পেকুয়ায় কয়েক দফা বন্যায় পোল্ট্রি খাতের ক্ষতির পরিমান কোটি টাকা ছাড়িয়েছে,পুঁজি সংকটে মালিকরা ॥

 

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী,পেকুয়াPEKUA PIC Beribad wzantia 23-08-15
কক্সবাজারের পেকুয়ায় কয়েক দফা বন্যায় পোল্ট্রি খাতের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে, পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পোল্ট্রি খামার মালিকরা। জানা যায়, চলতি বছরের জুন, জুলাই ও আগষ্ট মাসে পেকুয়ায় কয়েক দফা বন্যাক্রান্ত হয়। এসময় পানিতে তলিয়ে যায় উপজেলার বিস্তির্ণ লোকালয়। পানি বন্দি হয়ে পড়ে উপজেলার লাখো মানূষ। বন্যায় বিধ্বস্ত হয় হাজার হাজার বাড়িঘর, গ্রামীণ অবকাটামো, রাস্তাঘাট, বানের পানি ভাসিয়ে নিয়ে যায় শত শত মানূষের মাছের ঘের, আমন বীজতলা, বিভিন্ন প্রকারের ক্ষেতখামার আর নানা ব্যবসায়ী প্রতিষ্টানও। যার মধ্যে রয়েছে প্রায় কয়েক শতাধিক হাঁস, মুরগী, গরু ছাগল ও গবাধি পশুর খামারও। ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিকদেও বর্ণনায় জানা গেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ের দফায় দফায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়, উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জনতা বাজার এলাকার মোঃ কমর উদ্দিনের মালিকানাধীন মেসার্স জরা পোল্ট্রি ফার্ম, ৪নং ওয়ার্ডের মুন্সিমুরাপাড়া এলাকার প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম নুরুল আলম কাদেরীর সহধর্মনী নারী উদ্যোক্তা জন্নাতুল ফেরদৌসের মালিকানাধীন কাদেরী পোল্ট্রি ফার্ম, আলেমপাড়া এলাকার আলহাজ¦ কামাল হোছাইনের মালিকানাধীন পোল্ট্রি ফার্ম, ৪নং ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিন মিয়ার জসিম পোল্ট্রি ফার্ম, ৮নং ওয়ার্ড হাজিরঘোনা এলাকার মোঃ রুবেল কবিরের পোল্ট্রি খামার, ৪নং ওয়ার্ডের জাহেদুল করিমের মালিকানাধীন ডেইরী এন্ড পোল্ট্রি ফার্মস, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকার মহিউদ্দিনের মালিকানাধীন মহিন পোল্ট্রি খামার, শিলখালীর কাজিউল ইনসানের মালিকানাধীন ইনছান ডেইরী এন্ড পোল্ট্রি ফার্ম, গোঁয়াখালী বটতলীয়াপাড়া এলাকার মোঃ সাজ্জাদ হোসাইনের সাজ্জাদ পোল্ট্রি ফার্মস, শিলখালী পেটান মাতবরপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের হাবিব পোল্ট্রি খামার, জারুলবুণিয়া ৫নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি ডা: জাফর আহমদ এমইউপি’র পোল্ট্রি খামার, মোঃ নুরুল ইসলাম সওদাগরের পোল্ট্রি খামার, ভেডভেডী গুরাঘোনা এলাকার সাংবাদিক ছগির আজগরীর দেশিয় হাঁস, মুরগী ও গবাধি খামার, ফুরখ আহমদের পুত্র মুখতার আহমদ কালুর দেশিয় গরু ছাগলের খামার, সদরের পূর্ব মেহেরনামা এলাকার আনোয়ার হোছাইনের পুত্র মোঃ ওয়াহিদুল ইসলামের পোল্ট্রি খামার, শিলখালী দোকানপাড়া এলাকার আহমদ কবিরের পুত্র মিসবাহ উদ্দিনের পোল্ট্রি খামার, দক্ষিণ মেহেরনামা বাজারপাড়া এলাকার মরহুম ফজর আলী সিকদারের পুত্র এ.এস.এম শাহ আলমের মালিকানাধীন নিজ বসতি ও শিলখালীর দু-দু’টি পোল্ট্রি খামার, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মৌলভীপাড়া এলাকার মৃত রশিদ আহমদের পুত্র মহিউদ্দিনের মালিকানাধীন মহিউদ্দিন পোল্ট্রি খামার, দক্ষিণ মেহেরনামা এলাকার হাজি¦ মৃত এমদাদ মিয়ার পুত্র আবদুল গফুরের পোল্ট্রি খামার, পেকুয়া বাজারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ মোনাফের মোনাফ পোল্ট্রি খামার, বারবাকিয়া ভারুয়াখালী এলাকার মোঃ মুছার পুত্র মৌলভী জুনাইদের মালিকানাধীন মা পোল্ট্রি ফার্ম, গোঁয়াখালী এলাকার মোঃ ফখরুল ইসলাম মানিকের মালিকানাধীন মানিক পোল্ট্রি ফার্ম, বারবাকিয়া ইউনিয়নের সাহাব উদ্দিনের মালিকানাধীন বারবাকিয়া পোল্ট্রি ফার্মস, আবদুল মালেকের পুত্র নাছির উদ্দিনের পোল্ট্রি খামারগুলোর অধিকাংশই বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় খামারঘর যেমন হয়েছে ক্ষয়ক্ষতির শিকার তেমনি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তাদের লাখ লাখ টাকার মুরগী, ডিম, মুরগীর বাচ্চা ও খামারের নানা উপকরণ। রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল, উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী তাদের এলাকার বিভিন্ন জনের মালিকানাধীন প্রায় সকল পোল্ট্রি খামার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়ার সত্যতা জানিয়ে এসব ক্ষুদ্র পুঁজির খামার মালিকরা তাদের পুঁজি হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানান। পেকুয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান এম. বাহাদুর শাহ, টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জেড এম মোসলেম উদ্দিন আহমদ, বারবাকিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মৌলানা বদিউল আলম ও শিলখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল হোসাইন সাম্প্রতিক সময়ের দফায় দফায় বন্যায় তাদের স্ব: স্ব: এলাকার প্রায় সকল পোল্ট্রি ও ডেইরী ফার্মগুলো আক্রান্ত হওয়ায় তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করে বলেন, ফলে এলাকায় প্রোটিন ও আমিষ জাতীয় খাদ্যাভাবের পাশাপাশি খামারীদের মাঝে হতাশা ও নিরুৎসাহী হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন। শিলখালী ইউনিয়নের প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ নুরুল আলম কাদেরীর সহধর্মনী নারী উদ্যোক্তা জন্নাতুল ফেরদৌস এ প্রতিবেদককে জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তার রেখে যাওয়া পোল্ট্রি খামারের আয়ের উপর ভর করেই চলতো ২এতিম সন্তান ও নিজের ভরন পোষন। কিন্তু এবারের বন্যায় ওই খামারের সব কিছু পানি ভাসিয়ে নেয়ার পাশাপাশি খামারটিও বিধ্বস্ত হওয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে তিনি এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। শিলখালী ইউনিয়ন পোল্ট্রি মালিক সমিতির সভাপতি ডা. জাফর আহমদ এমইউপি জানিয়েছেন, সম্প্রতির দফায় দফায় বন্যায় সব কিছু ভাসিয়ে নেয়ায় পেকুয়ার পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা তাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন। কিন্তু সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও বা আর্থিক প্রতিষ্টান ও দেশি বিদেশী কোন সংস্থাগুলোও এযাবত তাদের বিষয়ে নেয়নি কোন খোঁজ-খবর। পেকুয়া উপজেলা বহুমুখী পোল্ট্রি এন্ড ডেইরী ফার্ম সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ কমর উদ্দিন জানিয়েছেন, এবারের বন্যায় উপজেলা সকল পোল্ট্রি ও ডেইরী প্রতিষ্টানগুলো নানা ভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়ায় লোকাসন ও পুঁজি সংকটে পড়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব খামারীদের ব্যবসা পূর্ণগঠনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে ব্যাপক জনগোষ্টির আমিষ ও প্রোটিন খাদ্যের মারাত্মক সংকট দেখা দেবে সেই সাথে সর্বস্ব: হারানো খামার মালিক ও তৎসংশ্লিষ্টদের জিবন জীবিকায়ও দেখা দেবে চরম অনিশ্চয়তা। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুর রশিদ খাঁন বন্যায় এলাকার পোল্ট্রি ও ডেইরী খাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন বিষয়টি নিয়ে তিনি সরকার ও উর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করে খাতটি পূর্ণগঠনে সহায়তার ব্যবস্থা নেবেন।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন