মেলার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা,চলছে উলঙ্গ নৃত্যের আসর

 

Reshmaaa-300x225
আবদুর রহিম সেলিম, উখিয়া
উখিয়ার কোটবাজারে হস্তশিল্প ও বিজয় মেলার নামে পুরোদমে চলছে অশ্লীল নৃত্য, জুয়াখেলা ও ইয়াবা সহ মাদকের বিকিকিনি। প্রশাসনের যোগসাজসে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে সন্ধ্যা থেকে সারারাত পর্যন্ত এ ধরনের বেহায়াপনা ও অসামাজিক কর্মকান্ড চলায় সচেতন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে উখিয়া উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিকট থেকে মেলার নামে বিভিন্ন শোতে অশ্লীল নৃত্য, জমজমাট জুয়ার আসরসহ মেলায় আগত মেয়েরা শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছে। আর জে আর র‌্যাফল ড্র নামের যে লটারীটি বিজয় মেলার অনুমতি নিয়ে মেলার বাহিরেও সারাদিন রাত কালোবাজারে লটারী বিক্রি করে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে উখিয়ার সহজ সরল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পকেট কাটছে মেলা কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক ভাবে আয়োজনকারীরা জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে মেলায় সামাজিক মূলক অনুষ্ঠান চালিয়ে আসলেও ইদানিং নতুন করে গরীবের পকেট কাটার আশায় নাচে নাগিন বাজে বিন এর ব্যানার টাঙ্গিয়ে বিচিত্রা অনুষ্ঠানের নামে প্রতিরাতেই চলছে উলঙ্গ নৃত্য। এ ধরনের বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ও উলঙ্গ নৃত্যের আসর নিয়ে ধর্মভিরু মানুষ ও স্কুল, কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক মহলে সামাজিক ভাবে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেওয়ার আশংকা রয়েছে। তাছাড়া আগামী ৮ ফেব্র“য়ারী ছেলে-মেয়েদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। মেলার কারণে তাদের পড়ালেখার চরম ব্যাঘাত ঘটছে। উচ্চস্বরে গান, বাজনা চলায় মেলার চারপাশের অন্ততঃ ৪ কিলোমিটারের ভিতরে যারা বসবাস করছে তারা এ পর্যন্ত একদিন ঘুমাতে পারেনি। তাছাড়া পরীক্ষার্থী ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন অভিভাবক মহল।
জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর উখিয়া উপজেলার ব্যস্ততম এলাকা কোটবাজারের পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের গুটিকয়েক নেতার সহায়তায় কোটবাজারের প্রভাবশালী একটি জুয়াড়ীচক্র জুয়া খেলা ও র‌্যাফেল ড্রর নামে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারনের জনগনের লক্ষ লক্ষ টাকা। মাসব্যাপী উক্ত বিজয় মেলার নামে এলাকায় ইয়াবা সেবন বৃদ্ধি, জুয়ার কারণে এলাকায় চুরি, ডাকাতি সহ আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির মত ঘটনা ঘটছে।
বিজয় মেলা দেখতে গিয়ে নাচে নাগিন বাজে বীন নামের বিচিত্রা অনুষ্ঠানে অশ্লীল উলঙ্গ নৃত্য দেখে অনেক পরিবার পড়েছেন বিব্রতকর অবস্থায়। তাছাড়া নামে বিজয় মেলা হলেও সেখানে প্রকাশ্যে ইয়াবা, মদ, গাঁজা বিক্রি ও সেবন, জমজমাট জুয়ার আসর, ৬গুটি খেলা, চাক খেলা, সাবান খেলা সহ সোনালী সার্কাসের নামে চলছে মেয়েদের অশ্লীল নৃত্য। গভীর রাত পর্যন্ত জুয়া খেলার ফলে প্রতিদিনই একাধিক ছিনতাইসহ চুরির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। তাছাড়া ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ মেলার মেয়াদ ১০ দিন এবং রাত ১২টার আগে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনের সহযোগিতায় সারারাত ও মাসব্যাপী এ বেহায়াপনা ও অসামাজিক কর্মকান্ড চলায় স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজয় মেলা কমিটির এক সদস্য জানান, এখানে জুয়া ও নগ্ন নৃত্য বাঁধাহীন ভাবে চলবে। কারন মেলার আয়োজনে অনেক টাকা ব্যায় করা হয়েছে। স্থানীয় প্রসাশন, রাজনৈতিক নেতাসহ সবাইকে ম্যানেজ করা হয়েছে। তাই এসব জুয়া খেলা ও নগ্ন নৃত্য না হলে টাকা গুলো উঠবে কিভাবে। একাধিক সুত্র জানায়, উখিয়া থানা প্রশাসনের পরোক্ষ সহযোগিতা থাকায় স্থানীয় জনগনের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মেলা কর্তৃপক্ষের মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার নাম ব্যবহার করে বেহায়াপনা ও অসামাজিক কিছু হলে তা অচিরেই বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানান।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন