মদাদুল হক মিজানের চলচ্চিত্র-‘কান্না’র করুণ কাহিনীর চমৎকার গল্প

 

নজরুল ইসলাম তোফাঃ সমাজে এখনও এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের দু’একটি জামা দিয়ে বছরের পর বছর পার করতে হয়। তাদের অভাবের তাড়নায় বা দারিদ্র্যের কসাঘাতে এমন অনেক ইচ্ছাকেই কবর দিতে হয়। মনের ইচ্ছা থাকা সত্বেও অনেক কিছুই তাঁরা করতে পারেনা।

বদলে যাচ্ছে দেশ, বদলে যাচ্ছে সব কিছুই, শুধু বদলাচ্ছে না তাদের ভাগ্য। ‘কান্না’ গল্পে দেখা যাবে রাজুর মা পরের বাসায় কাজ করে, রাজধানীর এক বস্তিঘরে তাদের বসবাস। রাজুর বাবা ছিল দিন মজুর অসুস্থ মানুষ, কোন কাজ কর্ম করতে পারে না। রাজুর মা পরের বাসায় কাজ করে যা টাকা পায় তার বেশির ভাগই রাজুর বাবার চিকিৎসার পেছনে চলে যায়। অবুঝ ছেলে রাজু। একদিন মায়ের কাছে রাজু বায়না ধরে নতুন গেঞ্জি কিনে দেয়ার। মা টাকা নাই বলে। ঘটনার এক পর্যায়ে রাজুর হাতে রাজুর মায়ের পরনের কাপরের কিছু অংশ ছিড়েঁ যায়। মা রাজুকে বকা দেয়। কারণ তার মাত্র দুটি কাপর। রাজু কান্না করে চলে যায়। পরদিন রাজু রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে এক মহিলার কাপর শুকানো অবস্থায় দেখতে পায়। রাজুর মনে পরে যায় তার মায়ের কাপরটি অসাবধানবশত সে ছিড়ে ফেলেছিল। মনে পরে যায় তার মায়ের মাত্র একটি কাপর। রাজু কাপরটি চুরি করতেই মহিলা দেখে ফেলে। রাজু কাপরটি নিয়ে দৌড়াতে থাকে। মহিলা সহ পাবলিকরা রাজুকে ধরতে দৌড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে রাজু হোঁচট খেয়ে দেয়ালের উপর গিয়ে পরে, রাজুর মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। তারপর আরো অনেক ক্লাইমেকস্••••?

এমনই একটি গল্প নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র নির্মাতা ইমদাদুল হক মিজান তিনি বলেন, এর আগেও আমি কয়েকটি শর্ট ফিল্ম করেছি কিন্তু “কান্না “গল্পটি একেইবারেই অন্যরকম। কান্নার গল্প লিখেছে জান্নাত আরা ফেরদৌস মিলা নামের নতুন একটি মেয়ে অসাধারণ লিখেছে সে। গল্পটির শেষ দুটি দৃশ্যর কাহিনী বিন্যাস করতে গিয়ে আমার চোখেই পানি চলে আসছিল। তিনি আরও বলেন কান্না গল্পে বর্তমান সমাজে শিশুরা যে কতোটা নির্যাতিত তা তুলে ধরা হয়েছে। অবুঝ শিশুরা ভুল করতেই পারে সেই ভুলটা ধরিয়ে দেয়া উচিত। কিন্তু আমরা তা না করে শিশুদের শারিরিক নির্যাতনেই মেরে ফেলি। ছেলে কিংবা মেয়ে এসব বাচ্চাদের অকারণেই মেরে ফেলি। পরিচালকের প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার যেখানে পোলিও টিকা সহ বিভিন্ন প্রকার মেডিসিন দিয়ে শিশুদের জীবন রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে শিশুদের মেরে ফেলা কেন?

ফিল্মটিতে অভিনয় শিল্পী হিসাবে কে কে থাকবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক ইমদাদুল হক মিজান বলেন, ‘কান্না’ গল্পে রাজু চরিত্রের জন্য ৫/৬ বছরের একটি নতুন ছেলে খুঁজছি আর বাঁকি সব পুরনো শিল্পী থাকবে। একজন প্রযোজকের সাথে গল্পটি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন উনি যদি বিনিয়োগ করেন শীঘ্রই শুটিং শুরু হবে।

ইমদাদুল হক মিজানকে বর্তমানে আর কি কাজ নিয়ে ব্যাস্ত আছেন জানতে চাইলে, তিনি নজরুল ইসলাম তোফাকে বলেন, কাজী মারুফ অভিনীত, তাঁর পরিচালিত ‘বেপরোয়া প্রেমিক’ সিনেমার কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছেন। তবে এর বাইরে ‘পোল্টি ফিড’ নামের একটি বিজ্ঞাপন এর কথা চলছে। চুড়ান্ত হলেই জানাবো যাবে। সেই সাথে আরও নতুন সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা ও চেষ্টা নিয়ে সর্বদা ব্যস্ত আছেন।

তরুন নির্মাতা ইমদাদুল হক মিজান অনেক সচ্ছতা ও গুরুত্বের সহিত প্রতিটি কাজ করে থাকেন। আগামীতে আরো ভালো নাটক বা ফিল্ম নির্মান করে দেশবাসীকে উপহার দেয়ার ইচ্ছা পোষন করেন। সামনে এগিয়ে চলার উদ্দ্যোম ও সাহস নিয়ে তরুন নির্মাতা সকলের দোয়া চান।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন