মহেশখালী-চকরিয়ায় বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছ

 

55এ.এম হোবাইব সজীব
নদ-নদী বেষ্টিত সাগরও নদী বেষ্টিত উপকূলীয় উপজেলা মহেশখালীও চকরিয়ায়। এক সময় মহেশখালী-চকরিয়া অঞ্চল ছিল মৎস্য সম্পদে ভরপুর। এ দুই উপজেলার বিল, দীঘি ও বিভিন্ন নদ-নদী ছিল দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে পাল্টে গেছে এ চিত্র।
অবাধে মৎস্য আহরণ, পোনা মাছ নিধন, পানি সেচ, কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে কীট নাশক ব্যবহার, বালাই নাশক ব্যবহার, নদী জলাশয় পলি মাটিতে ভরাট হওয়ায় এবং সরকারি কোন সুষ্ট নীতিমালার প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে মাছের উৎপাদন। মহেশখালী-চকরিয়া উপজেলার নদীবেষ্টিত ইউনিয়নের চিত্র একই।
চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়ার মৎস্য খামার মালিক বাবুল মিয়া এবং মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর রাজঘাট এলাকার মৎস্য খামার মালিক হোছাইন মাসুমের সাথে আলাপ করে জানা যায় দেশী প্রজাতির মাছ চাষ করা এখন কঠিন কাজ। দেশীয় প্রজাতির পোনা এখন পাওয়া দুষ্কর। আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা দেশীয় প্রজাতির পোনা বিক্রি করতো। এখন সে চিত্রও চোখে পড়ে না।
শীঘ্রই সংশি¬¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন ওই মৎস্য খামার মালিকরা। জানা যায়,আগে যে নদী নালা ছিলো তা ভুমি দস্যুদের কালো থাবায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। তারা গড়ে তুলছে ঘর বাড়ি দোকান পাট নির্মাণ, যার কারনে নদী নাব্যতা হারাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চকরিয়ার বদরখালী ফেরিঘাট এলাকায় দোকান মালিকরা নিজেদের জায়গা দাবি করে গড়ে তুলছে দোকান-পাট, স- মিল প্রভৃতি। যার প্রেক্ষিতে নদী নালা ভরে যাচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংশি¬¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে দৃষ্টি নেই বললেও চলে। আগের মতো এখন বাজারে চোখে পড়ে না শিং মাছ, চিংড়ি, ইলিশ, মাগুর, কৈ, পুটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ।
ফলে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করছে। এলাকাবাসী আমদানিকৃত মাছ ক্রয় করে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছে। শীঘ্রই দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষার স্বার্থে মানুষের কালো থাবা থেকে নদী -নালা, জলাশয়গুলো মুক্ত করা প্রয়োজন বলে সচেতন মহল দাবি করেছেন।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন