পেকুয়ায় চাঞ্চল্যকর জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতি ঘটনার হোতাদের গোপন মুঠোফোন আলাপনের অডিও বার্তা হেফাজতে নিলেন ওসি ॥

 
  • index
    পেকুয়া,প্রতিনিধি
    কক্সবাজারের পেকুয়ায় চাঞ্চল্যকর জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতি ঘটনার হোতাদের গোপন মুঠোফোন আলাপনের অডিও বার্তা হেফাজতে নিলেন ওসি। বিশ^স্ত সূত্রের নেতৃস্থানীয়রা গতপরশু ১৮মে সোমবার রাতে পেকুয়া থানার ওসি মোঃ আবদুর রকিবের কাছে লোক মারফত গুরুত্বপূর্ণ এ গোপন অডিও আলাপনের মেমোরী ভর্তির মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। জানা গেছে যে, গত বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে গভীর রাতে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুণিয়া ষ্টেশনে রহস্যজনক গণডাকাতি সংঘঠিত হয়। এসময় ওই ষ্টেশনের ছৈয়দ হোছাইন সওদাগরের মোবাইল দোকানের লক্ষাধিক টাকা লুঠ, ১৬টি দোকানের গ্রীল ও তালা কাটা এবং ১ব্যবসায়ী পরিবারের লোকজনদের ডাকাতদল পিঠুনী দিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার আলামত সহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থানা পুলিশের হেফাজতে নেন। এনিয়ে পুলিশ ভুক্তভুগী ব্যবসায়ীদের থানায় মামলা করার পরামর্শ দিলেও তারা মামলা করতে অপারগতা জানান। এক পর্যায়ে স্থানীয় মৃত মিয়া হোছনের বহুল আলোচিত বিতর্কিত পুত্র ডজন মামলার আসামী নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় গ্রহনযোগ্যতা গোপন করে আক্রান্ত জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ব্যবসায়ী ও একাধিক দোকানের মালিক দাবী করে জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতি মামলা দায়ের করতে অতি উৎসাহী আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু ডাকাতি মামলার বাদী হতে আগ্রহী ডজন মামলার আসামী নুর মোহাম্মদ এর অতি উৎসাহী দৌড়ঝাঁফ, আচার-আচরণ ও গতিবিধি নিয়ে পুলিশের সন্দেহ আর প্রশ্ন তুলে আপত্তি জানায়। পরে, পেকুয়া চৌমুহুনীর ক্ষমতাসীনদলের সহযোগী সংগঠনের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এক আলোচিত নেতার চাঁপের মুখে বিতর্কিত নুর মোহাম্মদকে বাদী উল্লেখ করে দায়েরকৃত ডাকাতি মামলার এজাহার এর ভিত্তিতে রহস্যজনক ও চাঞ্চল্যকর জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতি মামলাটি রুজু করে পুলিশ। যার মামলা নং-০৭/১৪ইং। পরবর্তীতে মামলার বাদি পরিচয়ে বিতর্কিত নুর মোহাম্মদ ও পেকুয়া চৌমুহুনীর ক্ষমতাসীনদলের সহযোগী সংগঠনের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এক আলোচিত নেতার আশির্বাদ পূষ্ট ক্যাডার রেজাউল করিম চৌধুরী নামে তার এক ভাতিজা সহ গংটির লোকজন ডাকাতি মামলার বাদীর পরিচয় নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্ধী প্রতিপক্ষ সহ নিরহ লোকজনদের কতিথ জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতি ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার গুঞ্জন ছড়িয়ে শোষন হয়রানীর পাশাপাশি পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া না দেওয়ার অনৈতিক বাণিজ্যিক মিশনে মেতে উঠেন বাদী সাক্ষীরা। চাঞ্চল্যকর ও রহস্যময় জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতি ঘটনার জের ধরে পুলিশ দ্রুত সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এজাহারভুক্ত ১জন সহ একাধিক সন্দেহভাজনদের আদালতে সৌপর্দ করে হাজতে পাঠায় পুলিশ। অন্যদিকে, ডাকাতি ঘটনার বাদী সাক্ষীরা তাদের স্বত্ব, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক লেনদেনে সম্পৃক্ত লোকজন ছাড়াও নিরহ এবং অসহায় লোকজনদের ডাকাতি ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার মিথ্যাচার চালিয়ে ঘায়েল, ফাঁসানো ও ফায়দা লিপ্সা চরিতার্থের পাশাপাশি পুলিশের অভিযানে আটকদের কাছ থেকে সূযোগ সুবিধা ও মোটাংকের লেনদেন বিনিময়ে আদালত সহ বিভিন্ন দপ্তরে খোদ পুলিশ ও তদন্ত কার্যক্রমের বিরুদ্ধাচারণেরও অভিযোগ উঠে আসে। সেই সাথে সংঘঠিত চাঞ্চল্যকর জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতির সত্যতা নিয়ে স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ও সমাজ সচেতন লোকজন নানা প্রশ্ন রহস্যের তথ্য উপাত্ত নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি ঘটনাবলীর বিষয় নিয়ে পত্র পত্রিকা ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাবরে সচিত্র সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ প্রচারনা অব্যাহত রাখায় সমাজ সচেতন, নেতৃস্থানীয় লোকজন সহ নিরহ এলাকাবাসীদের বিরুদ্ধে লাগামহীন মিথ্যাচার ষড়যন্ত্র, হামলা-মামলা, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে জড়ান বাদী ও তার পক্ষের লোকজন। আর এনিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকল মহল হন বিব্রত। ফলে, রহস্যজনক ও চাঞ্চল্যকর জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতি মামলার তদন্তে নেমে আসে ভাটা। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে যে, উক্ত মামলায় এস.আই আবদুল মতিন নামের এক সময়ের তদন্ত কর্মকর্তার সাথে মামলার বাদী, সাক্ষী ও ভুক্তভুগীদের লুকোচুরি ও দা-কুমড়ো সম্পর্ক্য পর্যন্ত গড়ায়। শেষমেশ মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই আবদুল মতিন বদলী হলে তার স্থলাভিষক্ত হন পেকুয়া থানার বর্তমান সেকেন্ড অফিসার এস.আই শাহজাহান কামাল। তিনি মামলার ফাইল হাতে নিয়েই তার চার্জশীট তৈরীতে মনোযোগী হন। মাঠে নামেন ফের তদন্তে। এসময় তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে সেখানেও তিনি ঘটনার সত্যতা ও বাদি, সাক্ষীর যোগ্যতা গ্রহনযোগ্যতার বিষয়ে নিজে যেমন বিব্রত হন তেমনি উপস্থিত লোকজনও তুলেন নানা প্রশ্ন। এনিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা গত কয়েকদিন আগে মামলাটির চার্জশীট চূড়ান্ত করে সত্যায়িতে পাঠিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, রহস্যজনক ও চাঞ্চল্যকর জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতি ঘটনা নিয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাথে সরাসরী ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করে যেসব কথা বলেন সে মুঠোফোন আলাপনের বেশ কয়েকটি অডিও কথোকতন রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে অনেকের হাতে হাতে। ওই অডিও রেকর্ডে শিলখালীর আন্ডার ওয়ার্ল্ড ছেড়ে স্বাভাবিক জিবন ফিরা একজনকে বলতে দেখা গেছে যে, তার রেকর্ডটি প্রয়োজনে প্রশাসন গণমাধ্যম সহ প্রকাশ্যে শুনানো হোক। আর এ আলাপনে বক্তব্য প্রদানকারীর কাছ থেকে বাদী ও সাক্ষী ছাড়াও তাদের পক্ষীয়রা বক্তব্য প্রদানকারীকে তাদের অস্ত্র ও লোকবল সরবরাহের অনুরোধ জানালেও বক্তব্য প্রদানকারী তাদের অনুরোধ সরাসরী প্রত্যাখ্যান করে সহযোগিতায় অপারগতা জানান। এছাড়া, ঘটনা ও মামলা রুজুর পর থেকে আজোবধি সংশ্লিষ্টরা আসামী সনাক্ত সহ অন্যান্য বিষয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার কথা থাকলেও সবসময় দেখিয়ে গেছেন তার উল্টো পাল্টা অবস্থান। এছাড়া উক্ত ডাকাতি ঘটনায় জড়িত কাউকে সনাক্ত বা সরাসরী ধরিয়ে দিতে না পারলেও ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিয়ে এজাহারে উল্লেখিত ব্যক্তিটির নামোল্লেখ করার বিষয়টি ধরা পড়েছে। জারুলবুণিয়া ষ্টেশন ডাকাতি ঘটনার বিষয়ে জন সম্মুখে ছড়িয়ে পড়া ৩-৩টি গুরুত্বপূর্ণ মুঠোফোন আলাপনের অডিও রেকর্ড ও চক্র প্রদানের অসামাজিক কার্যকলাপে সংশ্লিষ্টতার একাধিক ছবি সম্বলিত তথ্য গুলো শেষ পর্যন্ত পেকুয়া থানার ওসি মোঃ আবদুর রকিবের কাছে পৌছানোর খবর পাওয়া গেছে। পেকুয়া থানার ওসি মোঃ আবদুর রকিব তার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন