যৌবনবতী নাফ, সুন্দরীতমা টেকনাফ

 

trtretre
ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল [] কক্সবাজার থেকে বাসে আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে গেলাম বৃষ্টিস্নাত টেকনাফে। সূর্যদেবতা লুকিয়েছিলেন জলবালিকার ওড়নীর আড়ে। কিন্তু লুকোতে পারেন নি রূপসী যৌবনা নাফ, নাফতীর আর সবুজ পাহাড়-সাগরঘেরা সুন্দরীতমা টেকনাফকে। তবে মেঘবালিকা আগে থেকেই বোধহয় ঠিক করে রেখেছিল অপ্সরীবন্ধনে আগলে রাখার। তাই দেখালো তার উছলে পড়া জলভেজা যৌবন।

ঢাকা থেকে দেশের স্বর্গীয় সৌন্দর্যের সেন্টমার্টিনস যাবো বলে তর সইছিলো না কারও। কিন্তু সূর্যদেব, সমুদ্রদেব, বৃষ্টিদেব সবাই যেন নাখোশ আমাদের ওপর, সহযোগিতা পেলাম না কারও। তারা আমাদের কানে কানে বললো, ‘রূপসাগরে ডুব দিয়েছি অরূপ রূপের সন্ধানে…’! আমরাও তাদের কথা কায়মনে মেনে নিয়ে ডুব দিলাম অরূপ রূপে।

প্রায় ৮০ কিলোমিটারের সর্পিল রাস্তা উত্তরমুখী। প্রায় পুরোটাজুড়ে সবুজ আর সবুজ। বাঁপাশে বুকচেতিয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের পাহাড়। ডানে সৌন্দর্যের প্রহরায় আমাদের পাহাড়। মাঝ দিয়ে ছুটে চলেছে আমাদের বাহন। উখিয়া পেরিয়ে কিছুদূর গেলে রোহিঙ্গা বস্তি। পাশেই বন্যহাতির চলাচলের রাস্তা। আরেকটু এগোলে লবণচাষক্ষেত্র।

মায়ানমারের পাহাড়ের কোলঘেঁষে যৌবনরস বাহিয়ে চলেছে নাফ নদী। এপাশে ম্যানগ্রোভ বন। পাহাড়ারের খাদজুড়ে শারদীয় মেঘের উড়োউড়ি। তবু পেঁজাতুলা মেঘের রাজ্যে গোমড়ামুখো কালো মেঘ যে কেন অনাহূতের মতো আচরণ করছে কে জানে!

‘সত্যি এই পথ যদি না শেষ হয়…’ গানের কলিটি বারবার আপনার আউড়াতে ইচ্ছে করবে। কারণ সবুজ পাহাড়, সাদা মেঘের খেলা, বাদলধারার হানা আপনাকে দেবে স্বর্গীয় সুধা। আবার বলতে ইচ্ছে করতে পারে, ‘পথ হারাবো বলে এবার পথে নেমেছি…।’

পথের শেষ যেখানে সেখানেই সাগরজল। পথ ফুরলো আমাদের। বৃষ্টি বেশ আষ্টে-পৃষ্ঠে আমাদের স্বাগত জানালো। হোটেলে রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। তাই ভালো-মন্দ যাচাই না করেই উঠলাম একটিতে। ফ্রেশ হয়েই পড়লাম বেরিয়ে।

ভৌগোলিকভাবে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল টেকনাফ। শহরে পৌঁছুলে বুঝতে পারবেন এখানে মায়ানমারের প্রভাব। বাজারের পেছনের দিকটায় তৈরি হচ্ছে স্থলবন্দরের ব্রিজ। হেঁটেই চলে যাওয়া যাবে নাফের বুক চিরে। বাজারজুড়ে নানান ধরনের বার্মিজ আচার, সাবান, খাদ্যখানা, প্রসাধন সামগ্রী। দামও বেশ কম কক্সবাজারের তুলনায়।

নাফের তীরটি অসাধারণ। ওপাড়ে মেঘ-পাহাড়ের খেলা, সবুজচাদর। বিকেলে হিমবাতাসে প্রাণ জুড়োবে আপনার।

শহর থেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরে টেকনাফ বিচ। মাঝধরা ট্রলারগুলো সব কনেবাড়ির মতো সাজানো। নিজের চেয়ে যত্ন তাদের বেশি। বাংলাদেশের মৎস্যআধারের অন্যতম কেন্দ্রস্থল এটি। এ সৈকতটি অন্যরকম। মিলবে না কক্সবাজারের সঙ্গে। অনেক নিরিবিলি। কোথাও কোথাও মিশে গেছে পাহাড়-সাগর।

শামুক-ঝিনুক আরোহীরা নিবিড়চিত্তে খুটে চলেছে তাদের আরাধ্যবস্তু। দূরে প্রলংকরী ঢেউ। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, খাদ্যখানার অপর্যাপ্ততার কারণে পর্যটকদের ভিড় কম। সুযোগ-সুবিধা থাকলে এটি যে অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে সেদিকে নজর নেই কারও।

সেন্টমার্টিনস যেন সবকিছুই কেড়ে নিতে চায়, নিচ্ছে টেকনাফের কাছ থেকে। অথচ অপার সম্ভাবনা তার।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন