রশিদ খান পূর্ণিমার জোঁ’র প্রভাবে উপজেলার নিচু এলাকার লোকালয়ে ফের জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন