মহেশখালীতে মানব পাচারকারী রেশমীর বিরোদ্ধে ইউএনও কে লিখিত অভিযোগ

 

 

এ.এম হোবাইব সজীব
মহেশখালীতে মানব পাচারকারী মহিলা দালাল হোসনে আরার বিরোদ্ধে উচিৎ প্রতিকার চেয়ে ইউএনও র নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে দালালের কপ্পরে পড়া এক হতভাগা কিশোরের পিতা। দীর্ঘ ২মাস পর্যন্ত খোঁজ না পেয়ে মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত মুহাম্মদ জহিরের পুত্র জাফর আলম। লিখিত অভিযোগে জানান, খোন্দকার পাড়া এলাকার মালেশিয়া প্রবাসী আলী আকবরের স্ত্রী হোসনে আরা প্রকাশ রেশম খাতুন আমার ১৬ বছর বয়সের কিশোর সন্তান মোঃ শাকের উল্লাহ কে পুষলাইয়া সাগর পথে গত ২মাস পূর্বে মালেশিয়ার ট্রলারে উঠিয়ে দেয়। শাকের উল্লাহর পিতা জাফর আলম অনেক দিন খোঁজ করতে করতে না পেয়ে অস্তির হয়ে পড়ে।
১মাস পর শাকের উল্লাহ ফোনের মাধ্যমে বাবাকে জানান, আলী আকবরের স্ত্রী দালাল রেশমী খাতুনকে ২লক্ষ টাকা পরিশোধ করলে তাকে মালেশিয়ার বন্ধি খানা থেকে মুক্তি দেবে বলে জানান। পরে সন্তানে জীবন রক্ষার তাগিদে বাসাবাড়ীর গরু ছাগল বেচা বিক্রয় ও বাড়ী ভিটা বন্ধক দিয়ে মালেশিয়ার দালাল রেশম খাতুন কে মুক্তি পনের টাকা পরিশোধ করে। টাকা পরিশোধের পর অনেক দিন পর্যন্ত আমার ছেলের কোন সন্ধান না পেয়ে দালাল রেশম খাতুন এর নিকট জানতে চাইলে শাকের উল্লাহর পিতার নিকট আরো ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে জানাজানি হলে রেশন এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাসাবাড়ীতে আত্মগোপন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
গতকাল সোমবার ন্যায় বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগটি মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ারুল নাছেরের নিকট আবেদন করলে ইউএনও মহেশখালী থানার ওসি কে গ্রেপ্তার পূর্বক লিখিত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এলাকাবাসীর সুত্রে জানাযায়, হোসনে আরা বেগম প্রকাশ রেশমীর স্বামী এক সময় দুবাই প্রবাসী ছিল । গত ৩বছর পূর্বে দুবাইতে ধরা পড়লে জেল কেটে বাংলাদেশে চলে আসে। পরে স্ত্রীর সাথে টেকনাফ এলাকার একজন বড় মাপের দালালের সাথে গভীর সম্পর্ক থাকার সুবাধে স্বামীকে সাগর পথে মালেশিয়া পাঠায় দালাল রেশমী। পরে তার বড় ছেলে শাহাদতকে ও দালালের মাধ্যমে মালেশিয়া পাঠায় । সে সময় থেকে নিরবে এলাকায় এলাকায় একটি ছাতা নিয়ে গুরে গুরে মালেশিয়াগামী লোক সংগ্রহ করে সাগর পথে মালেশিয়া পাঠায়। স্বামী বিদেশ থাকার সুবাদে সকালে বাড়ী থেকে বাহির হলে সন্ধ্যায় বাড়ীতে ফিরে। টেকনাফের দালালটি গভীর রাতে রেশমীর বাড়ীতে আসে ভোর বেলায় চলে যায় বলে এলাকার জন মতে প্রকাশ।
পুলিশের অভিযানের মাধ্যমে মালেশিয়ার মানব পাচারকারী দালাল রেশমী কে গ্রেপ্তার পূর্বক রিমান্ডে নেওয়া হলে অনেক আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে ও দালালের গড়ফাদার দের তথ্য পাওয়া যাবে বলে সচেতন মহলের ধারনা।

মহেশখালীতে মানব পাচারকারী ও সাজা প্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার।
এ.এম হোবাইব সজীব,
মহেশখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মানব পাচারকারী ও ৬ মাসের সাজা প্রাপ্ত ১ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল সকালে পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মহেশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, কুতুবজুমের তালিকাভুক্ত মানব পাচারকারী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ কে সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে সে স্থানীয় নজির হোসেনের পুত্র । অপর দিকে পুলিশের নিয়মিত অভিযানে কালারমারছড়ার নয়াপাড়া এলাকার সালা উদ্দিনের ছেলে নজির হোসেন কে গ্রেফতার করে । তার বিরুদ্ধে একটি মামলার ৬ মাসের সাজা প্রাপ্ত আসামী। এদিকে উপজেলার বেশ কিছু মানব পাচারকারীদেরকে ধরতে পুলিশ বিভিন্ন কলাকৌশল অভলম্বন করে অভিযান চালাচ্ছে। ইতো মধ্যে তালিকা ভুক্ত একাধিক মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে বলে মহেশখালী থানার ওসি জানান।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন