মহেশখালীতে যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান থমকে গেছে

 
  • মহেশখালী,প্রতিনিধি[]
  • দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে যুদ্ধাপরাধীর গ্রেফতার অভিযানে পুলিশের ভাটা পড়ায় থমকে গেছে বহুল আলোচিত এ অভিযান। জানা গেছে, মহেশখালী থানা পুলিশ নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত হওয়ায় যুদ্ধাপরাধীদেরকে গ্রেফতার অভিযানে ধস নেমেছে বলে সূত্র গুলো দাবী করেছে। জানা গেছে,মহেশখালীতে যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে ৭৯ জন। রাঘব বোয়াল বিএনপির সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ রশিদ মিয়া ও জামায়েত নেতা ছালামত উল্লাহ খাঁন পুলিশের জালে ধরা পড়লেও আলোচিত যুদ্ধাপরাধী মৌলভী জকরিয়াসহ অবশিষ্টরা রয়েছে পুলিশের গ্রেফতার এড়িয়ে। পুলিশের অভিযান কোন দিকে মোড় নিচ্ছে দূর থেকে মনিটরিং করছে যুদ্ধাপরাধীর একটি বিশাল অংশ। পুলিশের অভিযানে ভাটা পড়ায় তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করতে শুরু করছেন বলে জানা গেছে। তালিকা আসা এবং না আসা পুলিশের জালে গ্রেফতার হতে পারে এমন সন্দেহে অনেকে মহেশখালী থেকে অন্যান্য এলাকায় ইতিমধ্যে বসতি গড়েছে বলেও সংবাদ পাওয়া গেছে। মহেশখালীতে প্রায় শতাধিক যুদ্ধাপরাধী তালিকাভুক্ত হলেও এর মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে স্থানিয় একাধিক মৌলভীর নাম। আবার বাদ পড়েছে অনেকের নাম ও এমন কথার উদয় হচ্ছে সচেতন এলাকাবাসীর মাঝে। তালিকা থেকে বাদ পড়া উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা গ্রামের মৃত আনুমিয়া (প্রকাশ) আনয়া মিয়ার পুত্র আব্দু রহিম (৫০) পাকহানাদের বাহিনীর সাথে থেকে তাদের অস্ত্র গুলি বহন করে হানাদের বাহিনীদের বিভিন্ন তথ্য যোগান দিলে ও ৭৯ জনের যে তালিকা হয়েছে এ তালিকা থেকে রাজাকার আব্দু রহিমের নাম বাদ পড়ল কেন? চিহ্নিত এসব যুদ্ধপরাধীসহ তালিকায় নাম না আসা আব্দু রহিমের বিরুদ্ধে নানা ভয়ে এতদিন নিশ্চুপ থাকলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের ভোক্তভোগিরা এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে বলে এমন কথার উদয় হচ্ছে সচেতন লোকজনের মাঝে। তবে তালিকাভুক্ত ২ জন সম্প্রতি আটক হলেও অন্যান্যরা ধরা না পড়ায় রীতিমত ক্ষুদ্র হয়ে উঠছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গা ঢাকা দেওয়া মৌলভী জাকরিয়া ছিলেন ১৯৯৭ সালে পাক হানাদার বাহীনির কর্তৃক গঠিত শান্তি বাহিনীর অন্যতম সদস্য। এসময় তার অন্যতম সহযোগি বর্তমান যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় স্থান পাওয়া বড় মহেশখালীর কামাল মিয়ার জামাই মৌলভী রমিজ হাসান ও গোরকগাটার জব্বার মুন্সির জামাই মৌলভী অলি আহমদকে দিয়ে সংখ্যালঘুদের উপর ব্যাপক নিযার্তন চালায় বলে জনশ্রুতি আছে এলাকায়। তাদের ব্যাপারে আরো ও ভূরি ভূরি ইতিহাস রয়েছে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যার নির্যাতনের ইতিহাস পত্রিকায় লিখে ও শেষ করা যাবে না। মহেশখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এসব যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে শীর্ষ যুদ্ধপরাধী মৌলভী জকরিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করার আগে বর্তমান মেয়র মকছুদ মিয়া তার চাচা জকরিয়াকে গা ঢাকা দেওয়ার জন্য সহযোগিতা করায় তাকে গ্রেফতার করার সম্ভব হচ্ছে না। এবং তিনি তালিকা থেকে যুদ্ধাপরাধীদের অনেকের নামবাদ পড়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি আরোও জানান, বাকিরা গ্রেফতার না হওয়ায় যুদ্ধাপরাধীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে নিয়ে ৩/৪ দিনের মধ্যে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করবে বলেন।
 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন