বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশংকা

 

retreমিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত প্রদেশ মংডু, কাউয়ারবিল, নাগপুরা ও ঘুনচি পাড়া বিজিপি ক্যাম্পে রাখাইন সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপ গত রোববার ভোর রাতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গ্রুপ (আরএসও) জড়িত রয়েছে মর্মে সে দেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ফলাও করে প্রকাশিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে রোহিঙ্গারা ফের এদেশে সপরিবারে ধেয়ে আসতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। গত বুধবার বেলা ১০টার দিকে রোহিঙ্গা বস্তির বালুখাইল্যার টাল থেকে মিয়ানমারের গুপ্তচর সন্দেহে শরীফ হোসনের ছেলে কামাল হোসেন (৪০) নামের এক রোহিঙ্গা নাগরিককে বস্তির রোহিঙ্গারা আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে। সে মিয়ানমারের মংডু বলিবাজার আইচচর গ্রামের বাসিন্দা।
কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি মো. নুর জানান, গুপ্তচর সন্দেহে আটক রোহিঙ্গা কামাল হোসেন মিয়ানমারের বলি বাজার ৪ নম্বর বিজিপি ক্যাম্পের সোর্স হিসাবে কাজ করে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে। তার কারণে অনেক রোহিঙ্গা নাগরিক সপরিবারে এখানে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে দাবি করে তিনি আরো জানান, ওই গুপ্তচরকে দেখামাত্র বালুখাইল্যার টালের রোহিঙ্গারা তাকে ধরে মারধর করে ক্যাম্প পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ আরমান শাকিল জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের জানান, তার বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক অনুপ্রবেশ আইনে মামলা রুজু করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্থুতি নেওয়া হয়েছে।
কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তির আরএসও নেতা আবুল ছিদ্দিক ওরফে জঙ্গী ছিদ্দিক জানান, তিনি মুঠোফোনে মিয়ানমারে বসবাসরত তার আত্মীয়স্বজনের সাথে কথা বলে যতদূর জেনেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপ সেখানকার বিজিপি ক্যাম্পে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে রোহিঙ্গা সলিডারেটি অর্গানাইজেশন-এর (আরএসও) ওপর দোষ চাপিয়ে সেখানে বসবাসরত নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যাতে রোহিঙ্গারা এদেশে ধেয়ে আসতে বাধ্য হয়। সীমান্তের ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ ঘুমধুম, তুমব্রু এলাকায় কোনো প্রকার আতংক নাই দাবি করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় অহেতুক কাউকে ঘোরাঘুরি না করার জন্য গ্রামবাসীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. ইমরান উল্লাহ সরকার জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে কেউ যেন অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেদিকে নজর বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে অহেতুক কোনো লোকজনকে চলাফেরা না করার জন্য সীমান্তে বসবাসকারী সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তুমব্রু সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অজ্ঞাতনামা গোষ্ঠি মিয়ানমার পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালানোর ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি ও সর্তকতা বাড়ানো হয়েছে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন