মালেশিয়ার কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছে ১৬শ’ বাংলাদেশী

 

69870662195_n

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া [] উখিয়া-টেকনাফ সহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা দিয়ে সাগর পথে পাচার হওয়া প্রায় ১৬শ’ বাংলাদেশী মালেশিয়ার চেরামবাগ রিংগিং ইমিগ্রেশন ক্যাম্প কারাগারে মানবেতন জীবন যাপন করছে। সংঘবদ্ধ দালালচক্র জনপ্রতি ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার চুক্তিতে নামীদামী চাকুরীর প্রলোভনে এসব লোকজনদের পাচার করলেও মাঝপথে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের পরও তাদেরকে মালেশিয়া ও থাইল্যান্ড সীমান্তের মধ্যবর্তী স্থানে দালালের নিয়ন্ত্রণে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় পুলিশের হাতে সোপর্দ করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সাগরে অকাল মৃত্যু, দালালের নির্যাতন, জেল জরিমানা, সর্বোপরি দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ছাড়া পেলেও মানব পাচার থামছে না। অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন যতক্ষণ না পর্যন্ত দালালদের নিয়ন্ত্রণ করা না হবে ততক্ষণ অবৈধ পথে মানব পাচার অব্যাহত থাকবে। সম্প্রতি মালেশিয়ায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর দেশে ফিরে আসা এক যুবকের স্বীকারোক্তিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী কিশোর কক্সবাজার জেলার উখিয়া পূর্ব মরিচ্যা গ্রামের হতদরিদ্র ছৈয়দ আলম চৌকিদারের ছেলে দিদারুল আলম(১৬) প্রকাশ রাব্বী সাংবাদিকদের জানান, একই গ্রামে মানবপাচারকারী শাহাব মিয়ার ছেলে জয়নাল স্থানীয় ও বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগ্রহ করে মালেশিয়ায় মানবপাচার করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। সে জানায়, দালাল জয়নালের ভাই দেলোয়ার মালেশিয়ায় অবস্থান করে এখান থেকে পাঠানো লোকজনদের জীম্মি করে মালেশিয়ায় মুঠোফোনের মাধ্যমে উল্লেখিত ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত বন্দীশালায় আটকিয়ে রেখে বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করে থাকে। মুুক্তিপনের টাকা পাওয়া নিশ্চিত হলে তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে মালেশিয়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় টাকা দিতে ব্যর্থ হলে অমানবিক নির্যাতন করে মালেশিয়া বা থাইল্যান্ডের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনুরূপ রাব্বীর মালেশিয়া যাত্রার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, পাচারকারী জয়নাল তার শ্বশুড় বাড়ীর শাহপরীর দ্বীপে নিয়ে যায়। সেখানে ৩ দিন রাখার পর ১ দিন গভীর রাতে সে সহ শাহপরীর দ্বীপের ১৭ জন ও অন্যান্য এলাকা থেকে আসা প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক যাত্রী নিয়ে সাগর পথে মালেশিয়ায় রওনা হয়। প্রায় ১৭ দিন পর তাদেরকে থাইল্যান্ডের কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে সমুদ্রের পানিতে নামিয়ে দেয়। পরে তারা সবাই সাতিঁরিয়ে অনেক কষ্টে কুলে উঠে। সে জানায়, আগে থেকে সেখানে অপেক্ষা করা ৪/৫ জনের একটি দালাল চক্র তাদেরকে একটি বন্দীশালায় নিয়ে যায়। সেখানে ৩দিন অবস্থান করার পর রাব্বীর টাকা পরিশোধ হলেও তার সাথে থাকা অন্যান্যদের লেনদেন সম্পন্ন না হওয়ায় দালাল চক্র সেসহ ১২জনকে মালেশিয়ায় পুলিশের হাতে তুলে দেয়। রাব্বী জানান, মালেশিয়ার চেরামবাগ রিংগিং ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে ২ মাস ৪ দিন জেল কাটার পর বাড়ীর সহায় সম্বল বিক্রি করে ৩৫ হাজার টাকা বিমান ভাড়া পৌঁছানোর পর সে দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়। সে জানায়, মালেশিয়ার কারাগারে তারমত আরো প্রায় ১৬শ’ শতাধিক বাংলাদেশী এখনো অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে। রাব্বীর পিতা ছৈয়দ আলম চৌকিদার জানান, বসতভিটা বন্ধকী দিয়ে ছেলেকে মালেশিয়ায় পাঠিয়ে ছিলাম। দূর্ভাগ্য বসত আমার ছেলেকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। এখন বন্ধকীর টাকা কিভাবে ফেরত দিব তা নিয়ে দুঃচিন্তায় ভুগছি। স্থানীয় চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু জানান, বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। যাচাই বাছাই করে সিন্ধান্ত দেওয়া হবে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন