“মেয়াদ দেখে ঔষধ কিনুন” ফার্মাসীগুলোতে চলছে প্রতারনা

 

॥ জাবেদ আবেদীন শাহীন ॥
মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ফার্মেসীতে রাখা যেমন অপরাধ তেমনি বিক্রি করা তার চেয়ে বেশী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জেলা শহর সেইসাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেয়াদ্ত্তোীর্ণ নিম্নমানের কোম্পানীর ঔষধ বিক্রির হিড়িক পড়েছে। এেেত্র প্রতারিত হচ্ছে জনগণ। দায়িত্বরত কতৃপরে চরম অবহেলায় বেশীর ভাগ ফার্মেসী বেপরোয়া

হয়ে উঠেছে। নিম্নমান সেইসাথে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ কেনাবেচার েেত্র বিভিন্ন অনিয়ম দেখা দিয়েছে। যা আদৌ কাম্য নয়।
সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ছেলে জুয়েল। হাসপাতালের নার্স আমাকে একটি ঔষধের লিষ্ট হাতে দেয়। ছেলে আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাড়াহুড়া করে হাসপাতালে সামনে ঔষধ মার্কেট থেকে ঔষধ কিনে এনে নাসের্র হাতে দিই। কিছণ পর ঐ নার্স পূনরায় এসে মেয়াদোত্তীর্ণ একটি ঔষধ বের করে ফেরত দিয়ে আরেকটি নতুন ঔষধ আনার কথা বলে। ঔষধগুলো নিয়ে ফার্মেসীতে যায়। কেন মেয়াদোত্তীর্র্ণ ঔষুধ দিলেন জিজ্ঞাসা করি। নিজেদের ভুলের জন্য নামমাত্র মাফ চায় ফার্মাসিষ্ট। পরে ঘটনাটি অন্য কাউকে না বলার জন্যও অনুরোধ জানান। কথাগুলো বলছিলেন রোগী অভিভাবক টেকপাড়ার আব্দুল হক।
কক্সবাজার জেলা সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে অধিকাংশ সেবামূলক ফার্মিসীগুলোতে চলছে ঔষুধ নিয়ে প্রতারণা। ক্রেতাভেদে একশ্রেণী ফার্মাসিষ্ট দোকানদার ইচ্ছাকৃত ভাবে ক্রেতাদের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে বেশী লাভের লোভে নিম্নমান ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এতে করে বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের মৃত্যুর ঝুঁিক। মূলত অসুস্থ ব্যক্তিরা এসব ঔষধ রোগ নিরাময়ের জন্য সেবন করে উল্টো মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছে। একশ্রেণী লোভী ফার্মেসীর মালিক অতি মূনাফার জন্য অনেক দামী ঔষধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবার পরও রেখে দেয় বিক্রির জন্য।ব্যবসায়িক কারণে শুধুমাত্র  নিজেদের চরিত্রকে বিসর্জন দিয়ে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে এসব বিষক্রীয়াজাত মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ।
জেলায় ঔষধ প্রশাসনের দায়িত্ব চরম অবহেলার ফলে ফার্মেসীগুলোতে নৈরাজ্য চলছে। নিয়মনীতি মানছে না কেউ। ঔষধ প্রশাসনে অনিয়মের ফলে ভোক্তাদেরকে দিতে হচ্ছে এর মাশুল। ফার্মেসীগুলোতে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ঔষধ প্রশাসনের অভিযান না থাকায় রীতিমত হুমকি মুখে জনস্বাস্থ্য। অভিজ্ঞমহল জানান, যেখানে ফার্মেসীগুলো মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসার কথা সেখানে ব্যবসায়ীক স্বার্থের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ বিষজাত ঔষধ দিয়ে মৃত্যুর পথে দিকে ঠেলে দিচ্ছে ভোক্তাদের। মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ বলতে আর কিছুই রইল না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা শহরে বেশিরভাগ ফার্মেসীগুলোতে ফার্মাসীষ্ট থাকার নিয়ম থাকলেও এই নিয়মে বাক্তবায়ন নেই। ফলে দোকানদাররা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে নানান ভাবে বুঝিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি প্রতিনিয়ত করছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কিছু কোম্পানীর প্রতিনিধির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে ফার্মেসীগুলো থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বিষক্রীয়া ঔষধ তুলে না নেওয়ায় লোকসানে গুণতে হচ্ছে ফার্মেসী মালিকদের। ফলে ফার্মাসীষ্ট নামধারী  কতিপয় কর্মচারীর যোগসাজসে নিরীহ ব্যক্তির কাছে সময় সুযোগ বুঝে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি করে। পুরাতন পানবাজার, লালদিঘী পাড়, হাসপাতাল সড়ক,সমিতিপারা,নতুন বাহারছড়া,পাহাড়তলী টেকপাড়া,মাঝিরঘাট, কলাতলী, রুমালিয়ারছড়া, খুরুশকুল ও শহরের আশপাশে এলাকায় প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ। এসব ঔষধ জনস্বাস্থ্য সেবনকালে মারাত্মক বিষক্রীয়া হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামের লোকজনের সরলতা সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত বিষক্রীয়াজাত ঔষধ ফার্মেসীগুলোতে বেশী বিক্রি হচ্ছে। এই েেত্র ফার্মাসিষ্ট কৌশলে ট্যাবলেটের পাতা তারিখ কেটে বিক্রি করে। আবার কখনো মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের উপর নতুন তারিখের কাগজের লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করছে। এদিকে নিত্য নতুন কোম্পানী ঔষধ বাজারজাত হওয়ার কারণে চিকিৎসক পুরাতন ঔষধ ব্যবস্থাপত্রে না লিখায় ঔষধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায় বলে জানা যায়।
ফার্মেসীর মালিক মোস্তফিজ জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া জেলায় ফার্মেসী ব্যবসা বেড়ে গেছে। কতৃপরে কোন তদারকি নেই। শহরে বিভিন্ন এলাকায় ঔষধ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কোন লাইসেন্স ছাড়াই ফার্মেসী খুলে বসেছে। তারা নিম্নমানের ঔষধের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধও বিক্রির কথা শুনেছে। এসব প্রতারনা জর‌্য আইনী ব্যবস্থায় আনায় প্রয়োজন। জনগনের সেবার কথা চিন্তা করে অচিরেই এসব প্রতারক ফার্মেসীগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। গুটিকয়েক এসব ফার্মেসী জন্যই পুরো ফার্মেসীর বদনাম।
হাসপাতালে নার্স জয়া জানান, বিভিন্ন সময় ফার্মেসী থেকে রোগীর জন্য আনা ঔষধগুলোর মধ্যে কয়েকটির মেয়াদোত্তীর্ণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে রাত্রে বেলায় ফার্মেসী লোকজন ক্রেতাদেরকে ঠকিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমাদের চোখে পড়লে রোগীর আত্মীয় স্বজনকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ফেরত দিয়ে নতুন ঔষধ আনার জন্য বলি। কতিপয় ফার্মেসী লোকজন ইচ্ছে করে অসহায় রোগীদের ঠকিয়ে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি করে থাকে।
সচেতন মহল জানান, জনগণের সেবা প্রতিষ্ঠান ফার্মেসীগুলোতে চাকরীরত কর্মচারীরা ঔষধ বিক্রি করার এ েেত্র সামান্য ভূলের জন্য বড় ধরনের মাশুল দিতে হয়। রোগীর জন্য যা হয়ে উঠে মৃত্যু। সুতরাং, সেবার কথা চিন্তা করে সবার মাঝে বৃদ্ধিপাক সচেতনতাও আত্মশুদ্ধি।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন