মিয়ানমার রাখাইনে ফের সহিংসতা, সীমান্তের দিকে ছুটছে মানুষ

 

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আর দাঙ্গার হামলা থেকে বাঁচতে প্রাণ ভয়ে গ্রাম ছেড়ে ফের বাংলাদের সীমান্তের দিকে ছুটছে মানুষ। তবে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রাখাইনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে নিরাপত্তবাহিনী।

স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সম্প্রতি একজন গ্রাম প্রধানসহ কয়েকজন রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার পর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশঙ্কায় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০০ রাখাইন গ্রাম ছেড়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রামবাসীদের এলাকা ছাড়ার খবর পাওয়ার পর রাখাইনের মুখ্যমন্ত্রী নেই পু এবং জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ‘জরুরি ভিত্তিতে’ ওই এলাকা পরিদর্শনে গেছেন।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইটের মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামে এক ব্যক্তি নামাজ পড়ার সময় ‘মারা’ যান। আর গত ১৭ জুন মুখোশ পরিহিত ‘অন্তত ১০ জনের একটি দল’ একজন গ্রাম প্রধানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এরপর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ভুগছেন। যে কারণে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় গ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে রোহিঙ্গা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীরা’ মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশের তিনটি চৌকিতে হামলা চালিয়ে ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে। ওই হামলার পর রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক অভিযান চালায় সামরিক বাহিনী। নিহত হয় শতাধিক মানুষ, পুড়িয়ে দেওয়া হয় এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। প্রাণ ভয়ে প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, ওই সেনা অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়। তবে অং সান সুচি সরকার ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের একটি তদন্তদল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সংবাদ সংগ্রহ পূর্ব পশ্চিমবিডি থেকে

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন