লাইলি-মজনুর প্রেমকেও হার মানাতে পারে রনি-যুথীর প্রেম!

 

laliচট্টগ্রাম : প্রেম মানে না জাত-কুল, প্রেম মানে না ধর্ম বর্ণ, এ যেন চিরন্তন সত্য। তারই প্রমাণ মিললো চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির রনি-যুথীর প্রেম কাহিনীতে। তাদের এই প্রেম লাইলি-মজনুর প্রেমকেও হার মানাতে পারে বলে উপস্থিত অনেকে মন্তব্য করেছেন।

রনির পুরো নাম রনি কান্তি দে। রনি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের রাজা রাস্তার বাড়ির মৃত ধনা কান্তি দে’র ছেলে। সবেমাত্র ফটিকছড়ি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে রনি। তাদের পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসলিম পরিবারের মেয়ে জান্নাতুল নাঈমা যুথীর সঙ্গে গত পাঁচ বছর ধরে মন দেয়া-নেয়া চলে আসছে তার। যুথী স্থানীয় কাঞ্চনহাট দাখিল মাদরাসা থেকে দুই বছর আগে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে থামিয়ে দেয় শিক্ষা জীবন। দুজন দুই ধর্মাবলম্বী হলেও তাদের প্রেমে ফাটল সৃষ্টি হয়নি বিন্দু পরিমাণও। উভয় পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েক দফা সালিশি বৈঠক হয় তাদের এই প্রেম নিয়ে। উভয় পরিবার থেকে শারীরিক অত্যাচারের শেষটুকু হজম করে। কিন্তু মেয়ের পরিবার যখন জোর করে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার দিনক্ষণ ঠিক করেন, তখনই পাল্টে যায় চিত্র। প্রেমিক জুটি সিদ্ধান্ত নেয় পালিয়ে যাবে অজানা উদ্দেশে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত শুক্রবার সকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও ছেলেটি বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। তার পরিবার বিষয়টি টের পেয়ে আটকে রাখে রনিকে। জব্ধ করে ফেলা হয় তার মুঠোফোনটি। মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করতে চাইলেও ব্যর্থ হয়। পরে মেয়েটি তারেক নামের তাদের এক বন্ধুর সহায়তায় পালিয়ে যায় কুমিল্লায়। সেখানে তাদের পরিচিত এক বাসায় আশ্রয় নেয়। প্রেমিক রনি কৌশলে বন্দি থেকে পালিয়ে প্রেমিকার কাছে ছুটে যায়। পালিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই মেয়ের পরিবার তাদের সহযোগী তারেককে ধরে বেধড়ক পিটিয়ে অবস্থান জেনে নেন। শনিবার সকালে গোপনে সেখানে গিয়ে উভয়কে নিয়ে এসে ফটিকছড়ি থানায় সোপর্দ করেন। শনিবার রাতে থানা হাজতে কথা হয় প্রেমিকজুটির সঙ্গে।

প্রেমিকা জান্নাতুল নাঈমা যুথী বলে, আমি এভাবে পালিয়ে পরিবারকে ছোট করতে চাইনি। বাধ্য হয়ে পালিয়ে গেছি। আমি রনির জন্য পৃথিবীও ছাড়তে রাজি।

প্রেমিক রনি কান্তি দে বলে, আমি যুথীর জন্য ধর্ম, পরিবারও ত্যাগ করতে প্রস্তুত। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে যুথীকে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চাই।

সরজমিন দেখা যায়, থানা হাজতে উভয়কে আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। ছেলেপক্ষের কাউকে পাওয়া না গেলেও মেয়ের বাবা আবুল বশর এসেছেন ছেলেটির বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করতে। মামলা দায়ের করে চলে যাওয়ার সময় কিছু কিনে খেতে মেয়ের হাতে দিয়ে যান কিছু টাকা। সেই টাকা দিয়ে মেয়েটি কিছু জুস, কেক আর কলা কিনে আনলো এক পুলিশ কনস্টেবল দিয়ে। আর সেই সব খাবার নিজে না খেয়ে পাঠিয়ে দিলো প্রেমিক রনি কান্তি দে’র কাছে। রনিও যখন শুনলো তার যুথী পাঠিয়েছে, তখনই দু’হাত বাড়িয়ে লুফে নিলো সেসব খাবার।

ফটিকছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, মেয়ের বাবা বাদী হয়ে রনির বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। অপহরণ মামলার প্রেক্ষিতে তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন