রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করছে সেনারা

 

rohin00rohin00মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে দেশটির সরকারি বাহিনী। রাখাইন যেন এখন নরককু-। সেই নরক থেকে বেরিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা মা লালু বেগম। তিনি জানিয়েছেন, তাদের সম্প্রদায়ের নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ১০ বছরের অধিক বয়সের কোনো বালককে পেলেই তারা তাদের হত্যা করে। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লালু বেগম এসব কথা বলেছেন। এদিকে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। এএফপি।
সিএনএনকে লালু বেগম জানান, পুরুষদের সেনাবাহিনীর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার ভাষায়, সেনাবাহিনী যখন আসে, তখন আমরা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাই। আমি জানি না আমার স্বামী জীবিত আছেন নাকি তিনি মৃত। লালু বেগম বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের কুতুপালং এলাকায় অবস্থান করছেন। তিনি সিএনএনকে বলেন, সেনারা যখন কোনো সুন্দর নারী দেখে, তখন তারা তাদের কাছে পানি চায়। এর পর তারা ঘরে ঢুকে তাদের ধর্ষণ করে।
রাখাইন রাজ্যে আনুমানিক ১০ লাখ রোহিঙ্গার বাস। জাতিসংঘের ভাষায় এরা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। এমনকি বংশ পরম্পরায় হাজার বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পর্যন্ত প্রদান করে না মিয়ানমার সরকার।
লালু বেগম বলেন, আমাদের গ্রাম যখন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, তখন আমরা অন্য গ্রামে চলে যাই। অব্যাহতভাবে অবস্থান বদলাতে থাকি। এভাবে আসতে আসতে আমরা নদীতীরে আসি। তিনি বলেন, এই আসার পথে অনেকেই তাদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন।
লালু বেগমের ভাবী নাসিমা খাতুন সিএনএনকে বলেন, যাত্রা শুরু করার সময়ে আমরা ছয়জন ছিলাম। আমরা পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়েছি। আমার স্বামী ও এক পুত্রকে হত্যা করা হয়েছে। আরেক পুত্র নিখোঁজ রয়েছে।
জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার কর্মকর্তা জন ম্যাককেসিক বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর ‘যৌথ নিপীড়ন’ চালাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসেবে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ৮৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ।মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ আরো ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তে। রাখাইনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এ লক্ষ্যে মংডু থানার কুয়ারবিল এলাকার ঝোপ-জঙ্গলে আত্মগোপন করে আছে। সুযোগ বুঝে নাফ নদী পার হয়ে তারা টেকনাফের ঝিমংখালী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড-বিজিবি এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মুখে অনেকের চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গাদের সঙ্গে গোপন স্থান থেকে যোগাযোগ করে প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করাও হচ্ছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত টেকনাফ সীমান্তের ৩টি পয়েন্ট থেকে রোহিঙ্গা বহনকারী ৪টি নৌকা মিয়ানমারের দিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিজিবির নজরদারির মধ্যেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দালালদের মাধ্যমে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। তারা বলছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় রাখাইনরাও (মগ) ধর্ষণ, প্রকাশ্যে জবাই, শিশুদের আগুনে নিক্ষেপ, মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে অংশ নিচ্ছে।
শুক্রবার সীমান্ত অতিক্রম করে উখিয়ার কুতুপালং আনরেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আতংকিত মানুষগুলো বলছেন, রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনী পেট্রোল ঢেলে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে। সেখানে ধর্ষণের শিকার দেড়শ’ নারী উখিয়ার এক শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। জীবন নিয়ে পালিয়ে আসা আতংকিত মানুষগুলো নিজ বাসভূমে ফিরতে চাচ্ছে না।
জানা গেছে, টেকনাফের আনরেজিস্টার্ড ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া নির্যাতিতদের বাইরেও উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে গত কয়েকদিনে অন্তত ৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ভয়ংকর তথ্য জানা গেছে। মাতৃভূমি ছেড়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া ভুক্তভোগীরা বলেছেন, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে জবাই করছে। বিভিন্ন বয়সী নারীদের ধর্ষণ ছাড়াও ঘরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের আটকে রেখে বাইরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়া হচ্ছে। অসহায় মানুষকে তারা পুড়িয়ে হত্যা করছে। বাড়িঘরে আগুন দেয়ার আগে মালামাল লুট করা হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও চলছে লুটপাট। ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণকারীদের যেসব স্বজন মিয়ানমারের সীমান্তে এসে বাংলাদেশে ঢোকার জন্য অপেক্ষমাণ তাদের কয়েকজনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে সেখানকার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া গেছে।
শনিবার কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানার কুতুপালং আনরেজিস্টার্ড মুসলিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে গা শিউরে ওঠার মতো অনেক অজানা তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে রাখাইন রাজ্যের মংডু থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে। কথা বলার সময় সবার চোখে-মুখে ছিল চরম আতংক। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানেন না ‘এখানে ঠিক কত দিন থাকতে পারবেন’। যারা আসতে পারেননি তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে কেউ বলতে পারছেন না। তবে কেউ কেউ অত্যন্ত গোপনে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে স্বজনদের খবর নেয়ার চেষ্টা করছেন।
এদের মধ্যে মংডু থানাধীন লুদাই গ্রামের মৃত ছালামত উল্লাহর ছেলে নূর কবিরের বর্ণনায় উঠে এসেছে তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতবিক্ষত হওয়ার কাহিনী। ৩০ বছর বয়সী নূর কবির বলেন, তার ৫ বিঘা ধানী জমি ছিল। তা কেড়ে নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। এরপর পরিবারের ১১ সদস্যের মধ্যে পুরুষরা আশ্রয় নেয় ঝোপঝাড়ের মধ্যে। মেয়েরা আশপাশের বাড়িঘরে আশ্রয় নেয়ার জন্য ছোটাছুটি শুরু করে। এরই মধ্যে তার ২৫ বছর বয়সী এক বোন হাসিনাকে ধরে নিয়ে যায় সেনারা। এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয়। একদিন পর হাসিনার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়।
নুর কবির যখন কথা বলছিলেন ‘তখন তার চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছিল’। তিনি বলেন, আমার বোনটাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ডরা। তার ৩ বছরের ছেলে আফতাব এবং ৬ মাসের মেয়ে রেহেনাকে আগুনে ফেলে হত্যা করে তারা। আমার ৮ বোনের মধ্যে বাকি ৭ বোন এবং ২ ভাইয়ের কোনো খবর পাচ্ছি না। তারা বেঁচে আছে কিনা তাও জানি না। আমাদের পুরো পরিবারটাকেই নিঃশেষ করে দিয়েছে ওরা। নুর কবির জানান, এক সময় ভোটার তালিকায় তার নাম ছিল কিন্তু কিছুদিন আগে তারা বলে তোমরা এ দেশের নাগরিক না। এজন্য ভোটার তালিকা থেকে নামটিও কেটে দেয়া হয়। তার ধানী জমি ছাড়াও একটি দোকান ছিল। কয়েকদিন আগে সে দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে তারা। পরে দোকানটি পুড়িয়ে দেয়া হয়।
নাইসাপ্রু গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদ সেলিমের স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগম ছোট ছোট ৩ সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন কুতুপালং শিবিরে। এদিন তিনি বলেন, সে দেশের সেনাবাহিনী আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে জবাই করেছে। তার এ পরিণতি কাছ থেকে দেখতে হয়েছে আমাকে। এরপর আমি নিরাপত্তার জন্য বাচ্চাদের নিয়ে বার্মার কুমারখালী সীমান্তে পৌঁছে এক দালালের মাধ্যমে পালিয়ে আসি। বাচ্চাদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নদী পার হয়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে এখানে আশ্রয় নেই। ছেনুয়ারা বলেন, তাদের বাড়ির আশপাশের কয়েকটি বাড়ির অনেক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কেউ এতে রাজি না হলে সেনাসদস্যরা বুট জুতা দিয়ে বুকের ওপর পা রেখে তাকে নির্যাতন করে। সেনারা যখন গ্রামে ঢুকে তখন পুরুষরা জীবনের ভয়ে পালাতে থাকে। এ সুযোগে অসহায় নারীদের ওপর চলে বর্বর নির্যাতন। তাদের বাড়ির পাশের ছৈয়দ হোসেন, ধলু মিয়া ও গুরা মিয়াকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মংডু নাইচং গ্রামের আবুল কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, তার ভাই নুর মোহাম্মদ (৪০) এবং তার শ্বশুর আবদুর রহিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুধু তা-ই নয়। সেনারা নুর মোহাম্মদের ৪ বছরের কন্যাসন্তান সানজিদাকে হত্যার পর লাশটি আগুনে নিক্ষেপ করে। এরপর তাদের বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
স্ত্রী, সন্তান নিয়ে পালিয়ে আসেন মংডু থানার খেয়ারীপাড়া গ্রামের মোস্তফা মাঝির ছেলে রমজান আলী (৪০)। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমার ১৭ বছর বয়সী ছোট ভাই রফিককে জবাই করেছে। লুটপাটের পর আমার বাড়িটি পুড়িয়ে দিয়েছে। ৪টি হালের বলদ ছিল তাও নিয়ে যায়। রফিকের ব্যবসা ছিল। মালামাল লুট করে দোকানটিও পুড়িয়ে দেয়া হয়।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া জুবায়েরে বলেন, তার বাবার নাম আমির হোসেন। বাড়ি রাখাইন রাজ্যের মংডু থানাধীন মিয়াজান পাড়া গ্রামে। সে দেশের সেনাবাহিনী তার বংশের ১৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এছাড়া তার বাবা এবং শ্বশুরসহ যাদের ধরে নিয়ে গেছে তাদের ফেরত পাওয়ারও আশা নেই। তিনি বলেন, স্থানীয় বলি বাজারে আমার মনোহরি দোকান ছিল। দোকানটি লুটপাট হয়েছে। এমনকি আমার বাড়িতে কিছু নগদ টাকা ও স্বর্ণের গহনা ছিল সেগুলোও নিয়ে গেছে তারা।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বর্বর চিত্র৬০ বছর বয়সী হামিদা খাতুন বলেন, তার মেয়ে ছমুদার স্বামী নুরুল ইসলামকে হত্যার পর লাশ টেনে রাস্তায় নিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। কাউকে হত্যার পর তার জানাজাও পড়তে দেয়া হয় না। এমনকি লাশটি যে মাটিতে দাফন করা হবে আমরা সে সুযোগও পাই না। আমাদের ওপর কেন এ নির্যাতন নিজেরাও জানি না। তিনি বলেন, আমার আর কেউ থাকলো না। সে দেশে আমি আর কীভাবে ফিরব? পাশের গ্রাম খেয়ারীপাড়ার আবু আলমের ২৫ বছর বয়সী ছেলে শাহআলম ৩ দিন আগে এ ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, তার ভাই রফিক ও বোন নুর জাহানকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার ৫ ভাই ও পরিবারের স্বজনসহ ১৩ জনকে ধরে নিয়ে গেছে। তারা বেঁচে আছেন কিনা জানি না। আমার বাড়ি ও ৩টি গরুসহ গোয়ালঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
৫০ বছর বয়সী হামিদা খাতুনের ঘটনা আরও করুণ। তার স্বামীর নাম ছালামত উল্লাহ। বাড়ি মংডু থানার নাইসপ্রু সাতঘড়িয়া পাড়ায়। তিনি বলেন, আমার স্বামী, দেবর এহসান উল্লাহ, রুহুল আমিন, আমার চাচাতো ভাই আমিন উল্লাহ, প্রতিবেশী লালমিয়া, এজাহার মিয়া, সরুজন ও গুরা মিয়াকে বাড়ি থেকে আটকের পর রাস্তায় নিয়ে এক লাইনে দাঁড় করায়। এরপর সবাইকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। হামিদা খাতুন জানান, ওই একই দিন ১৪-১৫ জনকে একই ভাবে হত্যা করা হয়। এছাড়া তার চেনাজানা ৩০টি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। যেসব শিশু বেঁচে ছিল তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে বুট জুতা দিয়ে পিষে রক্তাক্ত করা হয়। ধর্ষণের শিকার ওই ৩০ নারী কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি। তাদের কেউ কেউ লজ্জায় আত্মহত্যা করতে চান।
কুতুপালং আনরেজিস্টার্ড শিবিরে আশ্রয়গ্রহণকারী নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ওই ক্যাম্পের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুর বলেন, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর দিন দিন হত্যা-নির্যাতন বেড়েই চলছে। কেউ সর্বস্ব হারিয়ে, কেউ জীবন রক্ষার তাগিদে পালিয়ে এখানে আশ্রয় নিচ্ছেন। ১০ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ হাজার রোহিঙ্গা এখানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান তিনি। নতুন করে যারা আসছেন আগে থেকে অবস্থানকারীরা তাদের ঘরে আশ্রয় দিচ্ছেন। ক্যাম্পের ছোট ছোট একেকটি রুমে ১০-১২ জন করে কোনোমতে মাথা গুজে আছে। এমনিতেই আগে থেকে যেসব রোহিঙ্গা এ ক্যাম্পে আছে তারা এক বেলা খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন। তার ওপর প্রতিদিনই বাড়ছে নতুনদের চাপ। নুর মোহাম্মদ জানান, তাদের ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া নারীদের মধ্যে অন্তত দেড়শ’জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে তাকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পে ৩৫ হাজার ৫৬৫ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে নতুন রোহিঙ্গারা যোগ হচ্ছেন।
এদিকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ। বিজিবি মহাপরিচালক শুক্রবার সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে যাওয়ার পর অধীনস্তদের কড়া নির্দেশনা দিয়ে যান। বিজিবি ব্যাটালিয়ন ২-এর অধিনায়ক আবুজার আল জাহিদ শনিবার জানিয়েছেন, সীমান্তের ৩টি পয়েন্টে রোহিঙ্গা বোঝাই ৪টি নৌকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি আবদুল মজিদ শনিবার বিকেলে জানান, সীমান্তে নজরদারির জন্য ১০টি পয়েন্টে সাদা পোশাকে শতাধিক পুলিশ সদস্য টহল দিচ্ছেন। দালালদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদের সংখ্যা ৪০। এর মধ্যে ১৩ জনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় দেশে দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। বাংলাদেশের পর মালয়েশিয়াও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলবের ঘোষণা দিয়েছে। অং সান সুচির নোবেল প্রত্যাহারের দাবি এসেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। বিক্ষোভ হচ্ছে থাইল্যান্ডে। সেইসঙ্গে অং সান সুচির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন