বিট কর্মকর্তা ও পাতি নেতাদের যোগসাজসে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব

 

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ,Teknaf pic 05.04.15
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে রেঞ্জ, বিট কর্মকর্তা ও হেডম্যান ভিলেজারের যোগসাজসে পাতিনেতাদের নেতৃত্বে চলছে অবাধে পাহাড় কাটার মহোৎসব। সরকারী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উঁচু পাহাড়গুলো কেটে অবৈধ বসতবাড়ী স্থাপনের পাশাপাশি সমতল করার হরদম প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বিশেষ করে বসবাসের উপযোগী করার পাশাপাশি এসব পাহাড়ের মাটি বিক্রির হিড়িকও পড়েছে। সম্প্রতি ঈদগাঁওর পাহাড় কাটার অপতৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবেই চলতে থাকলে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন ঈদগাঁওর বিভিন্ন রেঞ্জের পাহাড় সমতল ভূমিতে দ্রুত সময়ে পরিণত হবে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক অবক্ষয় দেখা দিবে বলে পরিবেশবাদীদের ধারণা। এর মধ্যে ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীনে ফুলছড়ি বিটের আওতায় ইসলামপুর জুম নগর দুর্গম পাহাড়েও কয়েকটি পাহাড় কর্তন কাজ সবচেয়ে বেশি চলছে। অপরদিকে ঈদগাঁও দরগাহ পাড়া স্থানীয় এক পাতিনেতার ইন্ধন ও সহযোগিতায় রোহিঙ্গা মৌলভী নামে পরিচিত জাফর নামে এক ব্যক্তি একমাস ধরে সুউচ্ছ পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়,্ ইসলামপুর জুম নগরের ছৈয়দ করিম নামে একজন সদ্য বিদেশ ফেরত ব্যক্তি পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করতে দেখা যায়। তাছাড়া পাহাড়ের টিলা কর্তন কাজ অব্যাহত রেখেছে। ঐ স্থানে বসতি স্থাপনের জন্য সমতল করা হলেও তার নিজস্ব ড্যাম্পার দিয়ে মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অর্ধ মাস ধরে ঐ ব্যক্তি একই স্থানে পাহাড় কর্তন করার খবর পেয়েও ফুলছড়ি রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা, ঘটনাস্থলে যায়নি। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হেডম্যান আশরাফুজ্জামানের সহযোগিতায় ইসলামপুরের প্রভাবশালী শরীফ নামের এক ব্যক্তির ইন্ধনে মাটি কর্তন কাজ ও বিক্রি করে চলছে। অপরদিকে ইসলামাবাদ সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলমের বাড়ী সংলগ্ন শামসুর পাহাড় থেকে ড্যাম্পারযোগে কে বা কারা মাটি কেটে বিক্রি করছে। এছাড়া ভোমরিয়াঘোনার প্রতিটি স্থানে পাহাড় কাটার উৎসব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বনবিভাগ নির্বিকার থাকায় পাহাড় কাটা সম্প্রতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এদের মধ্যে স্থানীয় ভাদিতলার জনৈক পাতিনেতা বিট কর্মকর্তাদের মোটা অংকের বিনিময়ে ম্যানেজ করে পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে। এসব ব্যাপারে ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মোকাম্মেলের মোবাইলে ৬দিন যাবত কল করেও পাওয়া যায়নি। অতঃপর তার অফিসে গিয়ে দেখা মিলেনি এ কর্মকর্তার। বিট কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে একাধিকবার ঐ স্থানে অভিযানে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। ভোমরিয়াঘোনা বিট কর্মকর্তা আবুতাহেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে সংবাদকর্মী পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পুনরায় কল করলে অফিসের কাজে ব্যস্থ বলে সংযোগ আবারো বিচ্ছিন্ন করে দেন। কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাহ-ই-আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যতই প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন পাহাড় কর্তনকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তাদের অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন