সাংবাদিকদের বললেন এমপি বদি, ইয়াবা কি ভূতে আনে?

 


‘আপনারা বলেন শুধু টেকনাফ দিয়েই ইয়াবা ট্যাবলেট আসছে। আমার প্রশ্ন, এসব ইয়াবা কী ভূতে আনে? যারা আনছে, তাদের ধরেন।’ গতকাল দুপুরে ঢাকার পিলখানায় মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কক্সবাজার-৪ আসনের (টেকনাফ-উখিয়া) এমপি আবদুর রহমান বদি এসব কথা বলেন।
পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সীমান্ত সমস্যা ও সমাধান’ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় সীমান্তবর্তী এলাকার ৩৩ এমপি উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

এমপি বদি বলেন, রোহিঙ্গারা চলে আসায় সীমান্তপথে এখন ইয়াবা ট্যাবলেট আসে না। আসে সমুদ্রপথে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরামর্শ দিয়েছি, শুধু ইয়াবা ট্যাবলেট ধরলেই হবে নাÑ কারা আনে, ওই রহস্যও উদ্ঘাটন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু টেকনাফের কথাই বারবার আসে। আমাদের এত ফোর্স আছে। ফোর্স বাড়িয়ে দিয়ে বদনাম দূর করেন না। আমরা যদি জঙ্গিবাদ বন্ধ করতে পারি, তাহলে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আসা বন্ধ করতে পারব না কেন? ইয়াবা ট্যাবলেট চোরাচালানের মূল রুট বান্দরবানের ঘুনধুম থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় পেট্রোল টিম দিতে ২০১০ সালেই পরামর্শ দিয়েছিলাম। এটি কার্যকর করলে টেকনাফের ওই বদনাম হতো না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘মুক্ত আলোচনা’য় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এমপিরা মাদক চোরাচালান বন্ধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু এলাকায় সমন্বয়ের অভাব আছে। সব বাহিনীর মধ্যে যাতে সমন্বয় থাকে, এ জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে সরকার। জনপ্রতিনিধি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যÑ যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সম্পৃক্ততা পেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় এমপিদের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক এ দেশে তৈরি হয় না, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসে। মাদক ও চোরাচালান রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এমপিরা পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত সংরক্ষিত রাখতে কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিজিবিকে আরও ১৫ হাজার জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে চেকপোস্ট বৃদ্ধি ও রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশও যাতে সীমান্তে নজর রাখে, এ জন্য এমপিরা প্রস্তাব দিয়েছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকেও যুগোপযোগী করার চেষ্টা চলছে। আগামী সংসদে নতুন খসড়া আইন উত্থাপন করা হবে। সীমান্তেও হত্যার সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। ২০০৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৮। এ বছর এসে তা ২১ জনে নেমে এসেছে। সুত্র: আমাদের সময়

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন