শিলখালীতে বিয়ে বাড়িতে নববধুকে পালাক্রমে গণধর্ষন,লুঠপাট-মহিলাসহ আহত-১০!

 

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী
কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিয়ে বাড়িতে সেই চিহ্নিত অস্ত্রধারী বখাটেরদল হানা দিয়ে নববধু’কে গণধর্ষন, ব্যাপক লুঠপাট চালিয়ে মহিলাসহ ১০জনকে আহত করার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘঠেছে, গতপরশু বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি মহল্লা পূর্ব ভারুয়াখালী সবুজপাড়া এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের কাঁচারীমুরা ষ্টেশনের পূর্বস্থ্য পাহাড়ি মহল্লা পূর্ব ভারুয়াখালী এলাকার সবুজপাড়ায় স্থানীয় লাইলার বাপেরবাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্টানে স্থানীয় পূর্ব ভারুয়াখালী এলাকার বজল আহমদের পুত্র ওয়াহিদ, বারবাকিয়া ভারুয়াখালী এলাকার আহমদ ছফার পুত্র রুবেল, আবুল হোসনের পুত্র আরফান, মুনশি মিয়ার পুত্র, সর্দ্দার মাহাবু আলমের পুত্র জামাল উদ্দিনের পুত্র প্ররোচিত আলী আহমদ প্রকাশ কালু হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়ক নেজামুদ্দিন, খালেদা বরো পোঁয়া মিয়াজান ও বদিআলমের পুত্র গফুর এর নেতৃত্বে প্রায় ১০-১৫জনের সমন্বয়ে গড়া চিহ্নিত অস্ত্রধারী বখাটেরদল হানা দেয়। এসময় তারা সেখানে অস্ত্র দিয়ে পিঠিয়ে ও জিম্মি করে বিয়ে আসরের বর যাত্রী সহ সকলকে ঘরের ভিতরে আটকিয়ে রাখে। তখন সেখানে অবস্থানকারী সকলের ব্যবহৃত প্রায় ১৫-২০টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে, ওই বিয়ে বাড়িতে ব্যাপক লুঠপাট চালিয়ে কয়েক ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, দামী কাপড় চোপড়, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা সহ আনুমানিক প্রায় ২-৩লাখ টাকার মালামাল লুঠে নেয় এবং নববধু জিয়াছমিন আক্তার(২০)কে’ পালাক্রমে গণধর্ষনের ঘটনা ঘঠায়। এঘটনায় মোঃ আলম(১৬), লাইলা বেগম(৫০), পেঠান(৬২), মর্তুজা(২৫), নরুন্নাহার(৪৭), বর ফরিদুল আলম(২৫) সহ প্রায় ৮/১০জন লোক আহত হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি শিলখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোঃ নুরুল হোছাইনকে অবহিত করলে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সহ গণ্যমান্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠান এবং মুঠোফোনে বিষয়টি পেকুয়া থানার ওসি মোঃ আবদুর রকিবকে অবহিত করেন। এদিকে, স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সাম্প্রতিককালে শিলখালী ইউপি’র ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আওয়ামীলীগ নেতা জামাল উদ্দিনের প্রাণনাশ চেষ্টায় হাতের কবজি কেটে নেয়ার ঘটনার জের ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোঃ নুরুল হোছাইন চিহ্নিত এ বখাটেদলকে অস্ত্র জোগান সহ সার্বিক পৃষ্টপোষকতা দেয়। আর এ আস্কারা পাওয়ার পর থেকে তারা হয়ে পড়েছে চরম বেপরোয়া হয়ে এলাকায় একের পর এক গণধর্ষন, গণডাকাতি, পাহাড়ের জায়গা জমি দখল বেদখল, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন বনজ সম্পদ পাঁচার সহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ ও অপরাধ মুলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনজিবনে নিরাপত্তহীন করলেও তাদের অভিভাবকদের সাথে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নুরুল হোছাইনের সখ্যতা ও চত্রচ্ছায়ার কারনে ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, একই সাথে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ চৌকিদার ছাবের আহমদের সাথে অস্ত্রধারী বখাটেদলের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ সখ্যতা থাকায় তাদের উৎপাতের বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশ বা প্রশাসনকেও অবহিত করেও কোন ধরনের প্রতিকার মিলছেনা বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসী। পেকুয়া থানার ওসি মোঃ আবদুর রকিব বিয়ে বাড়িতে অস্ত্রধারী বখাটেদলের হানা, লুঠপাট ও গণধর্ষনের বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি মন্তব্য করে বলেন, তবে, খোঁজ-খবর নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন