ভুঁইফোড় সংগঠনের নাম শুনে চমকে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী

 

image-jjj7699

বিভিন্ন ভুঁইফোড় সংগঠনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে এমন একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের নাম শুনে চমকে ওঠেন খোদ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২৭ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভা চলছিল রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগে দলের প্রথম সারির এক কেন্দ্রীয় নেতা বক্তব্য শুরু করলে মিলনায়তনে উপস্থিত যুব মহিলা লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সংগঠনের নামে স্লোগান দেন। ওই সময় মিলনায়তনের নিচতলায় মঞ্চের বেশ কাছাকাছি সারিতে বসে কয়েক যুবক- ‘বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, নেতা মোদের শেখ মুজিব’ এ স্লোগান দিচ্ছিলেন। মঞ্চে থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্লোগান শুনে তাৎক্ষণিক বলে ওঠেন- ‘এটি কী? এটি আবার কবে হলো? আগে তো শুনিনি!’ ঘটনার আকস্মিকতায় মিলনায়তনে উপস্থিত অনেকেই চমকে ওঠেন। তবে যারা স্লোগান দিচ্ছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এ সময় টিপ্পনি কাটতে শুরু করেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, দল ক্ষমতায় থাকায় শত শত ভুঁইফোড় সংগঠন গজিয়েছে দেশে। এরা দলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অপকর্ম করে বেড়ায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের অনেক মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা বুঝে অথবা না বুঝে এদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, তাঁতী লীগ ও যুব মহিলা লীগ দলের সহযোগী সংগঠন। এ ছাড়া ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদকে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো সহযোগী কিংবা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন নেই।

কাগজ-কলমে না থাকলেও আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ হাসিনা, শেখ রাসেলের নাম ব্যবহার করে অনেকেই সংগঠন খুলে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ভুঁইফোড় সংগঠনের অনুষ্ঠানে যেতে দলের নেতাদের একাধিকবার বারণ করলেও আওয়ামী লীগের অনেকেই কেন্দ্রীয় নেতা এসব সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে যান হরহামেশাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশে বিভিন্ন সময় ব্যানার-ফেস্টুনে অসংখ্য ভুঁইফোড় সংগঠনের অস্তিত্ব দেখা যায়। এ ধরনের সংগঠনের প্রায় কয়েকশ সংগঠন রয়েছে দেশে। ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর মধ্যে শিশু লীগ, আওয়ামী দর্জি লীগ, আওয়ামী চালক লীগ, জননেত্রী চিন্তা লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী প্রচার ও প্রকাশনা লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী মোটরচালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, হারবাল লীগ, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, বঙ্গবন্ধু হোমিওপ্যাথি লীগ, আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ, আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী ওলামা লীগ অন্যতম।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন