অরক্ষিত সীমান্তে পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন বিওপি স্থাপন করা হবে

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)afc81009d19কে যুগোপযোগী ও আরও চৌকস বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত বছরের ধারাবাহিকতায় এ বাহিনীতে বাড়ানো হচ্ছে নারী সৈনিকের সংখ্যা। এছাড়াও সীমান্তে অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়াতে ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবিতে এবার যুক্ত হচ্ছে ডগ স্কোয়াড ও এয়ার উইং। তথ্যপ্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়াতে সংযোজিত হয়েছে আইসিটি ব্যাটালিয়নও।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্রোহের পর বিজিবির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে গত আট বছরে বিজিবির অপারেশনাল সক্ষমতাও বেড়েছে । নানা আকর্ষণ আর নতুন সক্ষমতা অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে প্রায় সোয়া দুশ’ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ১৯৯৫ সালের ২৯ জুন রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন নামে এ সংস্থার গোড়াপত্তন ঘটে। এবছর প্রতিষ্ঠার ২২১তম বছর পালন করছে ‍বিজিবি।

বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (সদর দফতর) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাবিবুল করিম জানান, বিজিবি’র সাংগঠনিক কাঠামোতে চারটি রিজিয়ন সৃষ্টির মাধ্যমে কমান্ডিং স্তরের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে নতুন করে গঠিত চারটি সেক্টর, ১৫টি ব্যাটালিয়ন ও ৯০টি বিওপিসহ ১৬টি সেক্টর, ৫৭টি ব্যাটালিয়ন ও ৬৫০টি বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) নিয়ে বিজিবি সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ১২৮টি বিএসপি (বর্ডার সেন্ট্রি পোস্ট)। আরও ৬০টি বিওপি এবং ১২৪টি বিএসপি স্থাপনের পরিকল্পনাধীন রয়েছে। সাতক্ষীরার সুন্দরবন এলাকায় দু’টি ভাসমান বিওপি নির্মিত হয়েছে।

অরক্ষিত সীমান্তে নতুন ৫৫টি বিওপি নির্মাণ করার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ৪৭৯ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে ৩৭০ কিলোমিটার এলাকা ইতোমধ্যে বিজিবির নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। অবশিষ্ট অরক্ষিত সীমান্তে পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন বিওপি স্থাপন করা হবে। সীমান্তে বিজিবির টহল সুবিধার্থে ভারতসংলগ্ন সীমান্তে ৯৩৫ কিলোমিটার এবং মায়ানমার সংলগ্ন সীমান্তে ২৮৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া, সীমান্তে রাস্তা তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিজিবির দু’টি কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সীমান্তে অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সর্বাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ, চোরাচালান প্রতিরোধে ডগ স্কোয়াড সংযোজন এবং অবৈধ দ্রব্য তল্লাশির জন্য আধুনিক স্ক্যানার মেশিন যুক্ত করা হচ্ছে।

পার্বত্য এলাকার দুর্গম সীমান্তে বিওপি নির্মাণ এবং সেগুলোতে নির্বিঘ্নে অপারেশনাল ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে বিজিবির নবগঠিত নিজস্ব এয়ার উইং চালু এখন সময়ের অপেক্ষামাত্র। সীমান্তে কার্যকর নজরদারির লক্ষ্যে বিওপিগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব ৫/৬ কিলোমিটারে নামিয়ে আনতে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন নতুন বিওপি। ২০০৯ সালের বিদ্রোহের পর এ পর্যন্ত বিজিবিতে ২৪ হাজারেরও বেশি লোক নিয়োগ করা হয়েছে।

বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (বিজিটিসিঅ্যান্ডএস)-এর পাশাপাশি রিজিয়ন, সেক্টর এবং বিজিবি’র গোয়েন্দা সংস্থা বর্ডার সিকিউরিটি ব্যুরোর (বিএসবি) মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক প্রশিক্ষণ বাড়ানো হয়েছে।

আইসিটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের মাধ্যমে বিজিবিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম, সার্ভিস রেকর্ড কম্পিউটারাইজেশন, দাফতরিক কাজে নিজস্ব ই-মেইল এবং ভিডিও কনফারেন্স ব্যবস্থা চালুসহ আধুনিক আইপি ফোনের মাধ্যমে সদর দফতর থেকে ইউনিট পর্যায়ে ভিডিও কানেকটিভিটি স্থাপন করা হয়েছে। বিজিবি’র টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন করতে বিভিন্ন ইউনিটে ২৫২টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টেনা এবং পাবর্ত্য চট্টগ্রাম এলাকা রেডিও লিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেটের আওতায় রয়েছে। বিজিবির ৫১টি ইউনিটে যুক্ত হয়েছে অপটিক্যাল ফাইবার কানেকটিভিটি। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য সকল রিজিয়ন সদর দফতরে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপিত হয়েছে।বিজিবি’র কর্মকাণ্ড ডিজিটাল করার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার চালু রয়েছে।

২০১৫ সালে সর্বপ্রথম বিজিবিতে ৯৭ জন নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নারী সৈনিকদেরকে বিজিবির হাসপাতালগুলোতে, টেকনাফ, বেনাপোল, হিলি আইসিপিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিয়োজিত করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার চেকপোস্টগুলোতে বিজিবি’র নারী সৈনিক নিয়োগের মাধ্যমে সন্দেহভাজন মহিলাদেরকে তল্লাশি করা সহজ হয়েছে। এ বছর ১৯৪ জন নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।

এরইমধ্যে সীমান্ত ব্যাংকের লেনদেন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিজিবি’র কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান বিজিবি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূলত বিজিবি সদস্যদের কল্যাণের লক্ষ্যে সীমান্ত ব্যাংক পরিচালিত হবে।

-বাংলাট্রিবিউন

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন