রামু উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন আনোয়ারা বেগম

 

wpid-anoara-beagum ranu
আহমেদুল হক চৌধুরীর আকষ্মিক
মৃত্যুতে শূণ্য হওয়া রামু উপজেলা পরিষদ
চেয়ারম্যান পদে কে আসছেন এ নিয়ে রামুতে জোর
জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বিএনপি ও
অঙ্গসংগঠনের সমর্থন পেয়ে মরহুম আহমেদুল হক
চৌধুরীর সহধর্মিনী আনোয়ারা বেগম
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার
ব্যাপারে জোর গুঞ্জন উঠেছে।
এমনকি বিএনপি দলীয় একাধিক সূত্র
আনোয়ারা বেগমের প্রতিদ্বন্ধিতার
ব্যাপারটি নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন।
গত ২১ আগষ্ট বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও
রামু-কক্সবাজার আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর
রহমান কাজল রামুতে আহমেদুল হক চৌধুরীর কবর
জেয়ারত শেষে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ
করেন। এসময় লুৎফুর রহমান কাজল জানান, দলীয়
নেতাকর্মী ও সর্বস্তুরের মানুষের চাওয়া ও দাবির
প্রতি সম্মান জানিয়ে আহমেদুল হক চৌধুরীর পরিবারের
পক্ষ থেকে যাকে প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে দলের পক্ষ
থেকে তাকে নির্বাচিত করতে সার্বিক
সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার
মাত্র চারমাস পর আহমেদুল হক চৌধুরীর
মৃত্যুতে শোকাহত রামুবাসী তাঁর
স্ত্রী আনোয়ারা বেগম অথবা বড় ছেলে মেরাজ আহমেদ
মাহিনকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী করার
ব্যাপারে নানাভাবে দাবি জানিয়ে আসছে। বিএনপি ও
অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও একই দাবিতে অনড়
রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামু উপজেলা বিএনপির কয়েকজন
সদস্য জানান, গত শনিবার (২৩ আগষ্ট) রামু
উপজেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভায় আহমেদুল হক চৌধুরীর
স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে চেয়ারম্যান
পদে প্রার্থী ঘোষনা দেয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনকি বড় ছেলে মেরাজ আহমেদ
মাহিনকেও প্রার্থী করার বিষয় নিয়েও সভায়
আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও আহমেদুল হক চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ
থেকে আনোয়ারা বেগমকে উপজেলা চেয়ারম্যান
পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আনোয়ারা বেগমের সংক্ষিপ্ত
পরিচিতি ঃ আনোয়ারা বেগম আহমেদুল হক চৌধুরীর
সহধর্মিনী। তবে এর চেয়ে বড় পরিচয় তিনি রামুর বিশিষ্ট
দানবীর, আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ
অসংখ্য শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের
প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ফজল কবির কোম্পানীর কন্যা।
আনোয়ারা বেগম ইতিপূর্বে রামুর সদর ফতেখাঁরকুল
ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মনোনীত সদস্য ছিলেন। রামু
কেন্দ্রিয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির
সাবেক নির্বাহী সদস্য ছাড়াও তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও
সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডে সক্রিয়
ভূমিকা পালন করে আসছেন।
আনোয়ারা বেগম ১৯৮১ সালে রামু উচ্চ
বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পরে চট্টগ্রাম
মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএ পাশ করেন। তাঁর
ভাই আলহাজ্ব সিরাজুল হক ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন
পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
এদিকে আহমেদুল হক চৌধুরীর মৃত্যুর পর যতই দিন
যাচ্ছে ততই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নিয়ে গুঞ্জন
চলছে। এমনকি উপজেলা বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও
জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতাও সম্ভাব্য এ
নির্বাচনে প্রার্থী হতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে।
উল্লেখ্য রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আহমেদুল হক চৌধুরী গত ১১
আগষ্ট ভারতের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
চলতি বছর ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য রামু উপজেলা পরিষদ
নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি চেয়ারম্যান
নির্বাচিত হন।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন