সর্বত্রে মিয়ানমারের সিগারেটে বাজার সয়লাব : রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

 

IMG_20151027_122632-300x151
মুহাম্মদ হোসাইন :

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেদারছে আসছে সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের জিইএম, উইন, এমজি সিগারেট। বিশিষ্টজনের ধারণা, এসব সিগারেট ১০টি পয়েন্ট ঘুমধুম, তুম্ভ্রু, নয়াপাড়া, মন্ডল পাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ি, বালুখালি, পালংখালী, হোয়াইক্ষ্যং, দমদমিয়া, হ্নীলা, সেন্টমার্টিন দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে ।

সীমান্তরক্ষিবাহীনির সদস্যদের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে উখিয়া, টেকনাফ, রামু, কক্সবাজার সদররের প্রত্যন্ত গ্রামিণ দোকানিরা বিভিন্ন দামধরে এসব অবৈধ সিগারেটে বিক্রি করছে। উখিয়া-টেকনাফের বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখাযায়, একটি শক্তিশালী কালোবাজারি চক্র এটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

বাংলাদেশে নিয়ে এসে পাহাড়ের গহীনে মওজুদ রেখে নির্ধারিত এজেন্টদের মাধ্যমে সব জায়গায় পৌঁছিয়ে দেয়। তারা সপ্তাহ অন্তর পানের ও মুদির দোকানিদের নিকট মওজুদ পরিমাণ সিগারেট দিয়ে যায় বলে জানান মুদির দোকানদাররা।

বিশেষ করে , টেকনাফ সদর, শাহপরীরদ্বীপ, হ্নীলা বাজার, মিনা বাজার, হোয়াইক্ষ্যং স্টেশন, উখিয়ার পালংখালী, বালুখালী, কুতুপালং বাজার, উখিয়া স্টেশন, কোটবাজার, ভালুকিয়ার হারুণ মার্কেট, মরিচ্যা পালং, সোনার পাড়া বাজার , পাতারবাড়ি বাজার, ইনানী বাজার, রামুর খুনিয়া পালং ও কক্সবাজার শহরের আশেপাশে মায়ানমারের সিগারেট বিক্রয় হচ্ছে।

IMG_20151027_122632
উখিয়ার আব্দুল গফুর পুতিয়া নামের এক মুদির দোকানদার বলেন, মায়ানমারের সিগারেটের মধ্যে জিইএম, উইন, এমজি বেশি আসছে। যা সময়ে সময়ে কিছু ছদ্মবেশী লোক আমাদের দোকানে দিয়ে যায়। অথবা কারো প্রয়োজন হলে এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়ে আসে। এক ডান্ডা জিইএমের দাম ২৫০/২৮০ টাকা, আর আমাদের বিক্রি প্রতি প্যাকেট ২৮ টাকা। উইনটা এক ডান্ডা ১৭৫ টাকা আমরা এক প্যাকেট ২২/২৩ টাকায় বিক্রি করি। এমজিটা এক ডান্ডা ১৯০ টাকা বিক্রি প্রতি প্যাকেট ২২ টাকা।

তার দোকানে খুচরা আকারে সিগারেট বিক্রির সময় দেখাযায়, “লাল রংয়ের একটি প্যাকেট” যা দেখতে বাংলাদেশে ব্যবহৃত গোল্ড লিফের প্যাকেটের অনুরুপ। আরো দেখাযায়, প্যাকেটে ভ্যাট-ট্যাক্স পেইট লিখা “আইআরডি- সি ওয়ান”, যা মায়ানমার সরকারের কাস্টমসের একটি স্টিকার। স্থানিয়দের সাথে কথাবলে আরো জানাগেছে, এগুলো বাংলাদেশের গোল্ডলিফ ও ভ্যানসনের অনুরুপ স্বাদের মতোই। যার কারণে মানুষ এসবের ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। সোনার পাড়া গ্রামের সুপাারী ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, আমাদের দেশে সীমান্ত চৌঁকি ফাঁকি দিয়ে মরণ নেশা ইয়াবার ন্যায় এসব তামাক- সিগারেট কিভাবে আসছে তা বুঝে উঠা আসলে মুশকিল। অবৈধভাবে সিগারেট নিয়ে আসা সিন্ডিকেটদের যদি আইনের আওতায় আনা না যায়, তাহলে তারা পূরো বাংলাদেশে সয়লাব করবে। এতে বাংলাদেশ বিশাল একটা রাজস্ব হারাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এসব লাল সিগারেট গুলো , এখন যে কোন পানের দোকানি, মুদির দোকানির নিকট পাওয়া যায়। এমন কি গ্রাম অঞ্চলের প্রায় চায়ের দোকানে পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার সকালের কক্সবাজারকে বলেন, আমরা বিষয়টি জানি , গেল সপ্তাহেও বেশ কিছু সিগারেট আটক করেছি। আমাদের তথ্যনুযায়ী ১৮ টি পয়েন্ট দিয়ে সিগারেট আসছে। এরমধ্যে আমরা প্রতিদিন কম বেশি সিগারেট আটক করছি। গেল বছরের অক্টোবরের দিকে তুম্ভ্র থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট আটকের পর চোরাকারবারিরা একজন-দুইজন করে এসব সিগারেট নিয়ে আসছে। তবে আমরা উপজেলা পর্যায়ের আইন শৃঙখলা মিটিংয়ে ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।
অন্যদিকে জেলার কতিপয় লোক ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে মায়ানমার হতে বিভিন্ন মালামাল অবৈধভাবে বাংলাদেশে নিয়ে এসে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছে বলেও জানাগেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্টান “ ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক গেল বছরের ২ নভেম্বর প্রকাশিত “ফাইনান্সিয়াল সিকিউরিটি ইনডেক্স ২০১৫” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে, ১০ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা আমদানি-রপ্তানি পণ্যের মূল্য অবমূল্যায়নের মাধ্যমে এবং অন্যান্য অবৈধ উপায়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদি সরকার এ বিষয়ে আশু প্রদক্ষেপ নিতে না পারে তাহলে এক ভয়াল অর্থনৈতিক মন্দাভাব দেখা দিতে পারে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন