সহসাই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না মিয়ানমার

 

rohinga
ডেস্ক রিপোর্ট
রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের অধিবাসীদের নেতিবাচক মনোভাব আছে। সে কারণে বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের সে দেশে ফেরত পাঠাতে আরও অনেক সময় লাগবে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ইউ নি পো বলেছেন, প্রদেশের বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে অনেক সময় লাগবে। কাজেই বর্তমান পরিস্থিতিতে অং সান সু চির এনএলডি সরকারের পক্ষে শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী যারা স্থানীয়ভাবে তাতমাদু নামে পরিচিত, তাদের সংকীর্ণ মনোভাবের কারণে এটিকে জিইয়ে রাখতে চায়, আবার এটি নিয়ে সমাধানের পথে অগ্রসর হতেও চায় না।
এদিকে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ও মিয়ানমার ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সদস্য উইন লেউইন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু বিষয়টি এতই বিব্রতকর যে সু চির পক্ষেও তা সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, রোহিঙ্গারা চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এসেছে এবং তাদের চট্টগ্রামের মুসলিম বলেই ডাকা উচিত।
তিনি বলেন, ১৩৫টি নৃগোষ্ঠীর পক্ষে রোহিঙ্গা শব্দটি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার না করলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা ভালো বিবেচিত হবে।

মিয়ানমার ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চেয়ারম্যান নিউন্ট মাউং সেইন বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক বিষয় থাকে এবং বাংলাদেশ এ বিষয়টি দূরে সরিয়ে রেখে অন্যান্য বিষয়গুলো আলোচনা করলে সম্পর্ক ভালো হবে।

মিয়ানমারের জার্নালিজম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক থিহা সো বলেন, আগে রোহিঙ্গা শব্দটি বিভিন্ন সরকারি নথিপত্রে ব্যবহার করা হতো। এটি একটি প্রহসন যে এখন তারা বলছে কোনও রোহিঙ্গা নেই।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বসতিএদিকে রাখাইন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ইউ নি পো মিয়ানমার টাইমস পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এ প্রদেশের বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা এনএলডির এক মেয়াদের (পাঁচ বছর) সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের আরও সময় দরকার। তাদেরকে একবারে ঐক্যবদ্ধ করা অসম্ভব। আমাদেরকে ধাপে ধাপে কাজ করতে হবে। তাই আমাদের পাঁচ বছরের এক মেয়াদে এই কাজ করা সম্ভব নয়।

জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনারের তথ্য অনুযায়ী জাতিগত দাঙ্গার কারণে ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমরা ব্যাপক হারে বাংলাদেশে পালাতে শুরু করে। আবার ১৯৯১-৯২ সালে জাতিগত দাঙ্গার সময়ে আবার তারা বাংলাদেশে পালাতে শুরু করে।

দীর্ঘ আলোচনার পরে উদ্বাস্তু বিষয়ক হাই কমিশনার অফিসের সহায়তায় উভয় দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছায় এবং ১৯৯১-৯২ সালে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন শুরু হয়।

গত ২০১২ সালে আবার জাতিগত দাঙ্গা শুরু হলে আবার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের দিতে যেতে শুরু করে। বর্তমানে বাংলাদেশে দুই থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাস করে বলে ধারণা করা হলেও সঠিক কোনও পরিসংখ্যান নেই। তাদের কারণে বাংলাদেশে সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার ইউ থ্যান্ট কিআউ এর মধ্যে এক বৈঠকে মিয়ানমার ২০১৫ জন মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত নিতে রাজি হয় কিন্তু এখনও তারা ফেরত যেতে পারেনি।

এদিকে মিয়ানমার সরকার ২০১৪ সালের মার্চে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং ২০১৪ সালে আদমশুমারিতে রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলে নিবন্ধন করার নির্দেশ দেয়।

মিয়ানমারে একটি উগ্রবাদি বৌদ্ধ গ্রুপ যারা মাবাথা নামে পরিচিত তারা গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের এক বক্তব্যে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেছে।

মিয়ানমার মিডিয়া অনুযায়ী, মাবাথা গ্রুপ ১৫ হাজার লোক নিয়ে বৃহস্পতিবার আবার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করবে।

সূত্র-বাংলা ট্রিবিউন।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন