শাহপরীরদ্বীপে আলীর জোহারের নেতৃত্বে ১৪ জন দালাল বেপরোয়াঃ চলছে রমরমা বাণিজ্যে

 

বিশেষ প্রতিনিধি[]
শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়ার পেশাদার রোহিঙ্গা মানবপাচারকারী দালালেরা রোহিঙ্গা পারাপার, মুক্তিপনের নামে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জালিয়াপাড়ার আলীর জোহারের নেতৃত্বে ১৪ জন দালাল রোহিঙ্গা পারাপার, মুক্তিপণ ও রোহিঙ্গাদের সাথে নিয়ে আসা গরু মহিষ আটক করে এসব টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যা মানবতা বিরুধী। ইতিপূর্বে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার করে আসলেও ওরা অধরা রয়েছে। সম্প্রতি মিয়ানমারে আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমান ও রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গারা প্রাণভয়ে টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন প্রয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটে। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ সহায়তা করার নামে শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়া দিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে এভাবে লাখ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিচ্ছে বলে এলাকায় ব্যাপক জনশ্রুত রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়ার সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র এ সুযোগকে পূঁজি করে ট্রলার ও নৌকা যোগে মিয়ানমার আরাকান থেকে রোহিঙ্গা পাচার করে নিয়ে আসছে নিয়ে আসছে। ওরা জনপ্রতি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে উর্ধে ৩০ হাজার টাকা এবং নারীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে ঢালাওভাবে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করছে। এমনকি যেসব রোহিঙ্গা টাকা দিতে অক্ষম ওদেরকে বাড়ীতে জিম্মি করে রাখে এবং পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে বলে ও অভিযোগ রয়েছে। জালিয়াপাড়ার ১৪ জনের একটি দালালচক্র রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সহায়তা করার নামে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে কাটি কাটি টাকা কামাচ্ছে। এভাবে ঢালাওভাবে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করতে উৎসাহিত করছে ওরা। অহরহ মাছধরার ট্রলার ও নৌকা নিয়োজিত করে ট্রানজিটের ন্যায় রোহিঙ্গা পারাপারে ওরা ব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের নাম ভাংগিয়ে ওরা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে বলে জালিয়াপাড়াসহ শাহপরীরদ্বীপে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। গভীর রাত হলেই রোহিঙ্গা পারাপারের রমরমা বাণিজ্য চলে। এর পাশা পাশি চলছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসা গরু মহিশ ক্রয় করার নামে দালালেরা ব্যবসায়ীদের হাতে ধরিয়ে দেয় এবং স্বল্প টাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিদায় করে দেয়। এতে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা প্রতারণার শিকার হয়ে ওরা নিশ্বাবস্থায় মূখ বেজার করে বসে থাকে। এছাড়া বিত্তশালী রোহিঙ্গা নারী পুরুষদের গোপন বাড়ীতে জিম্মি করে রাখে এবং মোবাইল ফোনে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। আলোচিত দালালেরা হচ্ছেন, জালিয়াপাড়ার আবুল কালাম, ফরিদ আলম, আলী জোহার, নুর কামাল, নুরুল ইসলাম, মনির আলম, নুরুল আলম, নাজিমুল্লাহ নুর মাঝি, আব্দুস শুকুর, আব্দুল কালাম, সাইয়েদ আলম, হারুন বদী, রহীমুল্লাহ। আরো অভিযোগ রয়েছে যে, রোহিঙ্গা মানব পাচারের পাশাপাশি ইয়াবা, স্বর্ণ ও ডাইমেন্ট পাথর পাচারে সাথে জড়িত থাকলেও আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে কেন? ওরা আটক হচ্ছেনা। তাই নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ওদের নাকি খুঁটির জোর বেশী। কথিত আলী জোহার নামে চোরাকারবারী ঐ সিন্ডিকেটের মেইন হোতা। সে স্বর্ণ ও ডাইমন্ট পাথর চোরাই ব্যবসা করে অডেল টাকা ও সম্পদের মালিক বনে গেছেন অল্প সময়ে। গত ১৩ সেপ্টম্বর তাদের নেতৃত্বে আনা ৪৫ জন রোহিঙ্গা ট্রলার বোঝাই করে জালিয়াপাড়ায় আসার পথে নাফ নদীতে ডুবে যায়। এর মধ্যে ৪ জন নিহত হলেও বাকিদের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এপ্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইনউদ্দিনের সাথে ফোনে আলাপ করলে, দালালের সঠিক তালিকা পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন