মহেশখালীতে অস্ত্র ব্যবসায় নারীদের সরাসরি অবস্থান

 

image eidgha-3-12-2013
মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন পেশাদার দাগী সন্ত্রাসীদের পরিবারের নারী সদস্যরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও অস্ত্র বহনের কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে অসংখ্য কিশোর বয়সের নারী। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরধারীর কারণে বেশ কয়েকবার অস্ত্রসহ কয়েকজন মহিলাকে আটক করা হলেও অস্ত্র ব্যবসার মূল হোতাদের ধরতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালীর মুন্সির ডেইল,দেবাঙ্গ পাড়া, ছোটমহেশখালীর সিপাহীর পাড়া, হোয়ানকের কেরুনতলী, পুইছড়া, ছনখোলাপাড়া, কালাগাজীরপাড়া, ডেইল্যাঘোনা, কালারমারছড়ার দক্ষিণ ঝাপুয়া, উত্তর নলবিলা, চলিয়াতলী সহ ও শাপলাপুরে বেশ কয়েকজন অস্ত্র কারিগর এ পরিবার ব্যবসার সাথে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে দুটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় এ সব অস্ত্র কারিগর ও ব্যবসায়ীরা সহায়তা পেয়ে থাকে। ফলে তাদের সম্পূর্ণ ভাবে আইনের আওতায় নিয়ে আসা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিভিন্ন পাহাড়ে স্থানীয় বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ অবাধে তৈরি করছে অবৈধ অস্ত্র।
জানা গেছে, কালারমারছড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ওসমান গণি ও যুবলীগ নেতা মুজিব উল্লাহ নিহত হওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অস্ত্র ব্যবসায়ি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কিছু দাগী সন্ত্রাসী জেলে আটক থাকলেও তাদের পরিবারের ভরণ পোষনের নামে সন্ত্রাসীদের অপর সহযোগীরা গ্যাং লিডারদের স্ত্রী মেয়েদেরকে এসব অপরাধ জগতে নিয়ে যাচ্ছে। হোয়ানক ,কালারমারছড়া, বড় মহেশখালীতে বিশেষ আলোচিত হত্যা মামলার আসামিরা পাহাড়ে আস্তানা করে অবৈধ অস্ত্র তৈরি করে থাকে। এতে স্থানীয় দুজন ইউপি চেয়ারম্যানের পৃষ্টপোষকতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হোয়ানক ইউনিয়ন কৃষক লীগ সভাপতি আবু তালেব জানান, পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো সন্ত্রাসীরা টাকার লোভ দেখিয়ে এলাকার বেশ কিছু মহিলাদের এই অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে ফেলেছে। সহজ সরল নারীরা না বুঝে এই অবৈধ ব্যবসায় নিজেদেরকে জড়িয়ে তাদের জীবন নষ্ট করে ফেলছে অকালে।
কালারমারছড়ার ইউপি মেম্বার নুরুল ইসলাম জানান, কালারমারছড়ার ফাঁড়ির পুলিশ দুইটি অস্ত্রসহ যে দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে তাদের কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্রগুলো খুবই ছোট। এ সময় জড়িত থাকার অভিযোগে কালারমারছড়ার এলাকার বহু মামলার আসামি ডাকাত জাফরের স্ত্রী কামরুন্নার ইরান , মোক্তার আহমদ ও তার স্ত্রী তাহমিনা বেগমকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়া জাফরের স্ত্রী কামরুন্নাহার জানান, তার স্বামী জোর পুর্বক তাকে অস্ত্রের ব্যাগটিসহ গাড়িতে উঠিয়ে দেয় চকরিয়া পৌঁছে দিতে। তার সাথে যুক্তহয় নিজের জাঁ তাহমিনা। ফলে ফেসে যায় মোক্তার নামের এক যুবক। তিনি আরো জানান, কালারমারছড়া এবং হোয়ানকের আরো অনেক মহিলা স্বামীদের নিদের্শে এই অপরাধ কমকান্ড করতে বাঁধ্য হচ্ছে। দুইজন ইউপি চেয়ারম্যানের তত্বাবধানে মহেশখালীতে প্রতিনিয়ত অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। বিগত সময়ে বড় মহেশখালীর সড়ক থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করে এক মহিলার কাছ থেকে ৩টি কাটা বন্দুক উদ্ধার করে। পরে জড়িত থাকার অভিযোগে মহিলাকে আটক করে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ২০১২ সালে শামসুনাহার নামের এক মহিলাকে ব্যাগ ও কোমর থেকে ৩টি বন্দুকসহ গ্রেপ্তার করে। এখন ও শামসুনাহার জেল হাজতে রয়েছে।
মহেশখালী থানার ওসি মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, মহেশখালীর সব চেয়ে অপরাধ সংগঠিত এলাকা কালারমারছড়া ও হোয়ানক ইউনিয়ন এখানে। বেশ কিছু পাহাড় রয়েছে যা অপরাধিরা অপরাধ করে সহজে পালিয়ে যেতে পারে। তবে পুলিশ সর্তক অবস্থানে থাকায় এখন অস্ত্র চালান করতে পারছে না।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন