সেন্টমার্টিন ব্লু মেরিন রির্সোট থেকে স্বর্ণালংকার চুরি : ম্যানেজারসহ আটক ৩

 

সেন্টমার্টিন্সে ব্লু –মেরিন রিসোর্টের ম্যানেজার ও নাইট গার্ড কে গ্রাহকের র্স্বণালঙ্কার চুরির দায়ে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হচ্ছে চাদঁপুর জেলার মৃত রাশ বিহারীর ছেলে (হোটেল ম্যানেজার ) ইন্দ্রজিৎ, বাগের হাটের চালরান্দ্রা এলাকার মৃত আমজাদ মিয়ার ছেলে (নাইট গার্ড ) আনোয়ার মীর ও মাদারীপুরের চতুর পাড়ার মৃত জামসেদ আলীর ছেলে সেলিম সিকদার। গত শুক্রবার সকালে ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। পরে অবশ্য মালিক কতৃপক্ষের মধ্যস্ততায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সেন্টমার্টিন্সের মত পর্যটন দ্বীপে এ ধরনের হোটেল ম্যানেজমেন্টের লোকজনের চুরির বিষয়টি টক অব দ্যা দ্বীপে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ঢাকা নিউ মার্কেট এলাকার মিরপুর রোডের বাসিন্দা মো: ফজলে আনোয়ার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সেন্টমার্টিন্স ভ্রমনে আসেন। এ দম্পতি ব্লু মেরিন রিসোর্টেও নিচ তলার ১০৭ নং কক্ষে রাত্রী যাপন করেন। ব্যবহারের ১ জোড়া কানের দুল, ২ টি আংটি ও ১ টি র্স্বর্ণেও চেইনসহ মোট ২ ভরি ওজনের স্বর্ণ ও নগদ ৫ হাজার টাকা স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগে ঢুকিয়ে টেবিলে রেখে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৩ টার সময় রুমের জানালা দিয়ে ভ্যানিটি ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘুম ভেঙ্গে যায়। এ সময় রুমের আলোতে ম্যানেজার ও নাইট গার্ডকে পালিয়ে যেতে দেখে শোর চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে হোটেলের আরো গ্রাহক এসে ম্যানেজারের কক্ষে ও নাইট গার্ডকে তাদের স্থানে দেখতে পায়নি। এ বিষয়টি সেন্টমার্টিন্স ফাড়ীঁকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণে গিয়ে ম্যানেজারসহ ৩ জনকে আটক করে। আটককৃতরা চুরির কথা স্বীকার করায় তাদেরকে শুক্রবার বিকেলে টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে অবশ্য শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে হোটেল মালিক পক্ষের প্রতিনিধি সেন্টমার্টিন্স ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমানের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চুরির ঘটনায় হোটেলের ব্যবসায়ীক সুনামের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। সামনে থেকে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো: মাইন উদ্দিন খান জানান, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন্সের বহুল পরিচিত এ হোটেলের কর্মচারীদের যোগসাজসে গ্রাহকের মালামাল চুরির ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য দারুণ হুমকি স্বরূপ। তবে মালিক কতৃপক্ষ বিষটি আমলে নিয়ে সুরাহা করায় অভিযোগকারী সন্তুষ্ট হওয়ায় ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রসংগত ব্লু মেরিন রির্সোটটি প্রথম থেকেই দ্বীপের সরকারী খাস জমি দখল করে পরিবেশ অনুমতি না নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেন্টমার্টিন্সে সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে। শুধু তাই নয় উচ্চ আদালতের আদেশকে বাস্তবায়ন না করতে কৌশলে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে দিব্যি আরামে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসংগে হোটেল মালিক জাফর আহমদ পাটোয়ারী বলেন, তৎকালিন জেলা প্রশাসক থেকে অনুমতি নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সরকার বা পরিবেশ অধিদপ্তর সেন্টমার্টিন্সের জন্য এখনো নীতিমালা তৈরী করতে পারেনি। যখন নীতিমালা তৈরী হবে বা সরকারী নিদের্শনা অনুযায়ী যদি ভবন ভেঙ্গে ফেলতে হয় তা করবো। তিনি আরো বলেন, বেলা নামের একটি সংস্থা একতরফা ভাবে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার কথা বলে উচ্চ আদালতের একটি আদেশ নিয়ে হোটেল ও কটেজ ভেঙ্গে ফেলার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ হিসেবে এ বিষয়ে আবেদন করলে আদালত সেই আদেশ স্থগিত রাখেন বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহেদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, ইতিমধ্যে এ হোটেলটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ব্লু মেরিন রিসোর্ট যদি সকরকারী জমি দখল করে থাকে এ হোটেলটির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারী জমি ফিরে আনা হবে।

 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন